এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

ঈশিতা চক্রবর্তী



অনুগল্প




# শূন্যতা #

আজ অভিষেকের খুব মন খারাপ। আজ তার স্ত্রী ঐশী'র জন্মদিন সাথে মৃত্যু দিন'ও।সারাদিন প্রার্থনা আতিথেয়তার পর এখন খুব একা লাগছে অভিষেকের। আজ আর ঘুম আসবে না তার। কিছু স্মৃতি কিছু ছবি আজ তার রাত্রের সঙ্গী। ঠিক একবছর আগে রাত্রি 9:30 নাগাদ অভিষেক খবর পায় পুরনো রেলস্টেশনের ধারে দুর্ঘটনায় সে তার স্ত্রী কে হারিয়েছে। অন্যমনস্ক হয়ে পথ চলার সময় দুর্ঘটনা তার মৃত্যুর কারন। তখন মিটিংয়ে থাকার কারনে শেষবারের জন্য  দেখতেও পায়নি সে তার স্ত্রী'কে । ভাবতে ভাবতে চোখে জল এসে গেল অভিষেকের। চোখ মুছে পুরনো এলবাম নিয়ে বসল অভিষেক। পুরানো ছবি ঘাটতে ঘাটতে অভিষেক একটা চিঠি খুজে পেল।এক বছর আগে আজকের তারিখে ঐশী লিখে ছিল তাকে। অভিষেকের মনে পড়ল সেদিন সকালে অফিস যাওয়ার সময় ঐশী তাকে দিয়েছিল চিঠিটা। তারপর কখনো চিঠিটা পড়া হয়ে ওঠেনি। এক বুক আশা নিয়ে অভিষেক চিঠিটা খুব যত্ন করে পড়তে লাগলো। এটা তার ঐশীর লেখা শেষ চিঠি ।
চিঠিতে লেখা -

অভিষেক,
          কেমন আছো তুমি? কেমন চলছে তোমার গোছানো সংসার ? সম্পর্কে আমি তোমার স্ত্রী হলেও একই ঘরে তো আমরা চেনা জানা অপরিচিত দুটো মানুষ। তাই ভাবলাম পুরনো বন্ধু সেই অভিকে একটা চিঠি লিখে ফেলি। সামনে তো কখনো কথা বলার সময় হয়না এই বন্ধু বনাম স্বামীর সাথে। জানিনা চিঠিটা আমার লেখা বলে খুলে পড়বে নাকি পরে দেখবে বলে অবহেলায় আবার সরিয়ে রাখবে যেমন প্রতিদিন আমার অভিমানকে সরিয়ে রাখো । তবু ও এক বিন্দু আশা নিয়ে শুরু করলাম । জানো অভি তোমাকে খুব মিস আমি রোজ। তুমি থাকো হয়তো সকাল সন্ধ্যে কিন্তু তোমাকে ঠিক পাই না যেমন করে আমার বন্ধু অভিকে পেতাম। আমার বন্ধু অভিকে খুব মিস করি। তার সাথে, তার
দুষ্টুমি, কথা বলার ধরন, যখন তখন আবদার মিস করি। যখন প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলে, বলেছিলাম সম্পর্কটা বন্ধুত্বে থাকতে দাও। তুমি বলেছিলে, বন্ধু তো আমরা থাকবোই । সেই বন্ধুত্ব এখন কোথায় অভি?
জানি তুমি ব্যস্ত আছো। কাজের চাপ আছে । কিন্তু কাজের থাকে দু মিনিট সময় পাবার অধিকার'ও কি আমার নেই? তবে কেন সেদিন হাত ধরেছিলে, যখন জানতে সম্পর্কের কাঁচ আমার কাছে ঝাপসা হয়ে আছে আগেই। যখন জানতে একা চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তবে কেন সেদিন একা চলতে দাওনি বল ? তুমি জানতে স্বপ্ন দেখতে ভয় পেতাম তবে কেন দেখিয়েছিলে স্বপ্ন? আজ তোমার ঘরের সাজানো এক বস্তু মনে হয় নিজেকে।
তোমার নামের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ইস্ নাম, যে নামে তুমি আমায় ডাকতে, কোনো অতীতে যেন হারিয়ে গেছে।
তোমাকে বলতে পারিনা অভি কিন্তু তোমার ইস্ ভালো নেই আজ। তোমার ইস্ এর তোমাকে দরকার, বন্ধু অভিকে দরকার। এই শূন্যতা বড় কষ্ট দিচ্ছে আমায়। একটিবার আমায় জড়িয়ে নাও তোমার বুকে। আমি মুষলধারায় কাঁদতে চাই, রাগ দেখাতে চাই, বলতে চাই ভালোবাসি। এই শূন্যতা থেকে মুক্তি চাই আমি।
অনেক সাহস করে চিঠিটা লিখলাম আর আজ নির্লজ্জ হয়ে জন্মদিনের উপহার টা তোমাকে চাইতে চলেছি। আজ বিকালে তোমার ইস্ পুরোনো রেলস্টেশনের ধারে তার বন্ধু অভির জন্য অপেক্ষা করবে। ইস্ কে তার অভি ফিরিয়ে দাও।
তোমার ইস্ আজ মুক্তি না নিয়ে ফিরবে না। তুমি আসবে তো আমায় নিতে। কথা দাও আজকের অপেক্ষা আমার শেষ অপেক্ষা হবে।
                                                               ইতি
                                                        তোমার ঐশী

চিঠিটা পড়ার পর অভিষেক কান্নায় ভেঙে পড়ল এক পৃথিবী শূন্যতা নিয়ে। যে শূন্যতা সে চাইলেই ভালোবাসায় পূর্ণ করতে পারত তা আজ অতীতের রেখা টেনে তার বর্তমানে ভরে দিয়ে গেল সীমাহীন শূন্যতা।।

ঈশিতা চক্রবর্তী

দীপক আঢ্য



কবিতা (সাধারণ কবিতা)



নারী ও শীতলতম কবিতা

শীতলতম কবিতার কথা ভাবতে ভাবতে
তাকিয়ে দেখি নিজেই কখন মাছ হয়ে গেছি
গভীর জলে, একাকী, অতিক্ষুদ্রকায়।

ক্রমশ আমার শরীর বাড়তে লাগল
বাড়তে লাগল পাখনা পুচ্ছ চোখ
আমার সাথেই বাড়ছে জলের গভীরে লুকিয়ে থাকা শ্যাওলাও
আমার গোলাকৃতি চোখদুটো আরও সুডৌল কিঞ্চিৎ অতিকায়
হঠাৎই দেখলাম শতশত ফণা
আমার চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙবেরেঙর
আরও অনেক অনেক মাছেরা
তারা আমাকে দ্যাখে, ঘাড় ঘোরায়।

ফিসফিস কথারা বুদবুদ হয়ে ওঠে
কৌতূহল - কৌতূহল -কৌতূহল
একদিন সত্যিই আমিও রঙিন হতে চাইলাম
গায়ে গা ঘেঁসলাম, পাখনায় পাখনা, পুচ্ছর সাথে পুচ্ছ
আস্তে আস্তে দেখলাম আমার শরীরের আঁশটে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে জল থেকে জলে
শীতলতম কবিতার পাণ্ডুলিপির প্রত্যেকটি শব্দ
হয়ে উঠেছে মকরের হিংস্র দাঁত
আর আমি সম্পূর্ণা এক নারী

আমি সম্পূর্ণা এক নারী, অথচ
প্রত্যেক মুহূর্তে পালিয়ে বেড়াচ্ছি দূরে -- নিজের থেকে আরও তফাতে
কেবল নিজেকেই খোঁজার জন্যে।




অটোওয়ালার কড়চা

অটোওয়ালা জানে এই তার রুট
আহ্নিকগতি বার্ষিকগতি --স্কুলের ভূগোলখাতা
দড়কচা মেরে পড়ে আছে হারানো স্কুলে
ট্রাফিকসিগন্যাল ছেড়ে দিলে
বউ এর মুখঝামটা আর মেয়ের বায়না
সাইলেন্সার পাইপের ধোঁয়া হয়ে বেরোয়
চোখ জ্বলে। থুতু দিয়ে তবুও গুনতে হয় ফি-দিন ভাড়ার টাকা
মালিকের খর হাসিতে সবসময় ভ্রুকুটি
এফএম থেকে সুরেলা কন্ঠে ভেসে আসে
গাঙ্গেয় উপত্যকায় গভীর নিন্মচাপের সতর্ক বার্তা!


দীপক আঢ্য
গ্রাম +পোঃ -- ধলতিথা
থানা -- বসিরহাট
জেলা - উঃ ২৪ পরগনা
সূচক - ৭৪৩৪১২
চলভাষ - ৯৪৩৪৫৬২৬৩৪

ইন্দিরা ব্যানার্জী



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



আজ-কাল
(গোলকুন্ডা ফোর্ট এর উদ্দেশ্যে)

খিলানের পর খিলান, স্তম্ভের সমান্তরালে স্তম্ভ, দেওয়ালে ডায়মন্ড কাটিংএ শব্দ প্রতিফলনের টেকনিক, ঝুল বারন্দা, নাচমহল, বেগম মহল, প্রসাধন কক্ষ, শস্য ভান্ডার, তিনশো ষাট টা সিঁড়ি পেরিয়ে দেওয়ানী আম-দেওয়ানী খাস।

চারমিনার স্টাইলের পরিত্যক্ত মসজিদ, সিঁদুর রাঙা ভাঙা পাথর জগদম্বার আলয়, স্বল্প নোংরা জমা জল নাকী ছিলো  বৃষ্টি জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, রামদাসকে বারো বছর কয়েদ রাখা জেল যেন রাম-সীতা-হনুমান মন্দির...
ভাঙা-চোরা টুকরো পাথর অতীতের জীবন্ত দলিল হয়ে মূর্তমান।

আজ যা নাগরিক কোলাহল পূর্ণ অতি ঘন বসতির দ্বৈত নগর তা কখনও জনশূন্য জঙ্গল ছিলো আর আজ যা পরিত্যক্ত ভাঙা ইমারত ঐতিহাসিক স্মৃতি সম্বলিত হেরিটেজ তা কখনও অত্যাধুনিক সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিলো...

সময়ের সাথে সাথে ভবিষ্যৎ বর্তমানে আর বর্তমান অতীতে, আর অতীতের প্রতি পাতা গড়ে ইতিহাস....




দোলাচল

সন্দেহ আর বিশ্বাসের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে, দোলাচলে,
কোন দিকে পা দেবে বা দেবে না...

মস্তিষ্ক না মন,
কার হাতে সমর্পণ করবে নিজেকে???

মাথা দায়বদ্ধ অধিকার-কর্তব্যে, নীতি-নিষ্ঠায় যেন চুল বিকিয়ে;
আর মন, সে বাঁধনহারা পাগলপারা, কোন জোর খাটে না, কোন নিয়ম মানে না...

মাথার  বিচারে, নিজেই রুদ্ধ হবে আলো-বাতাসহীন কংস-কারাগারে অপরাধীর মতন...

যদি মন আর শরীর একাকারে পা ফেলতে পারো খোলা আকাশের তলে, দেখবে এক আঁজলা রোদ্দুর অপেক্ষায় সাদরে বরণ করতে তোমায়...


আত্রেয়ী নন্দ



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



প্রেম

গ্রাম্য সারল‍্যে ধোঁয়াশার পদার্পণ
নির্মল আকাশে পাহারাদার শকুন।

লাল রাস্তার আশকারাতে
কল্পনার রাজ্যে স্বপ্নপুরী;
শিকড় ছড়িয়েছে গভীরে,
অগত্যা______________

কোন এক ভোরে সূর্য দেখেছে
ডাল বেয়ে ঝুলে আছে
এক জোড়া প্রেম!!




অনুগল্প



নষ্ট

এক পাঁচতারা হোটেলের রুমে বসে অংশু ভাবছে সে যা করতে যাচ্ছে তা ঠিক কি।বিবেক ও মনের ভীষণ দ্বন্দ তাঁর মনে।এই প্রথমবার আগে কখনও এরকম করেনি ও।একমাস ধরে অফিসের কোনোকাজই ঠিকমতো না করার জন্য বসের কাছে ও খুব মুখ ঝামটা খেয়ে প্রায় ডিপ্রেশনে চলে যাওয়া অংশু কে ডিপ্রেশনের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই উপায় বাতলেছে অফিসের এক কলিগ কাম বন্ধু।তারাই সব ব্যবস্থা করেছে।প্রথমে রাজী না হলেও পরে রাজী হয়েছে অংশু।মন এখনও পুরো সায় দিচ্ছে না।

                মন আর বিবেকের দোলাচলে হোটেলের বিছানায় বসে যখন সাতপাঁচ ভাবছে অংশু তখন হঠাৎ দরজায় নকের শব্দে সম্বিত ফিরে সে।দরজা খুলবে কি খুলবে না ভাবতে ভাবতে গিয়ে খুলেই অতিথিকে না দেখেই ফিরে এল বিছানার কাছে।

               "কি স্যার আপনি তো মেয়ের মতো লজ্জা পাচ্ছেন! একটু তাড়াতাড়ি কাজ সারুন পেমেন্ট করুন তবেই তো আমার ছুটি।আরো কয়েকটা জায়গায় যেতে হবে" গলাটা কানে প্রবেশ করা মাত্রে সটান ফিরলো অংশু ,আর তারপর দুজোড়া চোখ একজোড়া আরেক জোড়ার দিকে লজ্জায় নাকি ঘৃণায় স্থির হয়ে রইল তা ওই দুজোড়া চোখই জানে।
                 এই লজ্জা, ঘৃণা ,ভেদ করে অংশুর মুখ ফুটে অস্পষ্ট স্বরে বেরিয়ে এলো "অরুণিমা"! তার চোখ জোড়া পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিল অরুনিমাকে- শাড়ি নাকি কোনো জাল জড়ানো অঙ্গে!
স্লিপলেস ব্লাউজ,ব্রাইড মেকাপ,নাভী ও অলংকৃত।
এ কোন অরুণিমা? একে তো সে চেনে না    "তুমি!!! এ কি বেশ তোমার"!একসময় সে যাকে ভালোবাসতো সে তো সহজ ,সরল একটি লাজুক মেয়ে ছিল যাকে একটু  কাছে পাওয়ার জন্য কত সাধ্য সাধনা করতে হত ,আর আজ সেই কিনা পসরা সাজিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।মায়ের অপছন্দের কারণে ফিরিয়ে দিয়েছিল তাকে একদিন  ভাবে নি কোনোদিন এভাবে দেখবে ।
   
"তুমি! এ কি বেশ তোমার !! কেনো অরুণিমা? কেনো তোমার এই অধঃপতন? কেনো এই ভাবে নিজেকে নষ্ট করেছ? কেনো?"

              " নষ্ট ! হা হা হা
আচ্ছা  নষ্টের কোনো ডেফিনেশন হয়? যে ছেলেটা দীর্ঘ প্রেমের পর প্রেমিকাকে ছেড়ে চলে যায় তাকে কি নষ্ট বলা যায়?
যে স্বামীটা তার বন্ধুদের সাথে ভাগ করে স্ত্রী কে ভোগ করে,প্রমোশনের জন্য বসের বিছানায় পাঠায় তাকে বলা যায়  নষ্ট? শুনেছি আপনিও নাকি বিবাহিত ? নষ্ট হা হা হা ""।

                 "আপনার টাইম শেষ স্যার,একজন কাস্টমারে তো নষ্ট জীবনের প্রয়োজন মিটে না"_ এই বলে অরুণিমা চলে যায় দ্রুত পায় ,তার জুতোর খট খট শব্দ ছাপিয়ে গোটা ঘরে প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো--" নষ্ট হা হা হা হা, নষ্ট হা হা হা "।


আত্রেয়ী নন্দ
গ্রাম- রানা
পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিমবঙ্গ

পাঁচের পেনে পঞ্চবেদ




প্রকাশকাল : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
প্রকাশক : তরঙ্গ পাবলিশার্স
উৎসর্গ : পোস্টমডার্ন কবিদের

সংকলক ও ভূমিকা : জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি
কলমে : তুলি রায়, শাল‍্যদানী, রাজ, আরিয়ান প্রিয়স, শৈবাল পাল।
উপসংহার : আর্যতীর্থ

■ ই-বুক'টি পড়তে ও ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন নীচের লিঙ্কে : 



🙏🙏🙏
ধন্যবাদ

মোনামী মন্ডল



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



প্রেম ও অপ্রেমিক

অপ্রেমিক!
যদি বলি ভালোবাসতে_
তুমি কীভাবে ভালোবাসবে?
রুক্ষ, শুষ্ক, প্রাণহীন অথচ কামরসে ডোবানো,
কামড়া_কামড়ি ভালোবাসা?
ছোঁয়াছুঁয়ির স্তর পেরিয়ে_
দাঁত, নখ, জীভ দিয়ে বিষিয়ে দেওয়া ভালোবাসা,
কাঁটা ঘায়ে মাছির মত ভনভন করে শুষে নেবে যৌবন!
তারপর ক্ষতগুলো বাড়বে, আরও গভীর হবে_
দগদগে ঘায়ের ওপর লেগে থাকবে তোমার বিষাক্ত লালা।
আমি তোমার ভালোবাসায় ছটফট করে উঠব,
তারপর একদিন সব অনুভূতি বিক্রি করে হব তোমার অপ্রেমিকা!

আমিও সেদিন তোমার মতই কামড়ে আঁচড়ে তোমাকে সুখ দেব।
সমস্ত শরীর থেকে অন্তর্বাস খুলে তোমার শরীর ভ্রমণে বেরোবো।
সুতোহীন শরীর তোমার হাতে সঁপে,
তোমারও সমস্ত যৌনরস প্রান করব।
ক্লান্ত তোমার শরীর টেনে নিয়ে যাব বিছানায়,
আঁচড়ে_আঁচড়ে কাব্য লিখব তোমার সারা গায়ে।
পাহাড়, উপত্যকা, মালভূমি ভেঙে গুঁড়িয়ে তোমাকে সমতল করব।
অন্তহীন যোনগন্ধি কাব্য লিখব তোমার গায়ে ।
তারপর আস্তে আস্তে ছটফট করতে করতে শান্ত হবে তুমি।
আমার উন্মুক্ত স্তন মুখে নিয়ে ছোট্ট শিশুর মত ঘুমিয়ে পড়বে তুমি।
আমিও আবার তখন প্রেমিকা হব!
তোমার সব ক্লান্তি মেখে নেব আমার সারা গায়ে ।
ঘুমন্ত তোমার চুলে বিলি কাটতে কাটতে লিখে চলব_
এক নিষ্পাপ প্রেমের কাব্য। 




যেদিন তুমি প্রেমিক হলে

মনে করো,
তুমিও একদিন প্রেমিক হলে,
অপ্রেম, অব্যক্ত যন্ত্রণা সবকিছু ছুড়ে ফেলে_ সমস্ত অনুভূতি দিয়ে আমায় আগলে রাখলে। ধীরে ধীরে তোমার শুকনো, রুক্ষ খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলে নতুন এক তুমি। তারপর, চোখে চোখ রেখে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলে_ শরীরে শরীর ছোঁয়ালে।

আঁচড়, কামড়ের সমস্ত দাগগুলো, অপ্রেম ভরা দগদগে ক্ষতগুলো
তুমি যত্ন নিয়ে ভরিয়ে দিলে।
এক বুক ভালোবাসা মাখানো আদর দিলে,
লকলকে জিভের লালা, টকটকে কামরস পেরিয়ে_
গভীর ভাবে আমার শরীর ছুঁলে।
দাঁত, নখ, জীভ সরিয়ে ঠোঁট ছোঁয়ালে_
গোলাপের পাঁপড়ির মত নরম শরীরে সেদিন,
দগদগে ঘা সেরে নরম মোমের প্রলেপ লাগল।
ছোঁয়াছুয়ির স্তর পেরানো প্রেমের বন্ধ ঘর জুড়ে_
সেদিন ছড়িয়ে পড়ল সোঁদা গন্ধ।
অপ্রেম ভরা ডাইরির পাতাগুলোও সেদিন_
লিখে চলল, একটা একটা আস্ত প্রেমের কবিতা।
আবার, অপ্রেম ভরা বাজার থেকে চড়া দামে_
অনুভূতি কিনে_
সেদিন তুমি প্রেমিক হলে !


মোনামী মন্ডল
ইংরেজী সাহিত্যের স্নাতক স্তরে পাঠরতা, সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা থেকেই লেখা।

-: 'এখন তরঙ্গে' লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী :-




■ লেখা পাঠান প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে

■ লেখার সাথে নিজের ছবি ও পরিচিতি পাঠাতে পারেন।
(বাধ্যতামূলক নয়, আপনার ইচ্ছাধীন)

■ স্কুলপড়ুয়াদের ক্ষেত্রে বিদ‍্যালয় ও শ্রেণির উল্লেখ বাধ‍্যতামূলক।


■ লেখা পাঠান নিম্নলিখিত বিভাগ সমূহে :

  • কবিতা : সাধারণ বিভাগ, কবিতার ল‍্যাব, ছন্দ কবিতা, গদ‍্যকবিতা
  • ছড়া : ছড়া, ছড়াক্কা, হাইকু, লিমেরিক, শামেরিক ইত্যাদি
  • গদ‍্য : গল্প (বড়ো, ছোট, অণু), প্রবন্ধ, নিবন্ধ, মুক্তগদ‍্য, উপন‍্যাস, নাটক, ভ্রমণ, পত্রিকা-সিনেমা আলোচনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা মূলক গদ‍্য ইত্যাদি।


◆ নিয়মাবলী :
  • কবিতা ও ছড়া বিভাগে লেখা পাঠালে কমপক্ষে দুটি লেখা পাঠাবেন।
  • একজন একাধিক বিভাগে লেখা পাঠাতে পারেন।
  • লেখার ছবি তুলে বা pdf file পাঠাবেন না। মেল বডিতে টাইপ/কপি-পেস্ট করে পাঠাবেন। (বড়ো লেখার ক্ষেত্রে ডক্ ফাইল পাঠাতে পারেন)
  • আপনার পাঠানো লেখার সাথে সাপোর্টিভ ছবির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে, লেখার সাথে প্রয়োজনীয় ছবি’ও পাঠান। (ভ্রমণ, সিনেমা-পত্রিকা আলোচনায় সাপোর্টিভ ছবি পাঠানো বাধ্যতামূলক)


আর্যতীর্থ



ছন্দ-কবিতা




।চোখ।

মুখ নয়, কথা বোলো চোখে চোখ রেখে,
মুখ আর জিভ শুধু লুকোতেই শেখে।
ভঙ্গীরা ঢেকে যায় নানান মুখোশে ,
গুমকরা চুপকথা চোখ শুধু দেখে।

হাতের স্পর্শ নয়, চোখ দেখো শুধু,
চোখ থেকে লালা ঝরে, চোখ থেকে মধু।
চোখ ঠিক বলে দেয় কতখানি কান্নায়
অনুপাতে মিশে থাকে কত বালি ধু ধু।

চোখ পড়ে নিতে শেখো বাঁচার তাগিদে
জিভেরা অধুনা নয় তত সাদাসিধে
বাড়ানো গোলাপ ফুঁড়ে চোখ বলে দেবে
কোন প্রেমে লকলকে জান্তব খিদে।

চোখ ভেজে চোখ জ্বলে চোখ হাসে রোজ
বস্তুত ভাবনারা চোখের যমজ।
ঠোঁটেরা যখন বলে মধুমাখা কথা,
চোখ ঠিক দিয়ে দেবে ছুরিটার খোঁজ।

কালো চশমায় যদি কোনো চোখ ঢাকে
জেনো সে নিজের কথা বলে না তোমাকে
তোমারও কি দায় আছে যেচে আলাপের
পড়তে দিওনা তাকে তোমার ভাষাকে।

মুখের কথার থেকে মনকে বাঁচিয়ে
বন্ধু শত্রু চিনে নিও চোখ দিয়ে।




।নাক।

শুঁকছি হাওয়া , শুঁকছি হাওয়া, তোমার গন্ধ যাচ্ছে পাওয়া,
আবিষ্ট হই, নিবিষ্ট হই, তোমার নেশায় আকাশ ছাওয়া,
তোমার সুবাস মানেই জানি বসন্তকাল ধরতে পাওয়া।

দিন কেটে যায় বারুদ শুঁকে, সন্দেহরা সকাল সন্ধে গন্ধ ছড়ায়
রক্তে কাদের ভিজছে মাটি, কারা যেন ভালো থাকার আশা পোড়ায়,
আতরমাখা রুমাল চাপি, ব্যর্থতাদের বিষাদ তবু উপচে পড়ে দোরের গোড়ায়।

বাতাস শুঁকছে গুপ্তচরও, কোথায় কোথায় গন্ধ জড়ো রাজদ্রোহের,
কোথায় লোকে ফেলছে বুঝে, ধুপ জ্বলেছে দুর্গন্ধ ঢাকতে যতেক ধর্মমোহের,
কোথায় কোথায় ভোটের প্রতি অভক্তিতে, সুগন্ধীতে হয় না পুজো সে বিগ্রহের।

এমনতর দ্রোহকালে, আজ সকালে এই কপালে তোমার সুবাস,
আহা ক'যুগ পরে, এ বুক ভরে, স্বপ্ন নিলো প্রাণপণে শ্বাস,
বসন্তদিন আসন্ন তাই তোমার কথাই বলছে বাতাস।



।ত্বক।

কতটা পৃথুল হলে ত্বক, বীতশোক হয়ে সব সহ্য করা যাবে,
সে ব্যাপারে সরকারী আদমসুমারি করা হোক ।
তাহলেই চুকে যাবে ল্যাঠা, মুচড়ে উঠবেনা কলজেটা,
প্রতি শিশুধর্ষণ শুনে। পাশ ফিরে ঘুম দেওয়া যাবে ধর্মের নামে হওয়া খুনে।
ইদানিং ভালো থাকে তারা, যারা সব সয়ে নিতে পারে।শাসকের তালে তাল দেয়, পুতুলের মতো মাথা নাড়ে।
ঘরের দরজাগুলো এঁটে, সমকাল রাখছে পকেটে, কালো আস্তরণে মুড়ে লকারের এককোণে রেখে দেয় যুক্তিবিচার,
আখের গোছাতে গিয়ে মানুষেরা হয়ে পড়ে ক্রমে গণ্ডার।
বেড়ে যায় সহ্যসীমানা, পুরু চামে দ্রোহিতা অজানা,
তার কাছে জোলো লাগে গোরক্ষা খুন কিংবা কোথায় চাষী
মরে ফলিডলে,
কটা গ্র্যান্ডস্ল্যাম শেষে ফেডেরার জিতে নেবে তাই নিয়ে আলোচনা চলে।
যাবতীয় জীবনের দাবী, রোজকার সাজানো রেকাবি, ভরে থাকে নিজস্ব যাপন,
বেডরুম পার করে বারান্দার গ্রিল ,সেটুকুর পরেই পাঁচিল,
ভাবনারও কাজ সমাপন।
আজকাল চলছে এটাই, ভালোভাবে বেঁচে যেতে চাই ত্বকের চর্বি হওয়া মোটা,
ভুল হাওয়া যদি পড়ে ঢুকে, পোড়ো না হে দ্রোহের অসুখে,
বুঝোনা মোটেই গল্পটা।



। জিভ।

জিভে লোভ, জিভে লালা, জিভে লেগে কথা,
জিভ নিয়ে চারদিকে মহা জটিলতা।
বিষ আর অমৃত জিভে লেগে থাকে
ধর্ম জিরাফে জিভ দুটোতেই থাকে।

জিভেরা সলতে হয় জ্বালাতে আগুন
প্রখর গ্রীষ্মে পারে আনাতে ফাগুন
দ্রোহকালে জিভ হয় ঋজু প্রতিবাদী
জিভ দোষারোপী হয় জিভ ফরিয়াদী।

চাটুকার জিভ পা লালাতে ভেজায়
বোকা সাজে কিছু জিভ ,ধূর্ত বেজায়
ষড় করে কিছু জিভ নিতে পারে প্রাণ
ফিসফিস কানে বিষ বানাতে শ্মশান।

কখনো ধ্বংস ডাকে জিভেদের লোভ
চেটেপুটে খেতে চায় যা আছে সব।
জিভই আবার দেয় সাম্যের ডাক
তোমার আমার দেশ দুজনেরই থাক।

কখনো জিভ বাঁচে আড়ষ্ট হয়ে,
কিছু সে সুবিধাবাদী, কিছু চুপ ভয়ে
শাসকের জিভ যদি নেয় মৌনতা
প্রশ্রয় ভাবে তাকে দলের জনতা

জিভে লোভ, জিভে লাভ, জিভে কত কথা
জিভে থাকে বিষবাণ, জিভে সরলতা।



। কান।

হে মহামহিমগণ , পেতে আছি কান
কত আগে যাবে দেশ আমাকে শোনান।
সাদা হওয়া কালো টাকা স্নেহের বাতাস পেয়ে ফড়ফড় ওড়ে,
সে ডানার সশব্দ আস্ফালন শুনে,
তালা লেগে যায় আজ সবিনয় ট্যাক্সদেওয়া কর্ণকুহরে।

আমাকে শোনান আজও কোন কোন স্থানে,
শাঁখের আওয়াজ এসে নিশ্চিন্তে মিশে যায় সাঁঝের আজানে,
গাভীর নিরীহস্বর কোথায় করেনা কোনো যুদ্ধঘোষণা,
প্রার্থনা যেইখানে ঘৃণাবিহরিত,
আমাকে শোনান সেই মন্দ্র উপাসনা।

হে মহামহিমগণ, চাইছি তো বলি দেশ বেহাগের সুরে রোজ বাজো
এ কানের চারপাশে বেসুরে কাঁদছে কারা আজও?
সাঁই সাঁই শব্দতে আগামীর ট্রেন চায় রেসিং কারের বেগ ছুঁতে
ফাঁসি দেওয়া চাষীদেহ ঘিরে কাঁদে পরিবার ,
যতদিন বয়ে যায়, সমবেত হাহাকার রোল ওঠে আরও উঁচুতে।

আমাকে শোনান আজ ভরপেট ভাতে দেশ তোলে উদগার,
শ্লোগানের শ্লাঘা নয়, কাজ শেষে আড্ডায় সশব্দে হেসে ওঠে পূর্ব বেকার।
সব হাতে কাজ হলে ধর্ম কেমন করে জোরে নাক ডাকে,
কান পেতে আছি প্রভু, সে মধুর ঘড়ঘড় শোনান আমাকে।

হে মহামহিমগণ, এমন শব্দ যদি শুনতে না পাই,
অনুমতি দিন তবে, দুই কানে তুলো গুঁজে নির্বাসনে যাই।



। শ্রোতা।

সন্ধেটা ভালোই জমেছে, ঠুংঠাং টুংটাং পেয়ালা আওয়াজে,
সফেন বিয়ার ,অভিজাত হুইস্কি আর ভ্রাম্যমান কাবাবের প্লেট,
গুজগুজ ফুসফুস নানান টেবিলে, কিছু মাথা মুঠোফোনে হেঁট,
এর মাঝে, অনাহুত অতিথির মতো, মৃদুস্বরে বেহালাটা বাজে।

হলটার এককোণে, যেন প্রায় ভুলে গিয়ে, ফুটউঁচু মঞ্চ বানানো,
আঁধারে লেপ্টে বসে এক আসবাব হয়ে বেহালাবাদক ছড় টানে
এরকম পার্টিতে শচীন বা সলিলকে কেউ শুনবেনা সেটা জানে,
তবুও বাজাতে আসে ,কিছুটা নেশাই বটে, রয়েছে পেটের কিছু টানও।

দু একটা রবিগান বাজিয়েছে অভ্যাসে, জনতা গপ্পো করে খালি.
এইবার ধরলো সে ' অজীব দস্তাঁ ইয়ে' , বড় প্রিয় গান তার এটা,
চোখ বুজে ডুবে গিয়ে সুর তাল লয়ে দেয় পারলে নিংড়ে কলজেটা,
অন্তরা শেষ করে শেষ টান দিলো ছড়ে, তখনই, হঠাৎ...হাততালি!

কোণের টেবিলে বসা সদ্যপ্রবীণ এক, দৃষ্টি তখনও তার দিকে,
তালে তাল দিচ্ছেন আঙুলে, মাথা দোলে, মুগ্ধ দু চোখ,
মুছে যায় হলঘর, মুঠোফোনী দাসদাসী, যাবতীয় অরসিক লোক,
বেহালা বাজতে থাকে তন্নিষ্ঠ প্রেমিকের মতো, ভোলাতে একক শ্রোতাটিকে।


আর্যতীর্থ