এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

তমোহি ভট্টাচার্য্য


বিভাগ : চিত্র (চিত্রাঙ্কন)




*********


তমোহী ভট্টাচার্য

তৃতীয় শ্রেনী

Assembly of God Church (Asansol)


ঐন্দ্রিলা মোহিন্তা


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


*তরঙ্গায়িত ইশারা*

কৌণিক এলিফেন্টার রতিক্রিয়ায় নবম চাল এগিয়ে আসে । খসখসে পাতাঘট । আয়নাতারার জল ফুটিয়ে অরুচির নীলনদ : ছেঁকা খেতে থাকে । কালচারাল থ্রি ডি তে সঙ্গমরত উড়ুক্কু চাপ (আঁ) আঁকে !
       
                                        ঘুনওঠা সেলুলোজ থেকে প্রহরী জন্ম -- নিমডালে চোদ্দ ভাঙে । কাজলা কাশের বালিয়াড়ি : ওয়েবলেন্থের ক্যাটালিস্ট ।



* ‘র ' কে লেখা ,*
( _উঠতে গিয়ে হোঁচট খেলে_ )

নিমডালের ভোর ভুলে গিয়ে রুবিকে জিয়ন ঠেকাই । চৌকো চৌকো মন্দ পাতার পা খসা আর্তনাদ -- ঋণাত্মক মেঘের চাদর বুনেছিল । পথভেজা উল্টোনো বিসর্গ : অমরাছায়ায় জ্যান্ত কাঁটার খই ।

                             পেটকাটি মমির কুয়াশার সবকটা গেরুয়ায় পায়রা উঠেছিল । ধোঁয়ায় সরোদ বেয়ে নেমে আসে কুচকুচে বাতাস । সঙ্গমরত আকাশবাণী জানান দেয় : শেফালি -- র হাড় !
গুঁড়ো গুঁড়ো চাঁদমহলে টিপ জমতে থাকে.....

                       অমোঘ সেতুকে ভালোবেসে পান পান তিলোত্তমা তুমিটাকে ম চিনিয়েছিল । কমলালেবুর কাণ্ড বেয়ে প্রত্যাশার লীন ঝুলতে থাকে.....
   
       ফিকফিকে আকাশীর পিরিচে কচিটান : কার্নিশ  ফসিলের ওমধারা ।


ঐন্দ্রিলা মোহিন্তা


একুশে শ্রাবণকলিজার ঐন্দ্রিলা

সাহিত্যবৃত্তে শিকড়,

খুঁজে চলেছে ।

দিমাগি সফ্টওয়ারের যন্ত্রখিদে কবিতার 

চিরাচরিত ঘোর কাটাতে অক্ষম !

এভাবেই পথ চলা



বনলতা


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


বলে গেলাম

আমার জন্যে স্বপ্ন দেখিস
অর্হনিশ ,
তেমন কোনো বারন নেই
ছুঁয়ে থাকিস কল্পনাতে
অর্হনিশ ,
তেমন কোনো বারন নেই ।

সকাল বেলা চায়ের কাপে
আমার স্মৃতি মিশিয়ে নিস,
সন্ধ্যে হলে পুজোর ঘরে
সুগন্ধি ধূপ জ্বালিয়ে দিস ।

কবিতাতে সাজিয়ে রাখিস
আমার ছবি
সবাই যদি বলে তোকে
পাগল কবি
মেনে নিস ।

মরে গেলে শক্ত থাকিস
জুঁইয়ের মালায়
সাজিয়ে দিস ,

স্বপ্নে আমায় আদর করিস
অর্হনিশ ,
বুকে যেমন জড়িয়ে রাখিস
রাত্রিবেলা
তেমনি রাখিস ,
                  আদর নিস ।

বনলতা সূত্রধর

হাওড়া জেলার বাগনান নামক এক মফঃস্বরে জন্ম।  দাদু শ্রী নিতাই চক্রবর্ত্তী , ঠাম্মা । শেফালী চক্রবর্ত্তী , বাবা শ্রী অশোক চক্রবর্ত্তী , মা কাজল চক্রবর্ত্তী ।
গ্রামের বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু , সেখান থেকে উচ্চ বিদ্যালয় ও মহা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সংসারের কড়া খুন্তি জীবনে প্রবেশ । প্রথম সাহিত্য চর্চার প্রেরণা স্বামী শান্তনু সুত্রধরের কাছে ,
ভাবনার ভ্রূনেরা ধীরে ধীরে এসে বসে ছোট্ট কুঁড়ে ঘরের সদরে, চেতনার আকর্ষ শুধু খোঁজে নতুন আর নতুন ,.যা কিছু নিজের ছিলো তা আজ কস্তুরী প্রকৃতির খেয়ালে , এই গন্ধ মানুষের মনে হয়ে থাক চিরন্তনী , চেনা প্রথম বৃষ্টির গন্ধের মতো ।



রুমেলা দাস


বিভাগ : গল্প (ছোট গল্প)


"বাদামি বুনন"

সকালের কলকাতা আমার বরাবরের পছন্দের।ঝাঁট দেওয়া রাস্তার একধারে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কেটলি,কাগজ খোলা মেজাজি মুখ কিংবা যাপনের শুরুতেই মা-বাবার ব্যস্ততা এ সমস্তই আপন করে শহুরে ফ্রেমকে।বিবর্তনের কাঁটা ধরে অনেক কিছু পাল্টালেও,এমন অনেক কিছু আছে যা প্রবাসী পা-কেও স্বচ্ছন্দে টেনে আনতে পারে ট্রামলাইনের ধারে পুরোনো কলকাতায়।
লোকে বলে,এ শহর আজ নিজের পায়ে চাকা লাগিয়েছে।চাকরি,এগিয়ে যাওয়ার দৌড়,রেস এসবে হারিয়েছে নরম সোনালী সকাল। আদুরে ভালোবাসা।গোলা পায়রার দল নাকি আজকাল জোড়ে নয়,বিজোড়ে থাকতেই ভালোবাসে।স্পর্শ,চেতনা,অনুভূতিটুকু কেবল সিনেমা হলের আড়াই-তিন ঘন্টায় আটকে কিংবা কফিশপের আড্ডার ঘেরাটোপে।কি জানি,হয়তো তাই।
তবু একদিন একটা সকাল আমি দেখেছিলাম,যে সকালে লাইন জড়ানো ভালোবাসা পায়ে হেঁটে এসে পৌঁছতো ব্রেসব্রিজ স্টেশনের আটটা কুড়ির লোকাল ট্রেনে।আমি তাদের নাম জানতাম না।জানার বিশেষ কৌতূহলটুকুও বোধ করিনি তবে কলেজ যাওয়ার ভিড়-ভাট্টায় এটুকু মনে হতো ওদের জগৎটা যেন এক্কেবারে আলাদা।সবের মাঝে থেকেও ওরা যেন নিজেদেরই মধ্যে।খুব অবাক লাগতো আবার হাসিও পেতো মাঝে মাঝে।এমনও হয়!
গল্পের রূপ দিতে আমি তাই তাদের নাম দিয়েছি।মিস্টার এবং মিসেস চৌধুরী।ট্রেন আসার সাথে সাথে তড়িঘড়ি বাকিদের মতো একে অপরের হাত ধরে উঠে পড়তেন জেনেরাল কামরায়।কোনোদিন সীট পেতেন,কোনোদিন আবার পেতেন না।রোজকার অভ্যাসটা যেন রুটিনে দাঁড়িয়ে গেছিলো ওদের।একফালি জায়গাতেও মানিয়ে বসে পড়তেন দুজনে।চল্লিশোর্ধ মিস্টার চৌধুরী খবরের কাগজে মুখ গোঁজার সাথে সাথে,মিসেস চৌধুরীও তাঁর বুনন শুরু করে দিতেন।একটা বাদামি রঙা উল আর তার থেকে সমান কিছু অংশের অসমান আঁকাবাঁকা বুনন।মা-মাসীদের হাতে প্রায়শই এসব দেখেছি তবে ধারণা নিতান্ত কম থাকায় বুননটি কিসের বুঝে ওঠা দায়।শুধু দেখতাম বাদামি রঙা উল আস্তে আস্তে ছোট হয়ে যাচ্ছে আর বুনন ক্রমশঃ বড় হয়ে যাচ্ছে।সাথে সাথে মিস্টার এবং মিসেস-এর যাপনচিত্র আরো গভীর থেকে গভীর হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রেন-লাইনের গলিপথে।মিসেস চৌধুরীর হাসি,মাপ নেওয়ার যত্ন দেখে আশেপাশের লোক ব্যাঙ্গ করতো কখনো।কিন্তু নিয়মিত সাধারণ বুঝতোনা এটুকু অক্সিজেনই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে।নাহলে ধুলো,ধোঁয়ায় বিজ্ঞাপনেরও হাঁফ ধরে।দিন,সপ্তাহ,মাস কাটতে থাকে।মিসেসের বুনন ও প্রায় শেষের পথে.....
**************
(২ মাস পর)
এ দুমাসের একদিনও কলেজ যাওয়ার পথে চৌধুরী দম্পতিকে দেখতে পায়নি। পরীক্ষা আর যাবতীয় টেনশনে নিজেকে দেখার সময়টুকু পেতাম না।তবু অবান্তর,চোখা প্রশ্নগুলো নানান ভাবে,নানান ভাঁজে আমার আর আমার পড়ার টেবিলে ঘোরাফেরা করেছে।তবে কি মিস্টার চৌধুরী বদলি হয়েছেন? নাকি অন্য কোনো পথে যাতায়াত শুরু করেছেন তাঁরা।জানি প্রশ্নগুলো খুবই অমূলক।তবে মানুষ যতই প্রগতির দিকে এগোচ্ছে,অমূলক চিন্তা ভাবনা ততই তাকে ঘিরে ধরছে।এরপরই আসে সেই দিন,যা আমার জীবনে কেবল একটা দিন নয়,একটা অধ্যায় হয়ে রয়ে গেছে.....।
************
রোজের মতো আজও ছুটছে সবাই।আমিও এরই মাঝে রোজনামচায় এগিয়ে চলেছি আটটা-কুড়ির লোকালের দিকে।কিন্তু হটাৎ......হটাৎ স্টেশনের রতন কাকুর চায়ের দোকানে চোখ পরে আমার।মিস্টার চৌধুরী না?এতদিন পর!বুদ্বুদের মতো এক কৌতুহল আমাকে ধাওয়া করতে শুরু করে আর আমিও ছুটতে ছুটতে পা মেলাই ইঁদুর দৌড়ে।পাশ কাটিয়ে,হাত সরিয়ে জেনেরাল কামরার উঠে পড়ি সেই মানুষটির গা ঘেঁষে।কেমন যেন আনমনা।নিজেকে কিছুতে আর আটকে রাখতে পারিনি.....পাশে বসার অজুহাতে প্রশ্নটা করেই ফেললাম.....
"কেমন আছেন আপনি?অনেকদিন দেখিনি!আপনার স্ত্রী আসেননি? চিনতে পারছেন আমাকে?"- একনাগাড়ে কথাগুলো বলে দম নিলাম।না জানি কি ভুলচুখ করে ফেললাম।
"তুমি সেই ছেলেটা না!.....যে আমাদের বারবার দেখতে.....ও আমাকে বলেছিলো.... তুমি একদিন আমাকে এই প্রশ্নটাই করবে!"- উত্তরের সমস্তটা জুড়ে একরাশ সাদা।
অদ্ভুত একটা তিরতিরে ভয় শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যেতে লাগল।হাসির ভাঁজগুলো অমলিন হয়ে,মিস্টার চৌধুরীর মুখ জুড়ে এক বৃদ্ধের ছায়া ফেলেছে যেন।এ ক-মাসে চল্লিশোর্ধ একজনকে করেছে অশীতিপর।কিন্তু কি এমন ঘটেছে.....!
****************
ট্রেন চলতে শুরু করেছে।
তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে একের পর এক দোকান,ঘর-বাড়ি,রাস্তাঘাট,দোকানের ঝাঁপি আরো অনেক কিছু।পরবর্তী স্টেশনে নামার জন্য কিছু হুড়মুড়িয়ে এগিয়ে গেল গেটের দিকে,কেউবা অপেক্ষায় থাকলেন তার গন্তব্যের।মিসেস চৌধুরীরও হয়তো এমনি তাড়া ছিল।তাই কাঁটা ধরে ঘন্টা,মিনিট,সেকেন্ড মুহূর্তের চুলচেরা যাপন করে গেছেন নিভে যাওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত।কোষে কোষে ক্যান্সারের বিষ শুষে নিলেও প্রাণের সঞ্জীবনী তাকে কখনো উদ্যম হারাতে দেননি।
দাবি শুধু এটুকুই ছিল,তার প্রাণপ্রিয় মানুষটির পাশে থাকা ক্ষণ যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায় তার জীবন থেকে।আর তাইতো হাজার নিষেধ,হাজার বারণ সত্ত্বেও রোজ অফিস যাওয়ার সময়টুকু মিস্টার চৌধুরীর সাথে আসতেন,বসতেন,গল্প করতেন।আবার তিনি  নেমে যাওয়ার পর,পরবর্তী স্টেশনে নেমে ঘরে চলে যেতেন।
প্রতি মুহূর্তের এই ছোট্ট ছোট্ট বাঁচার মানে হয়তো আমি মিসেস চৌধুরীকে না দেখলে কখনো জানতে পারতাম না।ট্রাম,রাস্তা,ধুলো ধোঁয়া পথের মাঝে এমন এক গল্পকথা কেবল এ মহানগরীর বুকেই হতে পারে!
সমস্তটা শোনার সাহস আমার তখনও ছিলোনা।মুখ ঘুরিয়ে নিজের অনুভূতিটুকু লুকাতে গিয়ে সেই মানুষটার দিকে আরো একবার চোখ চলে গেছিলো,সেই চল্লিশোর্ধ মানুষ যার গলায় অর্ধ-বুননের বাদামি মাফলার জড়ানো,জড়ানো সেই পরম আদুরে আবদার।যা তাকে কোনোদিন ছেড়ে যায়নি,যাবেনা,যেতে চায়না।
লোকাল ট্রেনের ভিড় আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে।গন্তব্য এগিয়ে এলো আমারও........
(সমাপ্ত)
(একটি নিবেদন:
আমার এই গল্পটি 'বাদামি বুনন' হিন্দি ছোট গল্প 'মেহেরুনী' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা।)


বিভাগ : চিত্র (অঙ্কন)






*******
রুমেলা দাস।
রবীন্দ্রভারতী বিশ্ব-বিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী।নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে জার্নালিজম এ ডিপ্লোমা স্নাতকোত্তর।বেসরকারি কিছু নিউজ চ্যানেলে সংবাদপাঠক হিসাবে কাজ।
বর্তমানে কলকাতার বাইরে।সাহিত্যের সাথে যুক্ত।
কলকাতা 24*7ওয়েব ম্যাগাজিন,বাঁকুড়া থেকে প্রকাশিত ওয়েব অন্তর্বর্তী শুন্যতা, ফেরারি ওয়েব,এখন তরঙ্গ,অর্বাচীন পত্রিকা সহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কবিতা,গল্প প্রকাশিত।প্রচ্ছদ অঙ্কন অর্বাচীন পত্রিকা ও বারণিক প্রকাশনার বিভিন্ন সংকলনে।
সদ্য আগত বর্ধমান লিটিল ম্যাগাজিনে প্রকাশিতব্য প্রেমের গল্প সংকলনে গল্পের স্থান।
আরো কিছু গল্প,কবিতা,প্রবন্ধ,প্রচ্ছদ প্রকাশের অপেক্ষায়।
অনুপ্রেরণা-একমাত্র কবিগুরু।





কুমারেশ তেওয়ারী


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


কলামন্দিরে

কলামন্দিরের চৌকাঠ ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকলেই দেখবে গায়ের থেকে খুলে পড়া ফাজিলনামা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে রাস্তায়। খুব ভারি এক অভিকর্ষিয় বল এসে বসছে তোমার চোখের পাতায়। চাইছে গড়ে উঠুক একটা সেতু। তোমার মূর্তের সঙ্গে ছবি ও ভাস্কর্যের বিমূর্তের।

হয়তো কোনো ন্যুড ছবির কাছে দাঁড়াতেই দেখলে কুহু ডেকে উঠল দেহজ কোকিল। অথচ তখন কোনো পর্ণমোচী থেকে পাতা ঝরাচ্ছে পতঝর। বুঝে নিয়ো এও এক হিপনোটিজম। “হবা‘’-র অন্তর্লীণ খেলা। চাইছে যে কোনো আদম এসে রেখে যাক বিনিময়।

আবার হয়তো দেখলে একটা অন্ধকার টানেলের দিকে মুখ, দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তেলরঙা মানুষ। যদি হঠাৎ পেয়ে যাও এক দিব্যদৃষ্টি মুহূর্তের, দেখবে অন্ধকার নয় একশ সূর্য জ্বলে আছে টানেলের গর্ভিণী পেটে।

হয়তো দৃষ্টি আটকে গেল এক গাছের ভাস্কর্যে। দেখলে গাছে ডালে ডালে কত ফল। কিছু ফল পড়ে আছে নিচে। মর্টিফিকেশনে যেতে।

নীচু হয়ে খুব ক্লোজ সটে নিয়ে গেলে লেন্স দেখবে গাছের প্রতিটি ফলে জড়িয়েমড়িয়ে আছে এক-একটি কক্ষপথ। প্রতিটি ফলে লেগে আছে পূর্ব-পশ্চিম।


কুমারেশ তেওয়ারী

জন্ম আসানসোলের কন্যাপুরে সত্তর দশকের মঝামাঝি।পড়াশোনা করেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।বর্তমানে নিজস্ব টিউটোরিয়ালে শিক্ষকের ভূমিকায়।কবিতা চর্চার শুরু ছাত্রাবস্থা থেকেই। তবে সেই অর্থে সিরিয়াস লেখালেখির বয়স ৮-৯ বছর।প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৫ টি—নেমে আসা  অন্ধকারে/ জুড়ন পুকুর (প্রিয়শিল্প প্রকাশন, কলকাতা)/ নক্ষত্রের গান (কবিতাসীমান্ত, কলকাতা )/ ব্যালেরিনা ও নকশি কাঁথায় নষ্ট গন্ধ, প্রতিভাস, কলকাতা)/ মিরর এফেক্ট (কবিতাপাক্ষিক, কলকাতা)।মূলত কবিতায় লেখেন এবং বাণিজ্যিক ও অবাণিজ্যিক বহু পত্রপত্রিকায় লিখে চলেছেন।   লেখালেখির পাশাপাশি “কায়াকবিতা” নামে একটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন এবং “কবিতা আশ্রম” পত্রিকার সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য।





বিজয়


বিষয় : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


যোজন বিস্তৃত যুগে নীরবতা আছে


এখন আমি কোলাহলের যৌগিক রাজপ্রাসাদে ।
ন্যাড়া রাত্রির চিত্কারে চিত্ ঘুম আসে না
দিবসের মেরুদন্ডে কোলাহল ঝুলে থাকে ।
সে তো থাকেই পৃথিবীর জন্মের গরম পিণ্ডের কোলাহলে ...
আমি ক্রমশ তরল হয়ে আসি
গলে যাবার আগেই আমাকে ফিসফিস করে নীরবতা কে ডেকে নিতে হবে ।
নীরবতার সরু প্রেমের সুপ নিতে হবে ।
কিন্তু যোজন বিস্তৃত যুগে নীরবতা আছে ।


সাহিত্য খুঁজতে যাবো

জ্যোত্স্নার আবাসনে আজ বাড়ি করলাম
জ্যান্ত আসবাব পত্র আসেনি কিরণ থেকে
সূর্যের সারথি তে এই এলো বলে ....
ঈশ্বর তোমার অরণ্যের ল্যাম্ব পোস্টের
নীচে বাগান খুলে দা ও ...
সেখানে আমার উজ্জ্বল ক্ষুদার
সাহিত্য খুঁজতে যাবো  

সাহিত্য গাছের যোনি থেকে দীর্ঘশ্বাস
নিয়ে ডাল বেরিয়ে আসে -------
আর শিকড় মহার্ঘ্য তীক্ষ্ণ ক্ষুধা নিয়ে
নীচডুব দেয় .....


বিজয়
পশ্চিম মেদিনীপুর 
9547780358



মৌসুমী ভৌমিক


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


মনের অলিন্দে

মনের অলিন্দে আধপোড়া দুখ
                সুখটানেতে দিল মশগুল
মাতাল মাতাল স্বপ্নচোরা -
                    দৃষ্টিগোচর সবই ভুল।

বোঝা বোঝা ভুলকথা
                     খাতা ভরা গদ্য
মুখোশ নিয়ে হাঁটা শুধু
                     হিসেব চায় পদ্য।

ভাবনারা হাঁটে রঙমিছিলে
                    ভুলে গেছে ছন্দ
বাউল শুধু হারায় পথ
                বাতাসে বারুদ গন্ধ।

উগ্রবাদের নিশানা তাক
            ফুৎকারে নেভে জীবন ।
বাৎসল্য চাষ কল্পনায়
           আধুনিকতায় পোড়ে মন।


প্রেম

সভ্যতার ক্যানভাসে
       প্রেম হয়েছিল।
গান্ধর্ব বিবাহ।
ভেসেছিল দুজনে
               দুজনের বাহুডোরে।

বৈধ - অবৈধ শব্দের খেলাঘরে
           প্রবেশের কথা কেউ ভাবেনি।
           ভুলেছিল বারেবারে।
বাস্তবে ফিরেছিল যেদিন
           জেনেছিল তখন
           'সোনার আংটি বাঁকা হলেও ক্ষতি নেই' ।

সভ্যতার ক্যানভাসে
                তাই শুধু মেয়েটির নরকযন্ত্রণা
মুখোশধারী নির্লজ্জ
          আপন মানুষগুলোও
                    যেন অন্য জগতের প্রাণী।

বাস্তবটা অন্য জগত
      বোধগম্য হল এতদিনে।
দীর্ঘশ্বাস প্রেমের বাতায়নে
       ফিরে যাও.......

   শুধু মুক্তি  চাই
       মুক্তি.......
  অনন্ত মুক্তি ............



বিভাগ : কবিতা পাঠ



এক মাংসপিণ্ডের মানুষ
মৌসুমী ভৌমিক 
************************

প্রচণ্ড ঘৃণায় নিজের থেকেও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল মেয়েটি -একদিন যে ছিল নীরা, বনলতা আরও কত আদরের নামের প্রেয়সী -
তাকেই কিনা শেফালি, গোলাপী বানানোর প্রচেষ্টার কি ঘৃণ্য তাড়না !
স্নানঘরে শাওয়ারের নীচে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে নিজের শরীরটাকে ধুয়ে ফেলতে চাইল সে।
ঘষে ঘষে শরীরটা খসখসে করেও মনে হল - এ ঘৃণা যে যাবার নয়।
মাথা মুখ ঠোঁট চিবুক কাঁধ নিতম্ব  - মেয়েটি যেন তার প্রত্যেকটি অস্থি'র ওপর থেকে
মাংসপিণ্ডগুলোকে খুবলে ফেলে দিতে চাইছিল।
এত মলিনতা সে আর কিছুতেই বহন করবে না।
আত্মগ্লানি  - পরিণতি কি আত্মহত্যা  ?
কয়েকটা দিন যেন কয়েকটা বছর --
প্রত্যেকটা মুহূর্ত যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম ঠেকছিল -
বাঁধভাঙা কান্না - অসহয়তা - বিবসতা -
তীব্র ঘৃণা পর্যবসিত হলো অভিশাপে।
যে শরীর -যে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কলুষিত করেছে তাকে -
মেয়েটি তার সমস্ত মনপ্রাণ, প্রত্যেকটি বলা, না বলা অক্ষর দিয়ে তার সমস্ত ঘৃণা - বিদ্বেষ দিয়ে অভিশম্পিত করলো সেই শরীরকে !
একসময় ক্লান্ত হতে হতে মনে হল - তার নিজের শরীরের কি দোষ ?
এ তো নয় তার কর্মফল - তবে নিজের প্রতি কেন এ ঘৃণা , এ বিদ্বেষ ?
সত্যানুভুতি সহায় হলো তার  -
ধীরে ধীরে সে অনুভব করলো এ শরীর একান্তই তার নিজস্ব।
কালির দাগটাকে সাবানজলে ধুয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখার ইচ্ছে হল তার ---
সে আজ বিজয়ী, না নীরা কিংবা শেফালি কোনোটাই সে নয়।
আবেগহীন - স্থিতধী সে শুধু আজ এক মাংসপিণ্ডের মানুষ।

মৌসুমী ভৌমিক
জন্ম: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাফানগর গ্রামে। স্নেহময় পিতা মহেন্দ্র নাথ প্রামাণিক ও মাতা বুলু প্রামাণিকের ছায়ায় বেড়ে ওঠা। বর্তমানে সরকারী চাকুরীরতা। ছোটবেলা থেকে সাহিত্যানুরাগী। দুই কন্যা সন্তানের জননী, স্বামী প্রভাস ভৌমিকের উৎসাহে লেখালেখির প্রয়াসে নিয়োজিত।


অনুরূপা পালচৌধুরী


বিভাগ : কবিতা (কবিতার ল‍্যাব)


পদ্মযোনি

অ  রূপ  ন স্থানে তুমি ভা ল বাসা
পদ্মযোনি বুকরক্ত পা  ন করো

পদ (ম) য(ও) ন(ই)ঘূর্ণায়মান চক্র

ভাল  বাসা ১ ফালি সুখাসীন
তারাভেজা গন্ধ। টুপটাপ
রাম যোনিরসে ডুব দেয় নেশাতুর ধনুরাশি
পদ্মযোনি একলা পথ হাঁটো বারবার

উদ্ধার→পুনর্বাসন→মুক্তি
রাম ধনু(তে) চোখ তরল।বড্ড রঙিন। ইলুশান।    

অনুরূপা পালচৌধুরী
এম.এ (ইংলিশ অনার্স)
ডি. এল. এড পাঠরতা
রানাঘাট, নদীয়া


সুদর্শন প্রতিহার


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


কলঙ্ক

চাঁদের মতোই কলঙ্ক  লাগেছে গায়ে

পা থেকে মাথা - বাদ দেইনি কোথাও
লাগিয়েছে কালো দাগ ---
নিকষ কালো গভীরতায় ---
         --- বেড়ে চলেছে কলঙ্কের দাগ !

ঘষে-মেজে ধোয়ার চেষ্টা বহুবার
প্রতিবারে ঢেকেছি অমাবস্যার আঁধার
অশান্তি পূর্ণিমার আলোতে ---
টেনে আনে মাছের বাজারে ---
             --- শাক দিয়ে কি ঢাকা যায় !

সালের গাছ চোট খায় বাকলে
সবার চায় ধুনোর সেই মিষ্টি সুবাস
কোপ মেরে যায় প্রতিদিন ---
সেচ্ছাচারের পিপাসু ছরা ---
         --- আমি সেজে উঠি কলঙ্কের দাগে !


অসহায়-ব্যার্থতা

আকর্ষ ধরেই  ওঠার চেষ্টা
    - করেছি বহুবার,
ছিঁড়েছে বাহুডোর-পাইনি কিছুই খুঁজে
     - পড়ে আছে ছাইপাঁশ,
দু'চোখের স্বপ্নেরা, বয়েগেছে জল হয়ে
… হারিয়ে গেছে বালির চোরা স্রোতে।

গাঁইতি-কোদাল কত খোঁড়াখুড়ি!
আকাশের দিকে বসে থাকি হাত-পা ছড়িয়ে
সব হারানো মেঘলা আকাশ
… যদি, দিয়ে যায় কিছু?

দুই হাত ধরতে চায় আজও
উঠে দাঁড়াতে চায়-আমারও পরাণ
পঙ্গু শরীর আর ছেঁড়া আকর্ষ
মজবুত খুঁটি পাইনি একটাও
    অসহায়-ব্যার্থতা…!

অট্টহাস্যে ফেটে যায় কান
   … পড়ে থাকি দুমড়ে-মুচড়ে।

সুদর্শন প্রতিহার
সম্পাদক -"নব-প্রয়াস"
গ্রাম - গিলাবনী
ডাক - নোহারী
জেলা - পশ্চিম মেদিনীপুর
রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ
দেশ - ভারত
সূচক - ৭২১১২১
চলভাষ - +৯১৮১৫৯৯৪৪০৪৬

কবি পরিচিতি :-
****************
সুদর্শন প্রতিহার জন্ম ১৯৯১ সালের ১৯ শে নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গিলাবনী নামক একটি প্রান্তিক গ্রামে I বাবা অর্ধাংশু প্রতিহার ,একজন চাষী এবং মা কল্পনা প্রতিহার , গৃহিণী I
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা করার পর বর্তমানে ভারতীয় বায়ু সেনাতে কর্মরত ...পোস্টেড গুজরাটে I এর পাশপাশি লেখালেখি সহ "নব-প্রয়াস" নামক একটি পত্রিকার সম্পাদনা করে থাকি I মূলত কবিতা এবং অনুগল্প বেশি লেখে থাকি তবে ; গল্প ,নাটক ,প্রবন্ধ সব রকমই কমবেশি লিখে থাকি I পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলদেশের বেশকিছু পত্রিকাতে এবং কাব্যসংকলনে বহুদিন যাবত লিখছি I
লেখকের হিসাবে সংকলন - "দুশ্চিন্ত ভবিষ্যৎ" ,"নবকিরণ" ,"নবারুষ" ,"ছড়াঙ্গন" ,বংলাদেশ থেকে "সেতু" এবং প্রকাশিতব্য ... "নবারুষ ২য় খন্ড" ,"নবকিরণ ২য় খন্ড" এবং "কাতিল অথবা ঈশ্বরের চোখ" ।
সম্পাদিত প্রকাশিত কাব্যসংকলনের নাম "নব-কিরণ"এবং  "নবারুষ" এবং প্রকাশিতব্য "নবারুষ ২য় খন্ড" এবং "নবকিরণ ২য় খন্ড" । 





দেবব্রত মাইতি


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


প্রেসারকুকার


এক অদ্ভুত যাঁতাকলে
    আটকে আছে শৈশব
সারা দিনরাত
      এক্সপেকটেশনের বোঝা
          বয়ে বেড়াচ্ছে একাকী

আঁকা
      গান
            লেখাপড়া
   হতে হবে চ্যাম্পিয়ন

  আজব দুনিয়ার
  আজব র‍্যাটরেস

কম্পিটিশনের
       প্রেসারকুকারে
              দগ্ধ ছেলেবেলা
একলা খেলার মাঠ
       সবুজ ঘাসের দল
            কেঁদে চলেছে নীরবে

দেবব্রত মাইতি
নিবাস হাওড়া জেলার এক ছোট্ট কিন্তু গুরুত্মপূর্ণ জনপদ আন্দুলে। কবিতার সাথে সম্পর্ক বহুদিনের, নিজেকে কবি বলতে চাইনা, কারণ অনেককিছু শেখা বাকি আছে,  তাই আমি নিজেকে মনে করি কবিতার ছাত্র, আর সারাজীবন শিখে যেতে চাই, বেঁচে থাকতে চাই কবিতাতে


অরবিন্দ বর্মন


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


ভায়োলিন ভেজা গ্রাম
           
                         
সে যে শুভরাত্রি বলবে
তার আগে ময়নাটি
জেগে থাকা কুমকুম আর হিংসেবলয়
ঘরের মধ্যে আততায়ী রোদ ঢুকে পড়ে
এখানে আজ বিক্ষিপ্ত মেঘের কলোনিজুড়ে
বৈকাল ভরা তরুমূল
নিঝুম পাখিটির পাশে
দোলে হীরণ্ময়,দোলে ধাতস্ত হবার দিন
হাওয়ায় যেসব ভিলেন ভাঁজ পড়ে আছে
এসব ভ্রাম্যমাণ  রোষ
কত যে নীচে টলমল থেকে উঠে আসে
এমন জব্বর রঙের জল
ঠিক সেই পুরনো ঠান্ডা লেগে যাওয়া গলি
ইনফ্যাক্ট গলিটির বিষন্ন চুয়ে পড়ছে
ঘরকরা হুঁকো আর মোমের গলনাংক যতটা সাংঘাতিক হতে পারে
এইসব আলবাত নড়ে ওঠা পারাপার
আর ফাঁকা বাড়ির অনন্ত ডেকে উঠছে
হাঁপরের মতো অদ্ভূত দৃষ্টি
অথচ
কি পরিপাটি এই ভায়োলিন ভেজা গ্রাম
    .............................................