এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

জয়দীপ রায়



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



নিষিদ্ধ করিডর

বুট পড়া  খট খট শব্দ গুলো
          হঠাৎ ই থেমে
    পিছন থেকে ভেসে এল
 ওখানে যাওয়া নাকি মানা

  শ্যাওলা মাখা শুন শান
    দুপুর গুলো নিরক্ষীয়
         গা ছম ছম
   আচমকা বৃষ্টি ভেজা

 প্যাঁচ প্যাঁচে কাদা মাখা
  রাতে থ্রু ডিনার পার্টি
   পৈশাচিক হাক ডাক
   আতসে পড়ল চোখ

  চিৎকার ঃ কে ওখানে ?
 রোয়াকে কার আনা গোনা

নিষিদ্ধ করিডর ব্যাপী ঃ অসংখ্য স্কেলিটন
      রাত বিরেতে হাতড়ায়
  খিল খিল শব্দ   প্যানডোরা বক্স
  অ্যানাবেলের     মাঝারি দুনিয়ায়
                                           




পকেটমার

জানলা দিয়ে ধেয়ে আসা
বানিয়ে বলা শব্দ গুচ্ছের
অহেতুক
       জ্বা
        লা
       
       
ছায়া মানুষ    হাত পা নেড়ে
 ওরা ক্ষুদার্ত আলাপণ
চোরা গলি     ইকো কনর্সান
    একটু সাবধান
আমরা  “পকেট”
       মা
       র


জয়দীপ রায় 

বর্তমানে সাহিত্য চর্চা,
(এম এ) করছি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

উত্তর কোলকাতার পাইক পাড়ায় থাকি ।কবিতা লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। প্রিয় কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয় গোস্বামী। 

চন্দ্রলেখা মহান্তী



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



"জীবন-স্রোতস্বিনী"

তুমিই আমাকে চিনিয়েছিলে,কবিতার
নদ-নদী,নাকি প্রেমের রাজা-রানী !!

আমি তো শুধু ধুলো পথের বাঁকে,বাঁকে
ব্যস্ত উজানের দাঁড় বাওয়াকেই জানতাম
জীবন-প্রবাহ,আলোড়িত স্রোতস্বিনী …




"সাদা কাগজের পাখিরা"

পাখিমন গুলি দলবদ্ধ
জোড়ে- বিজোড়ে, ডালে ডালে

মিলনে, বিরহে, ত্রিভুজে
দ্বৈতে- একাকীত্বে

নীল আকাশ শুধু সাদা কাগজেই
ওড়ার ছন্দ মেলালে




"একটি গোলাপের মৃত্যু"

ফুলদানির গোলাপটি মৃত্যুর পরেও
কিছু দিন, সুগন্ধ ছড়িয়েছিলো...
"অতিস্বপ্নে মৃত্যু"
পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট লিখেছিলো...

প্রতি পাঁপড়িতে নীল প্রেমের
প্যাথোজেন ছিলো…




" অনস্তিত্বে অস্তিত্ব "

ধ্বংসস্তুপে বাঁচা, জীর্ণ বটগাছ
দীর্ঘশ্বাস ফেলছে...
নতুন মার্বেল পাথর বাঁধানো প্রাসাদের
গোলাপ ঝাড় ছোঁয়া বেদীটার গায়ে l





"অপ্রকাশ্য... জিজ্ঞাসা"

তোমার শেষ কবিতাটা, পড়া হলোনা
অনন্ত প্রশ্ন নিয়ে, রয়ে গেলো উন্মুখ পথচিহ্ন...
আবার আগত ছিলো মেঘ শ্রাবণ
গঞ্জে গঞ্জে, বিক্রীত প্রণয়ের বৃষ্টি ভেজা কদম
তোমারই রুদ্ধ দুয়ার, একরাশ নৈঃশব্দের প্রতিধ্বনি

শুধুই তো উড়ে এসেছিলো, কয়েকটা পান্ডুলিপি
সেই টুকুতেই তোমাকে চেনা বাকিটুকু ছিলো
গুহার অন্ধকারে পথ হারোনো কল্প ছায়াপথ...

এখনো তোমার প্যাপিরাস কঠিন দেওয়ালে
লিখে রাখা কিছু মনের প্রতিলিপি
অগণিত বহুবারেও বুঝিনি তার মর্মার্থ
পারিনি পড়তে অনন্ত সাধ্য সীমাহীন আকাঙ্ক্ষায়
প্রাচীন মিশরীয় চিত্রলিপি
হায়ারোগ্লিফিক্সের মতো !!

দুর্বোধ্য পাঠহীন অতলে সে কথা
অসীম জিজ্ঞাসায়
কিছু কি লেখা ছিলো, অপ্রকাশ্য হৃদয় ভাষায় ??

চন্দ্রলেখা মহান্তী
Residence....কলকাতা 
শখ... যে সব ভাবনারা ছড়িয়ে থাকে ,ছুঁয়ে
যায়... তাদের শব্দ রঙে, এলোমেলো ক্যানভাস আঁকা...


আরিয়ান প্রিয়স



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



বিস্মৃতি

দুই একটা জোনাকি
বুকচিরে রক্ত ঝরায় রাস্তার ধুলোয়,
প্ল্যাটর্ফমের রড বেয়ে তখনও নির্বোধ অনুতাপ
চুঁইয়ে পড়ে..
আমার চিবুক দিয়ে সহস্র ঘাম
নেমে চলে নিজেদের লক্ষ্যের পথে।
নির্জীব স্ট্রিট লাইট পিছিয়ে পড়ে কুয়াশার ঘোরে,
ক্লান্ত শ্যাওলার দল ভেজে শিশিরের জলে....
আমি তোমার কান্নার শব্দ
স্পষ্ট শুনতে পাই....
তখনও ঝিঁঝিঁর ডাক শোনাচ্ছে ঘন ঝোপের দিকে,
অামি হেঁটে চলেছি বিষপথ ধরে,
নক্ষত্রলোকের উদ্দেশ্যে ।
আর পেছনে চলেছে নির্বাক প্ল্যাটর্ফমে ফেলে যাওয়া স্মৃতির দল। ....



শেষ বেলা

দিগন্তের লাল চাদর উড়েছে বাতাসে৷
নতুন বন্ধুরা ভীড় করেছে নদীর পাড়ে ৷
আমি তুমি বেশ আনমনা ৷কিছু ভাবছি আনমনে৷
হয়ত দুজনেই হেঁটে চলেছি দিগন্তের পথ ধরে৷
সূর্য অস্ত যাওয়ার ঠিক মুখে৷

পাখিরা ছুটেছে আপন নীড়ে।
কিছু পানকৌড়ি তখনও ডুবছে জলে।
আশপাশে ফিল্টারের ধোঁয়া ভরে চলেছে।

আমি তখন সূর্যের গভীরতা খুঁজে চলেছি লাল বলয়ের মধ্যে৷
খানিক বাদে অসস্ত্বি কনুই ঠেলা দিলে-
আমি বাস্তব ফিরতি পথে ঢুকি।
সামান্য সময়ে অন্ধকার নামে নদীর পাড়ে।
আজকের মত ইতি.. রইলাম নতুন বিকেলের আশায়
তাই আসব আবার কাল....


সমাপিকা নাথ



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



তপস্বিনী

আমি তো শুধুই একখান চিলেকোঠা চেয়েছিলাম
যেখানে রাতভোর সময় পাওয়া যায়
চাঁদের সবকটা দাগ হাতড়ে দেখা যায়
যেখানে চুপিচুপি আকাশ মাঠকে দেখে
আলতো করে ছুঁয়ে যায় ব্যথা গুলো
ঠিক সেইখানে মাটি কোপানোর শখ ছিল
ভেবেছিলাম তোমায় ভেবে চোখ বুজব এক রাত
আমিও চেখে দেখব জাহ্নবীর শ্রান্ত স্বর
যৌবনের প্রথম শিহরণে বজ্রাঘাত
যেন কোন দুর্বাসার অভিশাপ
ঠান্ডা কফিশপে এক কাপ উষ্ণ ধোঁয়া____শ্বাস রোধ করে
কলশিতে কালশিটে পড়ে
দুচোখেতে তুমি যেন নেশা হয়ে নামো
আমার মন আজও অন্তঃসত্ত্বা
আমি যুগ যুগ ধরে পুষে গেছি হিজলের ভাঙ্গা হাড়
অবশ্য তপস্বীনী নামে তোমরা তো শুধু গান্ধারীকেই চেনো..।।



সে ভালই আছে

নাহ্ঃ! তাকে আর ডেকো না..
ভাঙ্গিয়ো না তার ঘুম
তোমার প্রতি ঝড়ের রাতে
ছিল সে রাজসাক্ষী স্বরুপ।
তার পাশে পড়ে আছে কবিতার লাশ
তারা খুন হয়েছিল ..
গুমখুন
বিচ্ছেদপ্রিয় দেশে সে খুঁজেছিল তোমার ডাকনাম..
কাঁটাতারে তার রক্তের দাগ..
একবার নয় ছুঁতে তার রুপ
থেমে যেত সমস্ত বিদ্রুপ..
আজ শতকোটি কোলাহলে তোমার চেনা নাম..
আর খুঁজো না তাকে..
'সে ভালো আছে'..এই গুজবে ফিরে যাও ঘরে..
তোমাদের ভালোবাসা তো চিনি..
সেই তো শেষে বিসর্জন ই দেবে..।।


কেয়া রায়



সিনেমা রিভিউ




(প্রথমেই বলে রাখছি যে, আমি কোনও দক্ষ সিনেমা বিশ্লেষণকারী নই। এক ভদ্রস্থ গোছের সিনেমাপ্রেমী।)

# ময়ূরাক্ষী

আজ আমি যে "ময়ূরাক্ষী"র কথা লিখতে বসলাম, তা নি:সন্দেহে কোনও নদী নয়। তবে সে বোধ করি এমন রহস্যময়ী নারী যার অস্তিত্ব কখনও প্রত্যক্ষ, তো কখনও পরোক্ষ। অতনু ঘোষ পরিচালিত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত এই সিনেমাখানি গতকাল দেখে এলুম গ্যাঁটের কড়ি খরচা করেই। নি:সন্দেহে প্রমাণিত হল আবারও যে, আমি টাকাগুলো জলে দিয়ে আসিনি। তার কারণ হিসেবে যদি এক এক করে বলতে শুরু করি তবে পাতার পর পাতা লিখেও শেষ করা যাবে না। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, গার্গী রায় চৌধুরী, ইন্দ্রাণী হালদার - এদের অভিনয় দক্ষতার কথা নাই বা বললুম (আমার মতো তুচ্ছ অধমকে তা শোভা পায় না)। আর বাকি রইল সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্রের অনবদ্য ব্যাকগ্রাউণ্ড মিউজিক, সংলাপ, দৃশ্যপট, স্থান নির্বাচন - প্রত্যেকটি এককথায় অসাধারণ।

      এবারে আসি মূল কাহিনীতে। আজকের বর্তমান আধুনিক সমাজে দাঁড়িয়ে আমরা উন্নতির চূড়ায় ওঠার দৌড়ে একটা সময় পর আমাদের মা-বাবার হাতটা একরকম বাধ্য হয়েই ছেড়ে দেই নিজের অজান্তেই। তারপর কি হয় জানেন কি?? কি আবার হয়, বুড়ো বটগাছটা বয়সের ভারে জরাজীর্ণ হয়েও সন্তানকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গোনে। আর আপনিও সময়ের সাথে সাথে নিজের সন্তানের কাছ থেকে একটু একটু করে দূরে সরতে থাকেন। কিন্তু তাই বলে কি বাবা ও ছেলের মধ্যেকার টান ঠুনকো হয়ে যায়?? না, তা সম্ভব নয় কখনোই। যাই হোক, এখানে যে ছেলে ছোটবেলা থেকেই সম্পর্কের বোঝাপড়াগুলো মানিয়ে চলতে জানে, তারই পরপর দু-দু'টো বিয়ে টেকেনি। আজ সেই ছেলে একাকীত্বকে সঙ্গী করেই নিজেকে নিয়ে অনেকগুলো সংসারের খরচ চালাচ্ছে। চাইলেও আর সেখান থেকে বেরনো সম্ভব নয়। দেখানো হয়েছে কিভাবে বার্ধক্যজনিত স্নায়ুরোগে আক্রান্ত বাবার মুখে যখন প্রতিনিয়ত ২৫ বছর আগের স্মৃতির কথা শুনে ছেলে তাঁকে সুস্থ করার তাগিদে যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং শেষে সেই অতীতকে এক কঠোর মিথ্যের জলে ভাসিয়ে দেয়। আর আবেগপ্রবণ বাঙালীদের জন্যে বলছি, শেষ দৃশ্য দুটো দেখার সময় মনটাকে শক্ত করতে চাইলেও বোধ করি পারবেন না। এমন একটি বাস্তব বিষয়বস্তুকে এত সুন্দরভাবে অবলীলায় তুলে ধরার জন্যে সিনেমার সাথে যুক্ত প্রতিটি সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, আমাকে যদি বলা হয় ১০ এ কত দেব, তবে বলব চোখ বন্ধ করে ৯.৫ দেওয়া যায়....আমার মতে, এই ধরণের অর্থপূর্ণ সিনেমা সকলের অন্তত একবার হলেও দেখা উচিত।





মুক্তগদ‍্য


#এক_ঝলক

উফ, এই কদিনে কিন্তু প্রচুর ধকল গেল আমাদের ওপর দিয়ে। যাই বলুন হবে নাই বা কেন !! একের পর এক স্বাধীনতা দিবস, মাতৃদিবস, পিতৃদিবস, নারীদিবস, পুরুষদিবস, শিশুদিবস ইত্যাদি ইত্যাদি আরও কত দিবস পালন নিয়ে আমরা ব্যস্ত ছিলাম। তাই এককথায় বলা যায় এসব উৎসব পালনের পর আমরা এখন একেবারে শ্রান্ত-ক্লান্ত-বিধ্বস্ত। এরপর তো "ভ্যালেন্টাইন'স ডে" এর সাথে সাথে আরও দিবস আসতে চলেছে আমাদের ক্যালেণ্ডারে। সত্যি বলতে কি আমাদের চারপাশের সকলের মধ্যে যে এত সুন্দর অনুভূতি বিদ্যমান তা হয়তো জানতেও পারতাম না এই দিবসগুলো না এলে। সবটাই অবশ্য ঐ ভার্চুয়াল জগতের কৃপায় সম্ভবপর হয়েছে। তা যাক, সেসব কথা। যাই হোক, দিবস পালন শেষে এবারে চলুন এক ঝলকে দেখে নেই আমাদের সেই রোজকার মার্কামারা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর লিস্টি যা আদতে আমরা কখনোই পরিবর্তন করার চেষ্টাটুকুও হয়তো করি না। হ্যাঁ, অবশ্য ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত সর্বক্ষেত্রেই থাকে কিন্তু তা দিয়ে কি আর সমাজ-সংসার চলে মশাই ??

         এই যেমন ধরুন, আবার প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যে খবরের চ্যানেলে বা সংবাদপত্রে দেখবেন শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত সকলেই ধর্ষিত হচ্ছে কিছু হিংস্র অমানুষের দ্বারা। অমনি পায়ের ওপর পা তুলে মন্তব্য শুরু করবেন, "কি দরকার ছিল অমন খোলামেলা পোশাক পড়ার?? অত রাতে বাইরে বেরনোর কোন দরকার ছিল শুনি?? ছেলে বন্ধুদের সাথে এত ঢলাঢলি করলে তো এসব হবেই??"... আবার এসবে হস্তক্ষেপ করলে আর একদল সাথে সাথেই বলবেন, "মেয়েদের স্বাধীনতার দরকার নেই বুঝি?? সবসময় অনুমতি নিতে হবেই বা কেন??"... আচ্ছা যে ছেলেটা বা লোকটা এই ঘৃণ্যতম কাজটি করল, তারও চরিত্র গঠনের সময় মা-বাবারা কোথায় ছিলেন??

            আজকাল মা-বাবারা উভয়েই চাকুরিরত হোন বা না হোন, নিজের ছেলে-মেয়েরা না চাইতেও অঢেল জিনিসপত্র দিয়ে তাদের সন্তুষ্ট করে তুলতে চাইছেন যেন তেন প্রকারেণ কিংবা অপত্যস্নেহে অন্ধ হয়ে শাসন পর্যন্ত করেন না। ফলত কিছু বছর পর ছেলে-মেয়েরা বেপরোয়া-অবাধ্য-উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে উঠে নিজের বাবা-মায়ের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম করে দেয়। অথচ তখন কিন্তু আপনারাই তা মেনে নিতে পারেন না।

        এছাড়াও দেখুন, ভীড় বাসে-ট্রেনে যখন কোনও বৃদ্ধা বা প্রেগন্যান্ট মহিলা ওঠেন তখন খুব সহজেই একজন পুরুষ তার সীট ছেড়ে দেন। অথচ মহিলা সীটের সামনে যদি ভুল করেও কোনও বয়স্ক বা প্রতিবন্ধী লোক গিয়ে দাঁড়ান তখন কিন্তু কোনও মহিলাকে সীট ছাড়তে দেখি না আমরা। উল্টে মহিলাদের সীটে কোনও বাচ্চা ছেলেকে বসতে দেখলেই কেউ না কেউ ঠিক উঠিয়েই দেন অথবা সামনে দাঁড়ানো মা'কে বলেন "নিজের বাচ্চাকে কোলে নিয়েই তো বসতে পারেন।".. আর যদি সেখানে কোনও হিজড়া বা প্রস্টিটিউট এসে দাঁড়ায় কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে, তাহলে তো আর কথাই নেই।

        সারাবছর গরীব মানুষদের কিংবা বস্তিতে বড়ো হওয়া বা অনাথ শিশুগুলোকে নিয়ে বিশেষ দিবস গুলোতে মাতামাতি করলেও আদতে সারাবছর রাস্তাঘাটে ওদের জন্যে আমাদের কাছ থেকে প্রাপ্য বলতে বাজে ব্যবহার ও সাহায্যের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। সত্যিই, অত সময় কোথায় আমাদের বলুন তো !! এতে তো আর আমাদের স্বার্থ চরিতার্থ হওয়া সম্ভব নয়। আমাদের উদ্দেশ্যই যে শুধুমাত্র বছরের নির্দিষ্ট কটা দিনে দেখানোর জন্যে কিছু কাজ করে সেলিব্রিটি হওয়া।

           আর 'স্বাধীনতা' নিয়ে তো আমাদের আবার হেব্বি মাথাব্যথা। তার ওপর যদি হয় বাক-স্বাধীনতার ব্যাপার, তাহলে তো আর কথাই নেই। যে করেই হোক আমাদের কোনও মিথ্যেকে সত্যি হিসেবে বলতে দিতেই হবে। হ্যাঁ তাই বলে ভাববেন না যেন, সত্যি কথা সক্কলের সামনে বলে দেবেন ইচ্ছেমতো। যদিও আমরা চোখ বুজে থাকারই পাব্লিক। কিন্তু যদিও বা প্রতিবাদী হতে মন চায় তাহলে চাইলেও আজকাল পারবেন না। নইলে আমাদের অবস্থাও শেষে ঐ সাংবাদিক 'গৌরী লঙ্কেশ' এর মতোই হবে। তাই চাপ নেওয়ার কি দরকার বলুন দেখি?? আমাদের পরিবারের সাথে তো আর খারাপ কিছু এখনও হয়নি, তাই নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমোতেই পারি।

         যথারীতি কেউ ভালো কিছু করলে আমাদের গায়ে ফোসকা পড়বে, প্রতিবাদ করলে ভোগান্তি জুটবে, খারাপ কোনওকিছু হতে দেখেও চোখ-কান-নাক বন্ধ করে থাকব, কাউকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব না, গরীব-প্রতিবন্ধী-পাগল-হিজড়া-বেশ্যা-সমকামী এই জাতীয় মানুষদের দেখলে প্রকাশ্যে কিংবা পশ্চাতে হাসব, কাছের মানুষগুলোর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব সুযোগ পেলেই, আমার থেকে অল্প শিক্ষায় শিক্ষিতদের পাত্তা দেব না ইত্যাদি আরও কত কি !! সবশেষে আবার একটি উৎসব ন্যায় দিবসের জন্যে হাপিত্যেশ করে বসে থাকব....।।


কেয়া রায়
লেখক পরিচিতি :
আমি কেয়া রায়। আমার জন্ম বাংলার ২৫শে বৈশাখ। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলা আমার জন্মস্থান। আশুতোষ কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করি ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। লেখালেখির জগতে স্থায়ীভাবে পা রেখেছি ২০১৬ সালে। বেশ কিছু ম্যাগাজিনে আমার লেখা গল্প-কবিতা বেরিয়েছে এখনও পর্যন্ত। প্রথম একক প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : "আড়চোখে প্রাক্তন", এছাড়াও "অমোঘ আকর্ষণ" (কাব্যগ্রন্থ), "টানাপোড়েন" (গল্পগ্রন্থ) প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। যৌথভাবে প্রকাশিত গল্পগ্রন্থগুলো হল : "আনন্দধারা গল্প সংকলন", "অনুভবে অনুভূতি"। আশা করি, এভাবে আপনাদের সকলকে পাশে পেয়ে আরও বহুদূর এগিয়ে যেতে পারব সুদূর ভবিষ্যতে।


শম্পা মাহাতো



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



নীলকমল (১)

ফিরতি পথেই দেখেছিলাম
আকাশের কোণ ঘেঁষে ছিটেফোঁটা চাঁদ
আমার কথা মিথ্যে হতে পারে,
কিন্তু নীলকমল!
.
স্মৃতিও কী মিথ্যে
আর আজ এই কৃষ্ণচূড়ার লাল
সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে
আকাশের দিকে চেয়ে।
.
তুমি ওদের কাছে এসো
ঝরে পড়ার আগে একটিবার ,
ওদেরও জমা কথাই ফুটেছে
ফুল হয়ে।



নীলকমল (২)

দুপুর‌ের দ‌িক বরাবর রাস্তাগুল‌োয়
সূর্যটা ম‌োটেই কথা শ‌োনে না
তখন বসন্ত দীর্ঘশ্বাস ফ‌েলে,
তুম‌ি কি শুনত‌ে পাও নীলকমল!
.
আমরা কখনও পাশাপাশ‌ি হাঁট‌ি
কখনও ত‌ুমি সামন‌ে কখনও আম‌ি
হাত ধর‌িনা মিলিত হইনা,
এক হওয়ার ছাড়পত্র প‌েয়েও ।
.
অবাঞ্ছ‌িত নীরবতার মাঝ‌ে
আমরা কুহুধ্বন‌ি শুনত‌ে পাই
প্র‌েমের গল্প ল‌িখত‌ে পার‌ার মত‌ো,
ভাল‌োবাসত‌ে পার‌ি না বল‌ে

তুম‌িও কী কষ্ট পাও নীলকমল!



নীলকমল (৩)

অযত্ন‌ের ভাল‌োবাসা প‌েলেও মন ভর‌ে
ক‌িন্তু অব‌িশ্বাসী মন ন‌িয়ে যখন
অমৃতকুম্ভ‌ের সন্ধান কর‌ে মানুষ!
.
প্রত‌িদিন সকাল হল‌েই ওরা আস‌ে
অবুঝ‌ের মতো আমার হাত ধর‌ে টানাটান‌ি কর‌ে,
বাস্তব‌ের সামন‌ে দাঁড় করাব‌ে বল‌ে।
.
আম‌ি ভাল‌োলাগছ‌ে না বলল‌ে বিস্ম‌িত হয়
অনর্থক ওদ‌ের দুশ্চ‌িন্তা আমায় ক্লান্ত কর‌ে,
ওদ‌ের বায়নায় হ‌েরে যাবার ভয়‌ে
.
আম‌ি দুচ‌োখ দ‌িয়ে তোমায় খুঁজ‌ি, নীলকমল।


নীলকমল (৪)

একদিন সমস্ত রূপকথারা আড়াল খোঁজে
ভীষণ জরুরী মনে হয় বদলে যাওয়া
     এবং মনে হওয়াগুলোও
     বদলাতে থাকে ক্রমাগত।
.
নিরাময় বলতে তুমি কী বোঝ নীলকমল?
অবুঝের আয়নায় ধরা পড়া মূল্যবোধ
      নাকি অবিরাম ধারাপাত
      আর ধুয়ে যাওয়া!
.
প্রেম অবিচ্ছেদ্য তবুতো পরিত্রাণ চায়
যুগল। আর পাহাড় চড়ার অভিযান
       অসমাপ্ত রাধা কৃষ্ণ
       অথবা মেঘ বিলাস!
.
আহ্বান গড়িয়ে পড়ে অন্তরাল থেকে
যখন তুমি চাও আমি চাই না
      যেভাবে তুমি চাও,
      আমি কিম্বা, অন্যকিছু..



নীলকমল (৫)

সেই যে রাস্তাটা বাঁক নিচ্ছিল চতুর্দিকে
আর আমরা বোবা শালিকের মত,
ধন্যবাদ.....লেখা সাইনবোর্ডটায় একদৃষ্টে,
নীলকমল
আমায় নিয়ে যাবে আবার!

প্রেমের তৃতীয় অথবা মিলনের প্রথম
অথবা অপ্রেম শুরু হওয়ার ঠিক আগের
কুসুম রঙা যে কোনও একদিনে!
এবার থেকে,
আমি প্রেমের কবিতাই লিখব শুধু।

লিখব নিরাময়, আপ্লুত শরীর কথা, অমৃতসম
অনুভূতি, রক্ত সঞ্চালন আর
যাবতীয় আদর আপ্যায়ণ আলিঙ্গন।
আমাদের
বাদবাকি কিছু রাখব না ইতিহাসে।


কাজল দাস



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)




একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে

তারপর!
ফুল না ফুটলে আমায় যেন ব'লো না_
বসন্তে রক্তের ছোঁয়া ছিল,
মাটিতে লাশের গন্ধ,  আগুনে আগুন ছিল বাংলায়।
মরা ফুল ঝরে গেলে
ব‍্যতিব‍্যস্ত বাতাসে তাঁর অস্তিত্ব হাতিয়ে নিয়ে-
ব'লো না ফিরিয়ে দিয়ে যাও, হে মানুষ!
কারণ তোমার বা তোমাদের তা শোভা পায়না।

অস্তের কোলাহল থেমে গেলে, দায়িত্ব বুঝি এড়িয়ে যাবে?
একটি মুখের হাসি- ধরে রাখার জন্যে
এক সাগর রক্ত ধুয়েছে তোমার পা,
তুমি ভুলতে ভুলতে সব ভুলেছো জানি।
শ্রমিকের- কৃষকের- সমাজের ছবি
গোবিন্দ হালদার আর রক্তের রঙই শুধু জানে।

বার বার আসা যাওয়ার বুকে
আরশোলা রঙের ক্ষত দেখতে দেখতে,
দেখি কোনো বসন্তই আজ আর নিশ্চিত নয়।
তাই শিকড়ে পুরনো আঁশটে গন্ধ খুঁজি,
আর অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ- এর ওপরে
সমাধীস্ত হই পত্রিবার, প্রতিবারই-
"একটি মুখের হাসির জন্য অস্ত্র ধরি,
নতুন একটি কবিতা লিখতে অস্ত্র ধরি।"



মাতৃভাষা

ঐ পাখিটির ভাষা ছিল কথা বলার,
পাখিটির ভাষা ছিল ভালবাসার.
এ দেশ থেকে ওদেশ ঘুরতে ঘুরতে,
নরম জোছনায় উড়তে উড়তে-
কখনো আমার দেশ,কখনো তোমার দেশ.
কখনো আবার ডানা মেলে অন্য  কারো দেশ.
একটাই ভাষা তার নিজের আপনার.
সকলেই বোঝে যেন সব কথা তার.

সকালের পৃথিবী শোনে কান পেতে প্রভাতির সুর.
আর বিকেলের গোধূলী শোনে  কাকলির রব সুমধুর.

ভাবি! এমন মধুর ভাষা সে কোন খানে পেল?
যে ভাষায় সব কথা হার মেনে গেলো.
আমাদের ভাষা কম,তাই কম কথা বলি,
এর ভাষা ওর ভাষা ধার করে চলি.
আপন মাতৃভাষায় কথা বলা দায়,
বুঝি অন্যের ভাষা-বিনে নেইকো উপায়.

তবে কি মিছে ছিলো শহীদের দান!
এতোটা রক্ত ক্ষয় এতো অপমান.
যে ভাষার বিপ্লব ইতিহাস গড়ে,
সে কি আজ পড়ে রবে শুধু অনাদরে.
আপনার ভাষা ভুলে অপরের ভাষায়-
কথা বলি, গান গাই, ভীনদেশী আশায়.

পাখিটাই বোঝে শুধু আপনার সুরে,
মায়ের মুখের ভাষা গান হয়ে ঝরে.
তার কাছে আমি তাই মাথা নত করি,
তার নামে লিখে যাই-
                      একুশে ফেব্রুয়ারী.

                         


যারা মিছিলে হেঁটে ছিল

একটি মানুষের পেছনে, ছিল-
নিষ্পাপ চেতনার ভিড়।
উদ্ধত হাত আর প্রতিবাদের গান,
দেখতে দেখতে রাজপথ লাল হয়ে গেল,
অনতি দূরে জলে উঠেছে ধানের গোলা।
এখন রঙটা খয়েড়ি,
তারপর ঠিক দেখা গেল না।
ভাবলাম যুদ্ধ বুঝি শেষ,
শ্মশানে বাজার বসেছে, আর-
কবরস্থানে বসতি,  শিকড়ে রক্ত পেয়ে ফুটেছে রক্ত গোলাপ,
যায়গায় যায়গায় শহীদ বেদী।
ব‍্যস্ত শহরে কাকবর্ণ বেদী গুলো
মাঝে মাঝে বাঁচতে চেয়ে ঝলসে ওঠে।
বোধহয় যুদ্ধ এবার শেষ,
যুদ্ধ এবার........

তার কয়েক শতক পর,
তুমি বলবে- এতো আগুন কিসের?
আমি বলবো- স্বাধীনতার।
তুমি বলবে- দরজাটা খুলে দাও,
রাস্তার মোড়ে তুমি কে,
বলবো- আমি নেই, এখনো যুদ্ধ থামেনি জেনো।
এবার তোমার পালা,
বড় কঠিন সময়!
শক্ত হও!

"পথে এবার নামো সাথী পথে হবে এ পথ চেনা"


কাজল দাস

সমাজের কথা সাধারণ মানুষের কথা লিখি,

অন্ধকার কেটে যাওয়ার আশায় লিখি, লিখি আবৃত্তি যোগ‍্য কবিতা।
প্রকাশিত বই "বোবা সংলাপ", অঙ্কুর সাহিত্য সন্মান, কাব্যভারতী, কাব‍্যশ্রী উপাধি পেয়েছি।


সায়ন্তনী নাগ



অনুগল্প



কলম 

পার্কার ডটপেনকে বলল, 'তুই হলি আমাদের জাতের কলঙ্ক। কি যে সব লিখিস সারাদিন! মাসকাবারি হিসেব, ধোপার খরচ, ছেলের অঙ্ক খাতা চেক! যাচ্ছেতাই! আমাকে দ্যাখ। অমিতাভ বচ্চন থেকে অনিল আম্বানি -দামি অটোগ্রাফ থেকে কোটি টাকার চেক সই- সব করি আমি। আমায় লোকে গর্বভরে সাজিয়ে রাখে বুকপকেটে। আর তুই? পড়ে থাকিস এখানে ওখানে। বাসে ট্রেনে হকার বিক্রি করে দশটাকায় দশটা...'

ডটপেন চুপ করে থাকে। সত্যিই তো ওর কোনো বংশমর্যাদা নেই, সৌন্দর্য নেই, আভিজাত্য নেই। ও শুধু ইউজ অ্যান্ড থ্রো।

অথচ যেদিন পার্কারের খোঁচায় কয়লা কেলেঙ্কারির দুর্নীতি ভরা ফাইলটা পাস হয়ে গেল, ডটপেন সেদিনই মাঝরাতে লিখে ফেলল মরমী একটা কবিতা!