এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

সতীশ বিশ্বাস



ছড়াক্কা-গাথা



একলব্য

একদিন দ্রোণাচার্য শিষ্যদের ডেকে
বলেন, ‘শিষ্যগন,
সবাই কর শ্রবণ—
দেব আমি যে নির্দেশ
তা হবে চূড়ান্ত,শেষ।
নির্বিবাদে পালন করবে আজ থেকে।’

দ্রোণের এ কথা শুনে শিষ্যরা নীরব।
দ্বিধাণ্বিত চেয়ে থাকে।
কেবল অর্জুন বলে,
‘দেবেন যে ভার আমাকে,
ছলে বলে কৌশলে
পালন করতে দেব শক্তিটুকু সব।’

খুশি হয়ে দ্রোণাচার্য করেন ঘোষণা—
‘শোন প্রিয়তম শিষ্য,
নও তুমি অবিমৃশ্য।
আমার যা বিদ্যা জানা
তোমাকে তা ষোল আনা
দেব; আর কাঊকেতা কিছুতে দেব না।’

একী কথা বললেন গুরুদেব দ্রোণ!
তুমি তো শিক্ষাগুরু
তবে কেন লঘু-গুরু?
সব ছাত্রে সমদৃষ্টি-
নয় কি শিক্ষকের কৃষ্টি?
ঠিক কি তোমার চোখে ভেদ থাকা কোন?

সেই থেকে নিলে তুমি ছলের আশ্রয়।
অন্য সব ছাত্রদের
গঙ্গাজল আনতে বলে
শিক্ষা দিতে অর্জুন ও
স্বপুত্রকে কৌশলে।
তোমার এ আচরণ অনুচিত নয় ?

সব ছাত্র জল আনতে হেঁটে গেলে দূরে
অর্জুন যাবে না কেন?
সবাই তো  রাজ-পুত্র
কেউ না বৃহৎ,ক্ষুদ্র;
কেন দিলে অনুমতি
অর্জুনকে আনতে জল বরুণ-অস্ত্র জুড়ে?

পুত্রের ক্ষেত্রেও দেখিয়েছ পক্ষপাত।
পুত্র তো সকল ছাত্র
সমান স্নেহের পাত্র।
ছেলে বলে বেশি শিক্ষা!
গুরু হয়ে একী দীক্ষা!
তবুও কি আশা কর শ্রদ্ধা,প্রণিপাত?

এরপর একদিন এক নিষাদযুবক
হিরণ্যধনুর ছেলে,
‘একলব্য’ নাম তার ;
শিষ্য হতে কাছে এলে
দিলে তাকে ধিক্কার।
বললে নিষ্ঠুর কথা জাত-বিষয়ক!

বললে,‘ভুলে কি গেলি--তুই নীচু জাতি?
আমার শিষ্য যারা,
উচ্চবর্ণজাত তারা
কিম্বা রাজার পুত্র।
তুই তো চন্ডাল, শূদ্র।
তোকে শিক্ষা দিলে রটে যাবে অখ্যাতি।’

ব্যথা পেল একলব্য। তবুও নীরবে
দ্রোণকে প্রণাম ক’রে
ফিরে এল নিজ ঘরে।
নিষাদের বেশ ছেড়ে,
ব্রক্ষ্মচারী রূপ ধ’রে
স্থির করে নিল মনে-কী করতে হবে।

গড়ল এক দ্রোণাচার্য মূর্তি মাটি দিয়ে।
পরল জটাবল্কল।
জোগাড় করে মূল,ফল
করতো রোজ আহার।
অরণ্যে বাস তার;
দ্রোণের করতো পুজো নানা ফুল সাজিয়ে।

অধ্যবসায় আর নিষ্ঠার বলে
ধীরে ধীরে একলব্য,
যেন ছিল ভবিতব্য,
শপথে থেকে অনড়
হল মহা ধনুর্ধর।
মনে তার সর্বদা গুরুমূর্তি জ্বলে।

একদিন শিকারে এল কুরু-নন্দনেরা
সঙ্গে কুকুর ছিল
পান্ডবের অনুচর
চীৎকারে সে করে তোলে
অরণ্যস্থল মুখর।
ভাঙে তাতে শিষ্যের ধৈর্যের বেড়া।

‘স্তব্ধবান’ ছুঁড়ে মারে একলব্য রেগে।
কুকুরটি মরল না,
মুখেও হল না ঘা।
শুধু বন্ধ হল শব্দ,
পরিবেশ হল স্তব্ধ।
জব্দ কুকুর গেল প্রাণ নিয়ে ভেগে।

পান্ডবেরা তিরবিদ্ধ দেখে সে কুকুর
চূড়ান্ত অবাক হল;
কারণ কখনো তারা
দেখেনি এমন আগে।
কে শিখলো-তারা ছাড়া
এ বিদ্যা!- দেখতে এল ক্রোধে ভরপূর।

এসে একলব্যকে জিজ্ঞাসা করে
‘নাম ধাম বলো,আর
দাও বিবরন।
কার কাছে এই বিদ্যা
করেছ অর্জন।
কে এমন গুরু আছে এই চরাচরে?’

নিষাদতনয় বলে নম্র কন্ঠস্বরে,
‘আমি একলব্য, আর
হিরণ্যধনু পিতা।
যিনি পুজ্য গুরুদেব,
দ্রোণাচার্য নাম তার।’
শোনামাত্র অর্জুন ফিরে যায় ঘরে।

দ্রোণাচার্য বিস্মিত অর্জুনকে দেখে
বললেন, ‘এখানে কেন?
বলো--কী ঘটলো হেন?
সব্বাই একসাথে
শিকারশূন্য হাতে
মাঝপথে ফিরলে মৃগয়া বন্ধ রেখে!’

সোজাসুজি অভিযোগ করে অর্জুন।
‘একদিন বলেছিলে
আমি হব সেরা ছাত্র।
কিন্তু সেটা সত্য নয়,
আমি নই প্রিয়পাত্র।
বলো, কেন শেখালে না দুর্লভ এক গুণ?

ভাবলেও লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
যে বিদ্যা থেকে গেছে
অজানা আমার,
সে বিদ্যার অধিকারী
নিষাদ-কুমার!
কেন করলে এ চাতুরি জানাবে আমায়?’

’কী হয়েছে খুলে বলো,’ দ্রোণাচার্য বলে।
অর্জুন তখন সব
ঘটনা বলল তাঁকে।
শুনে দ্রোণ নীরব ও
কিছুটা বিব্রত থাকে।
তারপর বলে, ‘নিয়ে চলো সেই স্থলে।’

গুরুকে দেখেই শিষ্য কৃতাঞ্জলি পুটে
দাঁড়িয়ে বলল, ‘প্রভূ,
ভাবতে পারিনি কভু
আসবেন সশরীরে
গরিবের এ কুটিরে।
তোমার আশিসে যাক সব অজ্ঞতা টুটে।

কীভাবে করব প্রভূ আপনার সেবা?’
দ্রোণ কয়, ‘প্রমাণ কর
আমার শিষ্য কিনা।
যদি হও শিষ্য তবে
দাও গুরুদক্ষিণা।
শুধুমাত্র কথাকে বিশ্বাস করে কেবা?’

একলব্য বলে, ‘আছে যা কিছু আমার
সবই আপনার।
যা আদেশ করবেন
নিশ্চিত তা পাবেন।
মুখে শুধু বলুন একবার,
দেব তা আপনাকে--করলাম অঙ্গীকার।’

দ্রোনাচার্য বলে,’যদি খুশি করতে চাও,
যত সব অস্ত্রবিদ্যা
অর্জন করেছ,তার
মূল্য হিসাবে চাই
ছোট এক উপহার–
দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধ অঙ্গুলিটি দাও।’

বজ্রাঘাত প’ল শিরে। দুই চোখে তার
নামল আঁধার।
ভাবলো সে-- আজ তবে
এতদিন যা করেছি,
সব কিছু মিথ্যা হবে!
সব স্বপ্ন ভেঙে আজ হবে ছারখার!

মুহূর্তে সামলে নিয়ে শিষ্য একলব্য
গুরুর সে নির্দেশ
করল শিরোধার্য।
আঙুল কাটতে দেখে
হাসল দ্রোণাচার্য!
গুরুদেব,ধূর্ত,নীচ,শিক্ষিত ও সভ্য।


সতীশ বিশ্বাস

অমল বসু



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



সম্পর্ক

মায়ের কাছে মিথ্যে বললে পাপ হয় না
কারণ মা সবই জানেন
গালে চুমা দেবেন অথবা চড়, সে তাঁর ইচ্ছে
ঘাড় কাত করে পার হয়ে যাব চৌকাঠ

একটা অ্যানড্রয়েড পৌঁছে দিতে পারে
সত্যি মিথ্যার বাইরে এক নতুন বাস্তবতায়
যেখানে সম্পর্কের ঠিকানা লেখা নেই
নিবিড় সহবাসে আড়ালহীন অরণ্য যাপন

চোখ খোলা কী বন্ধ, কিছু কি এসে যায়?
প্রজাপতি এ ফুল ও ফুল নির্লিপ্ত ডানায়




বদলে যাই

ভালো থাকার রকম সকম বদলে যাচ্ছে
ঘর-বন্দি নিয়ন আলোয় সুখ কিছু কম পড়ে
খোলা জানালায় ধুলো মাখা রাস্তার কোলাহল
তখন ছাদে তারার আলোয় নিসর্গ সাধনা
দূরের নক্ষত্রের সাথে অন্তরঙ্গ দৃষ্টি বিনিময়
হাল্কা হতে থাকা শরীর দুলে উঠলে
অদৃশ্য ডানায় এক লৌকিক উদ্যান
ফুল তুলে নিয়ে গেলেও সঞ্চিত ঘ্রাণ বাতাসে
সবুজ পাতায় বিষাদ, বিচ্ছেদের কষ গড়ায়  
সিঁড়ির ল্যান্ডিং দিক বদলে ছুঁয়ে ফেলে মাটি
বুকে পিঠে শূন্যতা জড়িয়ে ঘুরে যায় পৃথিবী
নাগরদোলায় বসে নির্ভুল মেরুন টিপ আঁকো
নির্দিষ্ট পেরেকে ঝোলানো বাজারের ব্যাগ
মেঘের পর্দার ফাঁকে চাঁদের উঁকি ঝুঁকি
বারোমাসে তেরো পার্বন আঁচলে বাঁধা অসুখ

অমল বসু

রাহুল গাঙ্গুলী



কবিতা (কবিতার ল‍্যাব)




১টি মধ্যবর্তী বাওয়াল
                   - ও তোমাদের জন্য কিছু কথা


দুপুর ১-৪৪

এই মুহূর্তে ১টা চেয়ারে বসে।ভাবছি সম্রাট শাহজাহান হলে বেশ হয়।হুহুম্ না হুহুম না।সুর করে বেপরোয়া অটোগুলো ফ্লেক্সি হচ্ছে।এ একেবারে নিখাদ ফ্লেক্সিবল্ সমুদ্রপাত।গাওয়াই যায় : সমুন্দর মে নাহাকে, অউর ভি : নমকিন হো গ্যায়ী হো।এইসব শুকনো পেটের বিলাপ্ ~ সব নকুলবিদ্যা বুঝলা হে।এখানে কোনো ধরতক্তা মার পেরেক নেই।নেই : শুরু বা শেষ করার মতো তলঠাপের চাপ।অতএব, নাঙ্গাবাবা পার করেগা মার্কা খোল-কত্তাল নিয়ে ভিগিনানা ভিগিনানা গুহাপ্রবেশ।হ্যাঁ জন্ম নেওয়াটা জন্ম দেবার চেয়ে কঠিন কাজ, কারন ওটাই প্রয়োজনীয়।হোক কত্তা মাতাল লম্পট ভোগী কামুক : অমন জরে জারক হবোই হবো।সো : কাম সেক্সি কাম ~ কামশট ~ শর্টকাট ~ শাটলকক্ ~ শার্টবিট : চাড্ডি জাঙিয়া / বেলুচিস্তান।চুলোয় যাক দেশ বা বিশ্ব-বাজার মুংফলের আদি খেউড়কথা।কেবল মাঝরাতটা আড়াআড়ি কেটে তারাগুলোকে হজম করতে পারলেই হলো।তা সে যেরকমটাই হোক : জাহাজের খালাসী বা আদার ব্যাপারী ~ আদ্যন্তে হ্যাঁ হুজুর জো হুজুরের বাত্তিগুল করা কথা।মুরগি ডিম পাড়ছে।হাক্কা চাউয়ের প্লেট থেকে ছানা মুরগি গুড়গুড়ি করছে।ধেনো মুরগি ডানা মেলে স্যাটেলাইট সাজাচ্ছে।বুনো মুরগি শরীরের পরীক্ষা করে বলে দিতে পারছে ওপেন থেরিয়ামের প্লেটলেট্ জামার ঘনত্ব।ঠিক যেমন ঘন্টাখানেক বাওয়ালীর বকমবকম্ পর ৩ ঠ্যাঙা মুরগী কোঁত পেড়ে বলছে "আব্বে এ হালকাট্ ~ থোড়া জিন্দেগী তো জীই লেও"।



সন্ধে ৬-২৮

এই মুহূর্তে জ্যাবজ্যাবে ঘামের প্রাধান্য শবদাহ পেরিয়ে ১প্লেট হাক্কা চাউয়ের দোরগোড়ায় প্রবেশ।
ডবল্ আন্ডা।চিকেন।নুডলস্।তাদের বিস্ফোরক পাখনা।এখানে চিকেনটুকরোগুলো লাল-লাল।লাললাল রোশনাই ~ লালটুকি ~ টুকটুক ~ টুকিইই।ঝান্ডা উড়ছে মেহগিনি পতাকার বনিয়াদ।আর তার সাথে আমাদের সাপ ~ শাপমোচন খেলা।উল্লাসে ফেটে পড়া লাইটহাউস : স্টিকারভর্তি জোয়ার এনে দেয়।বিষ্ণুপ্রিয়া : নাভি ~ নাভির আকার ~ ছায়ার চেয়েও বড়ো শাঁখ।জানি : এইসব অন্ত্যজ গুরুচণ্ডালী হল্কা কথায় চিকচিকেন নিতান্তই একপেশে।তবুও বিশ্বাস করো পরীক্ষার খাতায় স্রেফ শামুক-ই আঁকতে পেরেছিলাম।জটিল ইন্টারসেকশন ~ জড়াজড়ি করা ফরসেক্ ~ রম্বস পায়ের আত্মরতি-ঘুঙুর।আচ্ছা এসব নিয়ে কোনো কবিতা কবিতা কি লেখা যায় না?নাকি সেটা এজলাসের নিয়মবিরুদ্ধ সমীকরণের অনাবশ্যক ইলাস্ট্রেশন্।তবুও ধরেন কেনে লেখাই হলো তাধিনধিনা তাধিনধিনা মার্কা ছি ছি এত্তা জঞ্জাল : লেখাটি কতোটা শব্দভেদী অমোঘ ~ কিছু সংশয় থাকবেই থাকবে।এমনও তো হতে পারে : লেখা ঘামছে ~ ইল্লে পো : কবিতার ঘাম ~ মেহেরীন ঘামচামড়ার দেশী ভিনটেজ ধেনোগন্ধ ~ আকরম্ বকরম্ বম্বে বো ~ ফাটিচার সমাংশের জুভেনাইল পরিচিতি ~ বাগেরা বাগেরা।আসলে হাভস্ কি মাফিক্ সবই ঠনঠনিয়া মাফিয়াগিরি দেখানোর শীতকালীন লোভ।কবি আসেন : লেখেন : টুকরো টুকরো কবিতার ভরবেগে কাচের বোতল ফেটে যায়।কবি আসেন : ভাবেন : মগজটা বনবনিয়ে গাঢ় পেট ছাপিয়ে উপচে অ্যাড্রিনাল পাতন।অতএব হাহুতাশ প্রজাপতির ৯ম সিম্ফনি ~ মেঘভর্তি বেহালার বেহুলা-বেহুলা থকথকে কোরাস্


রাত ১০-২২

আহা।কি মুহূর্ত ~ জানু মেরি জান্।মেরিগোল্ড ~ হো - গোল্ডেন টিকচা টিকচা দুপুর।যখন জানতে / মানতে পারি ~ পামপম্ কমলা ফল্লী।হ্যাঁ, তেলেগুতে ফল = ফল্লী।এমনকি জীও পাগলামো ~ হাইওয়ে মাইলেজ্ ~ হাউমাউখাঁউ ~ কোনো ১ কোমাকুম বরবটি জানলার {তমসো বউ জ্যোতির্গময়ওো}
অবশ্যই আমার শরীরটা ১টি দেশ।সীমান্ত আক্রমণে আমিও দেখাতি ঝুনঝুনিয়া নবোত্তম পানুগ্রাফ।কেলাবে আবার বলবে : কিসকি খাতে মে ডালু ~ মেরে জোহফিনিয়া।তোমাদের আদিম লিঙ্গ : কৌতুহলী নয় ~ বেশ তো গামাগামা টটেলিরিয়ান্ বাঘছাল ঢাকা ৩৬-২৪-৩৬।হরিপ্রসবে মটরদানা ভাসে ~ মরদাঙ্গি চুনচুনিয়া চুনকুচুনকু চু চুঁচিকথার হামবড়াই।আর ০ থেকে ১০০ বললে দাদাগিরি গ-গুগলী।অতএব, ধরি মাছ ~ মাঙ্কু পানি : মাল-মাঞ্জা বকমবকম্ ~ উপড়ে ফেলছো ল্যাম্পপোস্ট। প্রিয় পাঠক্ এখনো কমকমাদি কমোডের অ্যাডভেঞ্চারে।ধ্যুর বাল [ কাটা চুল ট্রিমিং] ~ কুমকুমে মুক্তি পাচ্ছে মাম্মার পিন্ডি।মিঠুন কাটে জুলপি খুলছে লং মার্চ।শুয়োর ~ সেক্সি ~ মোটা গাঁড় ~ ভরাডুবি : এঃহে হিপনোটাইট সাহিত্য মারাতে মারাতে বর্ষাবরনের খিমচু-খনি।
দেখেচো ~ বলেছিলাম : আল্টিমেটলি তোমার উলঙ্গ গরুর মাংসে : খেলাপ্পাস্ মহতেরমার সিডিউস্।পর্ণফিল্প বানাই ~ সূর্য : কুন্তি : গালাগাল্লম্ চিনির রোগ।সুতরাং ঢাইঢাচিনা পমেরুপমা স্বর্গ-মর্ত্য-বেশ্যালয়।সবকিছু শুষে নেওয়ার পর : বীর্যপাতের সময় থাকে না।কাগজের পিস্তল ~ ফায়ারিং স্কোয়াডের অভিনয়।মিছিল : চলছে চলবে ~ আগুয়ান গ্যালিলিওর হাতমৈথুনের সিলেবাস



শব্দরূপ : রাহুল


অর্ণব গরাই




লিমেরিক



১)
ভজারাম বলে তবু পেটুক সে নয় ভোজনে
মাংসটা স্বাদু হলে খায় শুধু কিলো দুই ওজনে
পায়েসটা মোটামুটি
কাঁচা খায় বরবটি
শরীরটা রাখতে ভালো ডিম খায় দুই ডজনে ।


২)
মরিচিকা

অভাবের ঘরে ভালোবাসা কপর্দকহীন শুন্য
বেকারের ভালোবাসা বড়লোকের মেয়ের জন্য
লোকদেখানি ভালোবাসা
মরিচিকাময় রংতামাশা
খুঁজিস কেন পরশপাথর পাগল হয়ে হন্যে ।


৩)
পিরিতি আঁঠা

প্রেমের খেয়াল যেই না এলো মনের কোনে
অমনি চোখে সর্ষেফুল,এবার যাবি কোনখানে
প্রেমের আঁঠা চিটচিটে
বাচ্চা কোলে ফুটফুটে
ঝগড়া চেপে হৃদমাঝারে পিরিত করি একমনে ।

৪)
ইচ্ছে ডানা

ইচ্ছে করে যায় ওড়ে নীলআকাশের মধ্যিখানে
পাখীর মত ডানামেলে উল্কাপাতের সন্ধিক্ষনে
চাইতুম সব ইচ্ছে মত
অপূর্ণ সব ইচ্ছে যত
পেতাম যদি ইচ্ছেডানা দিতাম মিলে গগনপানে ।




হাইকু


১)
চার বছর
অবয়বে বসন্ত
নারী প্রস্তুত

২)
ক্ষুধার্ত চোখ
নেকড়ের নজর
শিকার চার


৩)
অথ সমাপ্তি
এক কামড়ে শেষ
প্রাপ্য ডেঙ্গুশ্রী ।

৪)
অজানা জ্বর
ভেকধারী ডাক্তার
অঙ্গুলীদৃষ্ট ।

৫)
মদের গ্লাস
কবি ডুবে প্রেমে
ছন্দ পতন

৬)
উর্বশী জেগে
শকুনের নজর
কৃষ্ণ উধাও

৭)
বিস্মৃত স্মৃতি
শুষ্ক গোলাপ হাতে
বিক্ষিপ্ত মন

৮)
উর্বর জমি
ইচ্ছে মতন চাষ
মা অন্তসত্বা

৯)
হঠাৎ প্রেম
নিছক ভালোবাসা
না যৌন সঙ্গী

১০)
রাজনীতিক
উন্মুক্ত বাতায়ন
মৌমাছি ভোঁ ভোঁ

১১)
নিস্তব্ধ পথ
আলো আঁধারী রাত
বিবস্ত্র লজ্জা

১২)
মানুষ পশু
আচারে ব্যবহারে
তফাৎ কম


আরণ্যক



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)




পাট

বাতাসে মিশে আসা পাটের গন্ধে
বাবার শিরীরের সৌরভ পাই,
পাটের শরীর বেড়েছিলো বাবার বিন্দু বিন্দু ঘামে!

পাটের চাঁপায় ভায়ের মৃত্যুতে শোকার্ত মা কেঁদে বলেছিল, "আর পাট বুনতি দেবো না"
আমি কম্পিত কণ্ঠে বলেছিলাম- হন্তারক পাট!

যার প্রতিটি আঁশে লেগে আছে বোনের আঙ্গুলের স্পর্শ!
ছাড়ানো আঁশে এঁকেছিলো সে একটা লাল শাড়ির স্বপ্ন-
ক্ষুধার সভায় মা বলেছিলো,
সামনে বার পাট উঠলে আমাদের ক্ষুধার কষ্ট হবে না,সখিনাকে কিনে দেবে একটা টকটকে লাল শাড়ী।

হায়রে বন্ধকী জমির পাট!
যার ঘামে বেড়ে ওঠো তুমি তাকেই বাঁধো ঋণের দায়ে।
তুমি বেঁধে রাখো একই আঁশে জীবন ও মৃত্যুকে!





ছায়া-মানবী

কাল অনেক ঘুরেছিলাম-
রোদ্দুর থেকে মেঘ ছায়ায়;
ফুটপাত থেকে রাজপথে;
বহুজন থেকে নির্জনে।
একটি মানুষের মতো ছায়া ছিল সাথে!

অজস্র বন পেরিয়েছিলাম - অশোক, তমাল, হিজল আর কত কি!
জারুল আর চালতার ছায়া ছিল অন্ধকারের মত।
আর দুর্বোধ্য এক নিশ্বাস ছিল আমলকী বনে।
সে ছিল নিশ্বাসের দূরত্বে!

বেণু আর বেত বনে কাঁটা আর পাতার মাঝে রাত্রির অন্ধকার,
আমি থমকে গিয়েছিলাম সবাক আহবানে-
অন্ধকারে তাঁর বড় ভয়!
যে অন্ধকারে অসংখ্য প্রেমিক যুগলকে আমি লীন হতে দেখেছি!

গাছের লতায় ঝুল খেতে খেতে ভেবেছি-
এই বুঝি পেলাম স্পর্শ তাঁর!
কিন্তু ছায়া মনবী থেকেছে ছায়ার দূরত্বে।
আমার বিচ্ছিন্ন আঙুল চেয়েছে তার তালুর স্পর্শ।
কিন্তু ছায়া-মানবী থেকেছে ছায়ার দূরত্বে।





শাশ্বত সন্ধ্যা

ষোড়শীর দেহের মত সূর্যের শেষ হাসিটুকু
বেঁকে পড়েছে বেগুনের শিষে,
কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা নামবে আমাদের জনপদে।

ধানক্ষেতে ঝিঝিপোকাদের উল্লাস ধ্বনি ঘোষণা
দেয় আর একটা রাতের।
শাশ্বত শান্তির নিশান উড়িয়ে ঘরে ফেরে বলাকার দল
জনহীন প্রান্তর ছাপিয়ে কুয়াসারা আসে বিষাদের সুরে।
দূরন্ত ছাগ শিশুর নরম ক্ষুর-
উড়ন্ত ধুলোদের পেছনে ফেলে ছুটছে আপন নীড়ে ।
গ্রামের সীমানা পেরিয়ে ভেসে আসা আযান ও শঙ্খ ধ্বনিতে ধ্বনিত এক অঘোষিত সাম্যের সুর ।

ঘাস ফোড়িংগুলো নরম ঘাসের সিংহাসনে
বসে প্রচার করছে একক কতৃত্ব।
সন্ধ্যার প্রথম চন্দ্র পানে তাকিয়ে বুড়ো
বাদুর ছুটছে জীবনের আহ্বানে ।
প্রত্যাহ সন্ধ্যা নামে এখানে,
কতটা সন্ধ্যারই বা সাক্ষি এ দুচোখ!





একজন রহমআলী

কপালে এলোমেলো কয়েকটা দাগ
ভাজ পড়া দাগগুলোতে দুশ্চিন্তারা কারাবন্দী।
কাঁচাপাকা দাড়িগুলোতে আনাড়ি হাতের হালচাষ
ঢলে পড়া ঘাসের মত মলিন মুখ ঝুঁকে থাকে মাটির দিকে।
কাস্তেটা তুলে নেয় হাতে;
বিড়ির উচ্ছিষ্ট অংশ ফেলে দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ে আকাশে।
যত্নে চালায় কাস্তে জমাটবাঁধা মাটির বুকে
বেশিক্ষণ আর চলে না-
কি করে পাঠাবে টাকা!
বাজারে যায় না ভয়ে, যদি পাওনাদারে ধরে
কার কাছে যাবে আবার?
পাওনাদারের চোখ শকুনের;কথা ধারালো ঈগলের নখের মত !

কাস্তেটা বোগলে চেপে
আস্তে আস্তে পা চালায় পাশের ক্ষেতে;
ছোটভাই চাষ করে সেখানে।
সমস্ত লজ্জা পায়ে ফেলে রহমআলি বলে-
"ছাওয়ালের বড় অসুখ শহরে,
ভার্সিটিতে যাতি পারে না কয়দিন।
কিছু টাহা না পাঠালি যে হচ্ছে না ভাই।
কিছু টাহা ধার দে -
দরকার হলি বাগুনির ভুঁইডা তুই নিস।"

কথাগুলো বলতে কণ্ঠ কেঁপে ওঠে তার-
বাবার লজ্জায় আত্মহত্যা করে ঈশ্বর!

জয়দীপ রায়



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



নিষিদ্ধ করিডর

বুট পড়া  খট খট শব্দ গুলো
          হঠাৎ ই থেমে
    পিছন থেকে ভেসে এল
 ওখানে যাওয়া নাকি মানা

  শ্যাওলা মাখা শুন শান
    দুপুর গুলো নিরক্ষীয়
         গা ছম ছম
   আচমকা বৃষ্টি ভেজা

 প্যাঁচ প্যাঁচে কাদা মাখা
  রাতে থ্রু ডিনার পার্টি
   পৈশাচিক হাক ডাক
   আতসে পড়ল চোখ

  চিৎকার ঃ কে ওখানে ?
 রোয়াকে কার আনা গোনা

নিষিদ্ধ করিডর ব্যাপী ঃ অসংখ্য স্কেলিটন
      রাত বিরেতে হাতড়ায়
  খিল খিল শব্দ   প্যানডোরা বক্স
  অ্যানাবেলের     মাঝারি দুনিয়ায়
                                           




পকেটমার

জানলা দিয়ে ধেয়ে আসা
বানিয়ে বলা শব্দ গুচ্ছের
অহেতুক
       জ্বা
        লা
        ত
        ন
ছায়া মানুষ    হাত পা নেড়ে
 ওরা ক্ষুদার্ত আলাপণ
চোরা গলি     ইকো কনর্সান
    একটু সাবধান
আমরা  “পকেট”
       মা
       র


জয়দীপ রায় 

বর্তমানে সাহিত্য চর্চা,
(এম এ) করছি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে

উত্তর কোলকাতার পাইক পাড়ায় থাকি ।কবিতা লিখতে ও পড়তে ভালবাসি। প্রিয় কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় ও জয় গোস্বামী।