এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

ডঃ মীনা মুখার্জী




কবিতা (সাধারণ কবিতা)




" রাত জাগানিয়া কড়া নাড়ে"


                       (১)
ফেলে আসা দিন গুলো প্রেম সঙ্গে করে
ময়ূরাক্ষীর তীরে এখনও অপেক্ষায়৷
হয়তো বা রঙীন ফোয়ারা ছড়ায়৷
          ঝুলে পড়া সূর্য্যটা
                  গোধূলির ছায়া মাখায় জলে৷
অফুরান ক্লান্তি আর অনুতাপ ধাক্কা মারে
                   আঘাটায়,অবেলায়.........


                       (২)
   
যখন মাঝরাতে প্রতিদিন কবিতা শোনাতাম                       তোমায় .....
তখন পূর্ণিমার চাঁদ উঁকি মারতো জানলায়,
                                     হয়তো বা ঈর্ষায়......!
চন্দ্রদহনে ঠিক তখনি
             ঝপ্  করে আর একটা প্রেম
                      এলো জ্যোত্সনা মেখে
                                জোনাক ডানায় !


                        (৩)

সারাদিন নিঘুম আজকাল ,
           গোটা রাত ও মত্ত অভিসারে......
                       প্রেমের কবিতা  হাতে.......

আকাশে বিক্ষুব্ধ ঝড়  .......
                মহুল ডালে দোয়েল ফিঙ্গে......

সব ভালবাসা ছুঁড়ে—— প্রিয় !
                  কি নিষ্ঠুর না-চেনার ভান !
        


                         (৪)

উষ্ণ -বীজ উত্তাপ নিয়ে
             বাঁচার এক গঙ্গা সাধ—
অথচ সে রক্তে কত নীল বিষ......
আহা তোর দ্যুতিমাখা চোখে জল
                        —ঠিকরে বেরোয়....
আমি স্বপ্নেই ডুব দিতে চাই৷


                       (৫)

প্রতীক্ষায় স্থাণু হয়ে থাকা———
                   সে কল্পনারা
একযোগে বিদায় নিতে চায়৷

আমার ডানায় কি জীয়ন কাঠি?
           স্বপ্ন বালা
এক সকাল রোদ মেখে,
        ফিরে যা রংছুট দিনের মাঠে.......৷






অণুগল্প




"খুঁজে- ফেরা"
          
        অকুন্ঠিত শিশুর সুরেলা স্বর,বিস্মিত আমরা সাত সকালে৷
       —বিস্কুট দাও ন৷
     বাইরে গিয়ে প্রশ্ন করি—
     —স্কুলে যাসনি কেন ভূত?
      —ল্যাট হ্যল্যোঁ যে৷তুমরা ঘরে থাকবেক ন৷
      —নাঃ ,বিবেলে আয়৷
      —ক্যানে দাদা?
      —দাদা ভাঙ্গা পা নিয়ে দৌড়তে পারবে না বাবা৷

     বাবা,মা ও দিদির না ফেরার দেশে যাওয়ার পর প্রায়ই এ আস্তানায় তার আর্বিভাব হয় ,দুধ-বিস্কুটের লোভে৷ইচ্ছেমত উদরপূর্তির পর বহু কষ্টে স্কুল পাঠানো হলো তাকে৷উদোম নাচন করতে করতে মিনিট কুড়ির মধ্যেই আবার আগমণ ভূতোর৷
         ক্র্যাচে ভর দিয়ে রজত দরজা খুলে আশ্রয় দেয় জ্যান্ত সরল নিষ্পাপ ভূতটিকে৷
       —চলে এলি যে?
       হঠাৎ গর্জে তাকায় দাদার দিকে ৷এক নাগাড়ে প্রশ্নরাজির তীক্ষ্ণ বাণ ছোঁড়ে সেই ক্ষুদে!
        —থাকবক নাই ইঠিঁয়ে হামি৷তুরা হমকে পাচার করবি৷মোর কিটনি বিকবি লয়?
       —ওঃ বাব্বাঃ বড্ড পাকা দেখছি তুই!
       —তা বল্ কেন চলে এলি?
       —হমকে খিচড়ি ভাল লাগেনি৷সুবাই পছরায় হমকে তুর দিদির কি হঁয়্যেছিলি?মিস বলেক—
    —হতভাগা সুবার মাথা খেলিস৷
   — তু বল তো দাদা হামি কি উয়াদের মাথা খালি?তুরা কত রকত চড়ালি তাও তো দিদি মরলি!
   
      রজতের স্মৃতির ক্যানভাসে বিভিন্ন রঙের আঁকিবুকি৷কোন্ মর্মর অরণ্যে ভূতোর পথ গেছে হারিয়ে,কোন্ বাঁকে?শরাহত পাখার সকরুণ স্পন্দন ধ্বনি স্পন্দিত বিধাতার প্রতি৷পুন্জিত আর্তনাদ মৃদুল বাতাসে রণিত রজতের গুন্জনে——
     "আজ আকাশের মনের কথা ঝরোঝরো বাজে..
      সারা প্রহর আমার বুকের মাঝে "!!!!
      উদ্ভ্রান্ত দু 'চোখে মা-বাবা-দিদির খুঁজে ফেরা কবিতা গাথা!!!




ডঃ মীনা মুখার্জী

রবীন বসু



অণুগল্প



অন্য দোল

তাড়াতাড়ি পা চালাচ্ছিল সবিতা।

পাঁচ বাড়ি কাজ সারতে অনেক দেরি হয়ে গেল। শেষের বাড়িটাতে বেশি দেরি হল।আগের দিন ছুটি চেয়েছিল। বলেছিল, ‘মাসিমা, কাল দোল, ছোট ভাইটাকে নিয়ে রঙ খেলব l কাল আর আসব না l’

ঝাঁঝিয়ে উঠেছিল বসাক গিন্নি l—’থাকিস তো ফুটপাতে, তায় আবার দোল? ছুটি নিতে পার, তবে আর কোনদিন কাজে আসতে হবে না l টাকাও আর পাবে না l’

অগত্যা আসতে হয়েছে l ভাইটা হয়তো হাপিত্যেশ করে বসে আছে রঙ খেলবে l কাল রাতে এনজিওর দিদিরা এসে আবির রঙ সব দিয়ে গেছে l ওই দিদিরাই তাদের ‘আলোর পরশ’ ইস্কুলে ভাইকে ভর্তি করে নিয়েছে l আর জামাপ্যান্ট দিয়েছে l  সবিতাকে বলেছে, রাতের বেলা  হাতের কাজ শেখার যে কর্মশালা হয়, সেখানে ভর্তি  করে নেবে l লোকের বাড়ি এঁটোবাসন মেজে, ঘর মুছে আর ক’পয়সা পায় l ভোরবেলা উঠে কাগজ প্লাস্টিক কুড়িয়ে কিছু পায় l কষ্ট করে ভাইবোনের চলে যায় l

পার্কের পাশের ফুটপাথে পরপর দুটো স্ট্যাচু আছে, তার মাঝখানে একটু ছাউনির মত, সেখানেই থাকে l  বাবা মারা গেছে ছ’বছর হয়ে গেল l দেনার দায়ে বাস্তুভিটে যখন চলে গিয়েছিল,  বাবা নামখানার গ্রামের বাড়ির পাট চুকিয়ে তাকে আর মাকে নিয়ে কলকাতায় চলে এসে দেশপ্রিয় পার্কের লাগোয়া এই ফুটপাতে আশ্রয় নেয় l শিয়ালদা ইস্টিশনে মোট বইত l এখানে আসার পর ভাই হয় l কিন্তু ভাইকে ফেলে উলটো ফুটের একটা লোকের সঙ্গে মা যেন কোথায় চলে গেল l আর ফিরল না l বাবা ক’দিন গুম মেরে থাকার পর মদ খেতে শুরু করল l এখানে ওখানে পড়ে থাকত, শেষে একদিন বাসের চাকার তলায় চলে গেল l তখন ওই কুসুম বৌদি হাত ধরে বাবুদের বাড়িতে কাজে ঢুকিয়ে দিয়েছিল l প্রথম প্রথম ভাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজে যেত l সে সব কথা ভাবলে এখনও চোখে জল আসে l

সবিতা আরও জোরে হাঁটে l বয়স বাড়ছে তার, শরীর জানান দিচ্ছে l খোলা ফুটপাতে আর থাকা যাবে না l ভাবছে টাকা জমিয়ে বস্তিতে একটা ঘর ভাড়া নেবে l ভাইকে মানুষ করবে l একটা দমকা বাতাসে আচমকা অনেকগুলো লাল শিমুল ফুল ঝরে পড়ল পিচ রাস্তায় l সবিতা কুড়িয়ে নিল ভাইকে দেবে l আজকে খুব দোল খেলবে পার্কের সব বাচ্চাদের সঙ্গে l

কাছাকাছি আসতে সবিতা দেখল পার্কের একপাশের ফুটপাতে ভিড় l ওর বুকটা অকারণ ছ্যাঁৎ করে উঠল l কাছে গিয়ে দেখে ভাই ফুটপাথে পড়ে আছে l চোখ বন্ধ l গোটা প্যান্ট রক্তে ভেসে যাচ্ছে l জড় হওয়া ফাটা, কানু,মঙ্গল ওদের কাছে জানতে চাইল, ভাইয়ের এ অবস্থা কেন?

ওরা বলল, ‘একদল ছেলে মদ খেয়ে রঙ মেখে ভূত হয়ে পার্কে এসে হই হই করছিল l আমাদের ডেকে লজেন্স দিল, তারপর একসময় বিট্টুকে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেল l ওরা ইংরেজিতে কথা বলছিল সবিতাদি l অনেক পরে আবার হুস করে গাড়ি নিয়ে এসে বিট্টুকে ফেলে দিয়ে চলে গেল l’

সবিতা অসহায়ের মত ভাইকে কোলে তুলে নিয়ে এনজিও দিদির অফিসের দিকে ছুটল l তার বুকে হাহাকার, চোখ ফাটা জল l

এনজিওর ডাক্তারবাবু  রক্তাক্ত বিট্টুকে পরীক্ষা করে গম্ভীর গলায় বলল, ‘অ্যানাল রেপ l একে এক্ষুণি হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে l আর পুলিশকে জানাতে হবে l’

বাইরের পৃথিবীতে তখন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়া বাবু-কলকাতার ছেলেমেয়েরা অন্য দোল খেলায় ব্যস্ত !

রবীন বসু
189/9, Kasba Road, 2nd Floor,
Flat no. 5
Kolkata—700042,
Ph- 9433552421
e-mail: rabindranathbasu616@gmail.com


অভিষেক মিত্র





কবিতা (সাধারণ বিভাগ)




ইনফিনিটি

পঁচিশ তলা, রসায়ন ল্যাব।
বসন্ত ফিরে আসে, ‘উইথ এ ব্যাং,’ – দেখ পৃথিবী!
তারপর, দুনিয়ার চারটে দেওয়াল ঢেকে দেয় রঙিন কাঁচে;
সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে একাকীত্বে, সঙ্গী হেডফোন আর ই-টিভি।

আমিও কান পেতে শুনি। ছোট্ট ছেলেটার
ক্ষুধার্ত চিৎকার, ‘সন্ধ্য প্রতিদিন, সান্ধ্য স্টেসম্যান,’ - শুকনো,
সবাইকে ঘিরে থাকে ঐশ্বরিক ইলেক্ট্রো-ম্যাগ্নেট।
নোংরা কথা, চলে যেতে না চাওয়া, নীচে স্টিরিওটাইপ ফুটনোট।
আর ঝর্ণাগুলো, ভিনগ্রহীর মত বসে থাকে বর্ডারে।
দেখে সূর্যাস্ত কিভাবে বদলে দেয় সৌন্দর্যের সংজ্ঞা।
কি কল্পনা! পারি না!
একটা শূন্যতা ছড়িয়ে পড়ে, আস্তে আস্তে
জীবনটা মুহূর্তে বদলায়, সুদীপ আর জারিনার...

তাকিয়ে দেখি চারিদিক,
একটা নতুন কান্না – বুলেটের মত ছুঁয়ে যায় দেহ, গির্জায়;
সবাই ব্যস্ত কানের হেডফোনটা নিয়ে,
নাড়িভুঁড়ি ছড়িয়ে আছে রাস্তায়, মৃত্যুটাও অল্প একটু ভিড় চায়...

আজ ডিএনএ-গুলো, ভিন্ন হয়েও এক,
আজকে আমরা সবাই নিম্ফোম্যানিয়্যাক।






অনুগল্প




হাত

ডাঃ সান্যাল গলায় ঝলানো স্টেথোটা টেবিলের উপর রেখে বললেন, “না, আপনার রিপোর্ট একদম নর্মাল। যদিও সিটি স্ক্যানের রিপোর্টটা পাইনি এখনও তবু...”

টেবিলের উল্টো দিকের চেয়ারে মাথা নিচু করে বসে ছিল শুভাশিস। আস্তে আস্তে বলল, “তাহলে ডাক্তার বাবু?”

“আমার মনে হয় আপনি একবার কোন সাইক্রায়াটিস্ট দেখান। এটা শারীরিক রোগ নয়। আমার এক বন্ধু আছে ডাঃ কার্তিক মল্ল, তাঁকে বরং একবার ...”

ডাঃ সান্যালের কোথা শেষ করতে দিল না শুভাশিস, প্রায় চেঁচিয়ে উঠে বলল, “আমি পাগল নই ডাক্তারবাবু। আমি পাগল নই। আপনারা কেন বিশ্বাস করছেন না? আমি সত্যি বলছি, আমার হাত দুটো আমার কথা শুনছে না। আমার হাত দুটো যেন দুটো আলাদা এন্টিটি। আর এইটা শুরু হয়েছে গত হপ্তা দুয়েক। আর এই দু হপ্তায় আমার বিরুদ্ধে তিনটে এফ আই আর হয়ে গেছে। আমার বন্ধুকে প্রায় মেরে ফেলছিলাম আমি। আর পারছি না ডাক্তারবাবু, আমি আর পারছি না...” এই বলে মাথা হেট করে কাঁদতে লাগোল শুভাশিস।

এই ঘটনার আরও দু সপ্তাহ কেটে গেল। নতুন ডাক্তার আর নতুন ওষুধ খেয়েও কোন ফল হল না। নিজেকে ঘরের মধ্যে সারাদিন আকটে রাখে শুভাশিস, জনসমক্ষে গেলে পাছে কারুর কোন ক্ষতি করে ফেলে ওর ‘হাত’ দুটো।

‘কিন্তু আর না,’ মনে মনে ভাবে ও, ‘এই ভাবে বেঁচে থাকার থেকে মরে যাওয়া ঢের ভালো।’

সেদিন সন্ধ্যের দিকে শুভাশিস ধীর পায়ে এগিয়ে গেল ওর বাড়ির লাগয়া কাঠের কারখানাটার দিকে। তারপর সুইচ টিপে চালু করে দিল ‘টেবিল স’ টা (Table Saw)। ঘড় ঘড় শব্দে চলতে লাগল যন্ত্র। চোখ বন্ধ করে অনেক কষ্টে হাত দুটো এগিয়ে দিল মেশিনটার তলায়।

লালবাজারের সিনিয়ার ইন্সপেক্টর মিঃ নাগ কারখানাটায় ঢুকেই রুমাল বের করে নাকে চাপা দিল।  ওনাকে আসতে দেখে সাব-ইন্সপেক্টর এসে বলল, “যাচ্ছে তাই ব্যাপার স্যার। নিজেই নিজের হাত কেটে ফেলেছে টেবিল স-এ। আর তারপর অত্যাধিক রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু।” তারপর একটু থেমে বললেন, “আর একটা অদ্ভুত ব্যাপার, লোকটা হাত তো কাটলো কিন্তু হাত দুটো গেল কোথায়? এখানে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তো সে দুটোকে পেলাম না।”


*****

অভিষেক মিত্র
(সম্পাদক - অযোগবাহ সাহিত্য পত্রিকা,
ঋতুযান সাহিত্য পত্রিকা)
ঠিকানা ১ – D-2, Flat No – 504,
OCL New Colony,
Rajgangpur, Orissa – 770017
ঠিকানা ২ - c/o Dr. Pabitra Mitra, Nungi Station Road, Batanagar, Kol - 700140
ফোন - ০৯৪৩৮২০০১৯৮

সুপ্রীতি বর্মন



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)




ভিখারী

ছাইভস্ম একটি জীবন ক্লান্ত হাত পেতে ছেঁড়া কাঁথায়,
ঘুপচি জীবন কিংবা ফুটপাতে গড়াগড়ি পয়সার আওয়াজ ছন্দপতন ঝংকার ফুটো থালা।
গ্রহন গিলে খায় সংলাপ ভিখারী বৃদ্ধার ঝোলা স্তন,
শুকনো ছানা কাটা দুধ অভাব ধূলোয় মুখ মোছা শিশু।
GST এর চাপে মধ্যবিত্তর মাথায় হাত অপদার্থ সঠিক ভিখারীর মর্মাথ দিতে।
তাই বিকানো সখের হাহুতাশ, বহুরূপী সাজে কাজলের রেখায় সাহসী চোখের ঢঙ।
হাত পেতে তীর্থের সাদা কাক ঘরের চৌকাঠে,
ফেরারী চাতক, দাও দাও ভোট, তোমরাই আজ ঈশ্বর, আপামর জনতা আমার।
কাল দেবো তোমাদের অট্টালিকায় মুড়ে।
আজ ঠোঁটরাও পতঙ্গ হয় প্রজাপতির ভিখারীর ডানা,
ফিরে ফিরে হতভাগা যাচে তোমার মৌ জমা প্রতিশ্রুতির বিষ।
বিষাদে সূর্যপোড়া ছাই আজ চায় তোমার সঙ্গমের প্রলাপ।
চেনা বাঁশির পুরানো সুর সংসার নেই নেই হাততোলা বার্ধক্য পিতামাতা যথেচ্ছ সন্ততির ভোগ বিলাসিতা।
বেকারে ফোঁস ফোঁস বিষাক্ত সর্পের দীর্ঘশ্বাস,
খাতার পর খাতা রদ্দী পাশ ফেল ফেলে টাকার গদির ঘুষ।
চাই অর্থ চাই রোজগার সেই এক কানপচা স্লোগান।
না হলে দেনার দায়ে আত্মহত্যা, এযাবৎকাল পড়াশুনা ভস্মে ঘি ঢালা।


বইমেলা

চালচুলোহীন হাভাতে দোলা বাগদীর ছেলের কাছে,
তুমি নিষ্প্রয়োজন এঁটো চায়ের কাপে যাপনচিত্র।
সাঁঝ দোকানের ঝাঁপ ভবিষ্যত পাশ ফিরে শোয়।।

লেখক মন খাঁচার পাখি স্বাধীনতার আশাবরী রাগ,
ঝাপসা স্মৃতি টুকে রাখে অভিমানের ক্লান্ত বেলা।
টুকরো খন্ডচিত্র কান্নাহাসি পলকে ছারখার ধ্বংসলীলা।।

অপোগন্ড বন্ধুগুলো আড্ডা জমায় বোতল বেশি খোলে,
তুমি হলে বইপোকা পুঁথিগত বিদ্যায় মুখ গুঁজে।
ঔদাসীন্য কর্ণপাত বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে।
নিশিজল তোলা গৃহে বরন কুমোদিনী তোমার সংসারে,
শুধু কপালে জোটে তোমার মুখঝামটা।।

পলাশরাঙাভোর বইমেলায় আমি ভ্রান্ত পথিক,
ঝলসে উঠা বিলাসিতা অট্টালিকার পাতার পর পাতা,
ধামসা মাদল বুকে আনচান উন্নত সমৃদ্ধ জীবন।
মড়কলাগা গাছগাছালির হাঘরে জীবন বস্তাপচা রদ্দী তুমি,
আজ শুধু মানিয়ে নেওয়ার খেলা।
থুঁতনি ভাঁজে দাড়ি মানানসই জ্ঞানের সামঞ্জস্য।।

উথালপাতাল আধডোবা মন,
বইমেলায় জ্ঞানের ছড়াছড়ি ঘটা করে তোমার প্রদর্শনীর সংগ্রহশালা।
হাজার দুর্বিপাকে ছাপোষা মানুষ খাতার পাতায় ঠেসে,
তিল পরিমান দুষ্প্রাপ্য বই তোমাকে ঘরে এনে,
চিবুকে বসায় স্বপ্নের নৈঃশব্দ শিখায়,
উজ্জ্বল হাড়ভাঙা দ্যুতি।
ঘুম ভাঙতে নারাজ স্বর্ণালী আগামী,
ঐখানে তোর থাকার কথা, ঐখানে তুই থাক।।





অণুগল্প

চেনা শূন্যতা

একরাশ দমচাপা ক্ষোভ গুম খেয়ে কখন থেকে বসে। কিছু একটা টানাপোড়েন গায়ে পড়া উপচে আগন্তুক, ছাড়ো না বাবা একবার একলা, নিজেকে নিজের মতন গুছিয়ে নিই। খুটুর খুটুর ল্যাপটপে পাশবালিশ ঘেঁষটে, কি যে কর ঘাড় হেঁট একাগ্রচিত্তে? দৃষ্টি নিরীক্ষণে সংসার গোছানা স্বত্তা গুটিয়ে হাতটান রাশভারী, আজ অন্য দিনের তুলনায় তুমি বেশ ঝলমলে। বিধ্বস্ত ভাব যেন কোথায় গেছে উড়ে। কিছুতো বিশেষ আস্কারা আছে যা গুটি গুটি মননে দ্বন্দ্ব পরকীয়া, নেই ভ্রূক্ষেপ নিজ স্ত্রীর। বস্তাপচা কপচানো মুখভার দিনরাত সংসারে সঙ সেজে হেঁশেল আর দুধেলা বাচ্ছাদের ঝকমারি। গোলাপের প্রতিশ্রুতির প্রথম অঙ্গীকার প্রনয়,  সতেরো বার বলতে থেকে কাজ হাসিলে এখন অপ্রচলিত প্যাঁনপ্যাঁন তোমার আবদার। বয়স বাড়ছে এখন এসব কি আর মানায় যত বুড়ো বয়সের ন্যাকামো। দ্বন্দ্ব চলছে মনে আর সেই ক্ষত এখন শুকনো আঁচড়। তোমার মুখের এক কপচানো থেকে গলদঘর্ম অপ্রিয় সত্য ভাষনে পন্ডশ্রম । তোমার সংসারে করে কি লাভ? ভবিষ্যতের সিঁড়ি ভাঙা অঙ্কে হাত কাঁপানো,মাথায় চাপ কফিতে চুমুকে উষ্ণতায় মেটানো দায় বদ্ধ। কড়িকাঠ খোলা হাওয়া অবরুদ্ধ। করতে মন কোথায় তবুও একে অপরের দিকে তাকিয়ে বেমালুম কাটিয়ে দিলাম বিশ বছর। রাতের মধুচন্দ্রিমা এখন বাক্সবন্দী দুচোখ চেনা শূন্যতায় হাতড়ায় নিষ্প্রান কাল্পনিক শরীর। ঘরের মেঝে উঠোন সব আমার তিলে তিলে গড়া ছোট সংসার। হাড়পাঁজর কোন অচেনা আগন্তুক শ্বাপদের দাঁতের তলায় পিষতে থাকে গোছানো সুখ। চিরকুট হৃদয় রোজ লেখে চিঠি অবাক শূন্যতায়। তোমাকে কাছে টানবে আজ একটু কিন্তু তুমি সুগন্ধী সাবানের ঘেরাটোপে নৈশ প্রসাধনীতে মত্ত পরে নাইটিতে রজনীর যাপনচিত্র। হতাম যদি সুতো পুরানো গাঁটছোলার বস্তাপচা রদ্দি নয়। আঠালো রেশম গুটিসুটি বাঁধতাম বক্ষযুগল টানতাম রাশ শুনতাম হৃদস্পন্দন বক্ষে নিতাম আস্কারা। হতাম শৈশব স্তনপানে পেতাম প্রশয়। হতাম যদি প্রসাধন তোমার স্নিগ্ধ চুলে অঙ্গুলীচারনায় আলিঙ্গনে জটে আবদ্ধ নৈশিল মাদকতায়।

নিতাম চুম্বন লিপস্টিকের রঙীন বসন্ত প্রচ্ছদে হতাম পর্নমোচী পত্র পেতাম তোমার খোলা হাওয়া। দূর সবকিছু পাশে থেকেও অনতিক্রম্য একরাশ দুরত্ব। পিঠের শিঁড়দারা যেন লতানো মাছের কোমরের কাঁটা, শেষ লেশটুকু চেটেপুটে শেষ পাতে উপাদেয় ভোগ্য রাতে। পাতের কোনে সরিয়ে রাখি চুষে মাছের কাঁটা।দূর সবকিছুই চোখের বায়স্কোপে চলতে থাকা সিনেমাটোগ্রাফি।সব চরিত্র এখানে কাল্পনিক। অন্ধ প্রত্যাশার চোরাপথে গুপ্তহত্যা।মুখ বুজে অশ্রুজল বালিশের পাষানপ্রস্তরে স্রোতসিনী ঝর্না কুল কুল শব্দে তোমাকে চাই আমার কাছে বলে প্রতিধ্বনি চোখের কোলে জমায় মেঘ।ওদিকে তুমি নির্বাক প্রনয়াষ্পদ হীন খটখটে রৌদ্রদগ্ধ শরীর অবহেলায় নিজের কাজ গুছিয়ে বিশ্রামের কোলে পাশ ফিরে আড়িঠেস যেন অনেক আগেই সব প্রাপ্তি শেষ অপূর্ন সার্থকতায় ছাইয়ে চাপা পড়া ধিকি ধিকি আগুন। আমারো আছে বিনিদ্র রজনীর যাপনচিত্র ল্যাপটপের ক্যানভাসে অপ্সরা পরকীয়া। নিঃশ্চুপে ডুব দিয়ে তার নৈশিল মাদকতায় বাঁধতে লেগেছি তোমার পশ্চাদপানে অনভিজ্ঞ উচাটনে উন্মুখ প্রত্যাশা। আগুনের পরশমনি নিজ আয়োজনে নতুন প্রস্তুতি আগমনী বসন্ত অপরূপা অভিসন্ধি। শুকনো অজয় নদীর চরায় বৃষ্টি হয়ে অঝোর ধারায় ঝড়ে পরো আমার বুকে আমি পিপাসার্ত গলাফাটা চীৎকারে ক্রন্দনে চাতক। গাঁয়ের বকাটে ছেলে পুকুড়পাড়ে সন্ধ্যামনির সৌগন্ধে আর কচু পাতার টলমলে নধরকান্তির গড়নের ঝোপে আত্মগোপনে উন্মুখ উদাসী রোমান্টিকতায় আস্কারার উচ্ছাসে বেপরোয়া মন দূরে ডুব দিত সাঁওতাল কুমারীর সন্ধ্যাস্নানে। পূর্নিমার চন্দ্র ঢালতে লেগেছে জোৎস্না বাছবিছার বাদে শুদ্ধি স্নানে উষ্ণ প্রসবন এলোপাথারি চুম্বন আকাশের বাউন্ডুলে মেঘ এলোমেলো। কি অপরুপ সেই অঙ্গশোভা দিগন্তহারা পথিক অখিল আস্বাদনে কম্পিত সুধা রসময়ী। শিহরনে মৃদুমন্দ বাতাস অঙ্গুলীচারনায় আবদার ছোঁয়ার। পুলকিত তমসা কলসী কাঁখে ঘরে ফেরে আমাকে অবাঞ্চিত পিপাসার্ত রেখে দুচোখে কষ্টার্জিত কল্পনা তৃষ্ণা মেটায় আঙ্গিকে মিটিমিটি সমুদ্র

কনা দুচোখের চেনা শূন্যতায় আমাকে হারায়। আজ আমার বদ্ধ আতিশয্যে সমাজের স্বাক্ষরিত তকমার পরিনয় দমবন্ধ বিষাক্ত সাপ শ্বাসরোধ করে। দীর্ঘশ্বাসে ল্যাপটপের কোলে জমাটি ঘুম অর্ধস্বত্তা। চন্দ্রমা হারায় মধ্যগগনে মেঘের কোলে একদিন তো তুমি আমারি ছিলে। খুটুর খুটুর ল্যাপটপে কি করছো মাঝরাত অবধি শুতে যাবে না। হঠাৎ ভেঙে যায় আমার নিঃসঙ্গ জ্যোৎস্না একা চাঁদ একা রাত।ডানা মেলে বিহঙ্গ বলাকা উড়ে গেল সেই পুকুরপাড়ের পরিত্যক্ত তমসা বাকি রেখে। অচ্ছুত অস্তিত্ব।


সুপ্রীতি বর্মন।
পিতা: মানিক লাল বর্মন।
মা: তনুকা বর্মন।
নিবাস: সুভাষপল্লী, কালিতলা।
জেলা: বর্ধমান।
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
বিজনেস ম্যানেজমেন্ট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটারাইজড ফাইনানসিয়াল আকাউন্টিং।
একঘেঁয়েমির শ্যাওলা সরিয়ে সাহিত্যের জাগরনে নিপীড়িত সমাজের মুখে ভাষা যুগিয়ে লেখিকা হবার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চায়।
প্রথম প্রকাশিত একক গ্রন্থ: শব্দসাঁকো থেকে "হৃদয় সরসী"।
বার্নিক থেকে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ "কাতিলের চোখ"ও অনুকবিতার যৌথ সংকলন "মুখচোরা কবিতারা"।
এছাড়া সহযোদ্ধা ও সময় যখন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে আমার লেখা কবিতা ও রম্যরচনা।
আসন্ন প্রকাশিত যৌথ কাব্য সংকলন "হৃদয়ের সন্ধি বিচ্ছেদ সুর" ও "কবিতায় ভালোবাসা"। এছাড়া বেশ কয়েকটি পত্র পত্রিকা বাংলাদেশ ও ভারতে আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

** স্থানীয় পত্রিকা সময় যখন এ আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
** তরঙ্গ মাসিক পত্রিকায় বাংলাদেশের আমার কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।
** নদীয়ার সংবাদ পত্রিকায় পর পর দুবার আমার রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছে।
** শব্দসাঁকো ক্রোড়পত্রে দুবার আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

** আমি সাহিত্য জাগরনের প্রধান শাখায় কর্মরত, সাহিত্য সংগঠক আলোচকের পদে।
** এছাড়া বাংলাদেশের পানসীয়ানায় সম্পাদকীয় পদে।

** সাম্প্রতিক মধুকর পত্রিকার সম্মাননা পুরষ্কারে ভূষিত।

মানসী গাঙ্গুলী



কবিতা (সাধারণ বিভাগ)



প্রতিবাদ

মেঘে মেঘে আকাশ গেছে ছেয়ে
মনের মেঘ যে কালো তারও চেয়ে,
বড় হয়েছে ছোট্টবেলার মেয়ে
মনটা যে তার ছিল রঙীন হয়ে;
আজ সেটা বিষাদে গেছে ভরে
মনটা যে তার মনেই গেছে মরে,
সমাজ তাকে করেছে সমাজচ্যুত
আজ সে যে ধর্ষিতা নামে পরিচিত;
এ যে তার কত বড় অপরাধ
বুঝি ধর্ষিত হবার ছিল তার বড় সাধ,
ধর্ষকেরা বুক চিতিয়ে ঘোরে
মহান তারা মহান কাজ করে;
কালো মেঘ ঘনায় বুকের মাঝে
সইবে না সে মোটেই মুখ বুজে,
হতে হবে তাকে প্রতিবাদে সোচ্চার
আর কি বা হতে পারে তার!
সমাজ তো আগেই ফেলেছে তাকে ছুঁড়ে
না হয় সে থাকবে দূরে দূরে,
আরো কিছু তার প্রাপ্য হয়তো হবে
তবুও সে আর থামবে নাকো মোটে;
প্রতিবাদ তার গর্জে উঠবে জোরে
আকাশ বাতাস জুড়ে,
গুরু গুরু ঐ মেঘের সংলাপে।




সাত সাত আরো সাত

সাত সাত আরো সাত আর
আকাশের তারা গুনি নিরন্তর
আঁধার রাতে,অন্ধকারে
একাকী,চাঁদের সোহাগ মেখে গায়ে।

শুধু আকাশের চাঁদ আর
রাতের তারারা ছিল সাথে
ছিল না কোনো প্রিয়জন পাশে
সে রাতে।

গুণে গুণে রাত করেছি পার
তবু অপেক্ষার শেষ হল না আর
ঘুম ঘুম চাঁদ পাতল বিছানা
হল না আমার আর শেষ তারা গোণা।

হল না আমার অপেক্ষার শেষ
আমার মতই একলা ধ্রুবতারা
আকাশে রইল বেশ।




অণুগল্প



নিহত গোলাপ

     
            বাড়ীটার সামনে আজ ভিড়ে ভিড়,লোকে লোকারণ্য, সবার মুখ থমথমে। আর হবে না-ই বা কেন,ছেলেটির মিষ্টি স্বভাবের জন্য সে যে সবার প্রিয় ছিল,এমন ফুলের মত সুন্দর তরতাজা একটি ছেলে,আর এইতো টুকু বয়স, সবাই হায় হায় করছে।
         মায়ের বড় প্রিয় ১৬ বছরের সুনু, তিন দিদিরও খুব প্রিয় তাদের একমাত্র ভাই, দেখতে যেমন রাজপুত্রের মত, টকটকে ফর্সা, তেমনি মিষ্টি স্বভাব। ঘোরে ফেরে, মা মা করে। মায়ের মেয়েদের থেকে ছেলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব একটু বেশিই ছিল, তাতে অবশ্য দিদিরা রাগ করত না, তারাও যে ভাইকে খুব ভালবাসত। এবারে মাধ্যমিক দেবে সুনু, টেস্ট পরীক্ষা হয়ে গেছে। সেদিন ৩১শে ডিসেম্বর, বাড়ীতে পৌষমাসের লক্ষ্মীপূজো ছিল। ঠাকুরকে পায়েস ভোগ দিয়ে পূজো হয়ে গেলে পাশের বাড়ীর কাকীমার সাথে সুনুর মা গেলেন ফিল্ম দেখতে। ছেলে আবদার করল, "মা, আমার জন্য নৌকো পাউরুটি নিয়ে আসবে"। তাই ফেরার সময় ছেলের জন্য এল নৌকো পাউরুটি। সন্ধ্যেয় প্রাইভেট টিউটর পড়াতে আসার আগে মা তাকে নৌকো পাউরুটি আর ঠাকুরের ভোগের পায়েস খেতে দিলেন।
       টিউটরের কাছে পড়ার মাঝে সে টয়লেট যেতে চায়। ওদের টয়লেটে যেতে তিনটে সিঁড়ি উঠতে হয়। তিনটে সিঁড়ি ওঠার পর সুনু ওপর থেকে নীচে পড়ে যায়, সবাই ছুটে আসে, ও বলে কিছু হয়নি। মা ভাবেন কাঁচা পাউরুটি আর পায়েস খেয়ে পেটে গ্যাস হয়ে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে তাই একটু কার্মোজাইম খাইয়ে দেন,আর ভাল করে দেখেন কোথাও কেটে ছড়ে গেছে কিনা।না, সেসব কিছু হয়নি দেখে নিশ্চিন্ত হন মা।কিন্তু এর আধঘন্টা পরে সে বমি করে ফেলে ঘরের মধ্যেই আর এতে সে খুব লজ্জা পেয়ে যায়। মা আবারও ভাবেন গ্যাস থেকেই বমি হল। সবাই তাকে শুতে বললে সে বলে যে সে ঠিক আছে। এরপর আস্তে আস্তে সে ঝিমিয়ে যেতে থাকে। রাত প্রায় ১১টা নাগাদ ওর মুখ থেকে যখন গ্যাঁজলা বেরোয় তখন ডাক্তারের কথা সবার মনে হয়।বাড়ীর নিচেই একজন ডাক্তারের চেম্বার, যেখানে সন্ধ্যে থেকে ডাক্তারবাবু ছিলেন, রাত ১০টা নাগাদ চেম্বার বন্ধ করে চলে যান। প্রাইভেট টিউটর ওখানেই ছিলেন, এমন অবস্থায় ছেড়ে চলে যেতে পারেননি, তিনি তখন ছোটেন ডাক্তার ডাকতে। কিছুদূরে ডাক্তারবাবুর বাড়ী গিয়ে সব বললে, তিনি আক্ষেপ করেন সন্ধ্যে থেকে ওখানেই ছিলেন, আর এত পরে?তিনি নিজের মনেই বলে ওঠেন, "ইন্টারনাল হেমারেজ", আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
       এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে এমার্জেন্সীতে ডাক্তার ওকে পরীক্ষা করেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। বিলাপের মত নিজের মাথায় চাপড় মেরে বলতে থাকেন,"It's too late,too late.একটা ফুটন্ত গোলাপকে ছিঁড়ে নিয়ে এলেন?আমায় কিছু করার একটু সুযোগ দিলেন না?"বস্তুত হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথেই তার মৃত্যু হয়।


****

সিলভিয়া ঘোষ




অনুগল্প




পেশাদার

রাত প্রায় একটা হবে, শীতের রাতে একটা মানে বেশ রাত তাই বাইকটাকে জোরে চালিয়ে নিয়ে ফিরে চলেছে রাতুল তার গন্তব্যের দিকে।
আজ বেশ হাল্কা লাগছে, একটা চাপা টেনশন যে  ছিলো তা এ ক'দিন তার চালচলনে বেশ ভালোই প্রকাশ পেয়েছে, অনেক বার ধরা পড়তে পড়তে ও বেঁচে গেছে।

আজ, মাথাটার যন্ত্রণা অনেক কম। নিজের মন থেকে বলিউডি মস্তির গান, গলা দিয়ে যেন হুড়হুড়িয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে! রাতটা বেজায় ঠাণ্ডা, হাত পা অসাড় হয়ে আসছে। বাইক চালাতে চালাতে পিছনের দিনকটার কথা আরো একবার মনে করতে লাগলো সে!

দীঘা, মন্দারমণি, রায়চকের মতোন জায়গুলোতে    ছোটখাটো রিসর্ট গজিয়ে ওঠায় মানুষজনের উইকেন্ড ট্রিপটা ভালোই হয়। একথা আর কেউ না জানুক তা রাতুলের মতোন ছেলেদের জানতে বাকী নেই।  সেইজন্যই রায়চকের পর কাল আবার মন্দারমণি যেতে হবে। শেষ রাত টুকু তার নিজের বেডরুমে কাটাতে চায় সে। আজ সকালে বের হবার সময় মনে মনে রাতুল ঠিক করে নিয়েছিল কি করতে হবে তাকে ...

দুদিন ধরে অত্যন্ত চাপ নিয়েছে সে, খুব
সন্তর্পণে ছক্কাটা আজ হেঁকেছে। রাতুল রিসর্টের 9নং ঘরে যখন পৌঁছালো তখন তার চোখ বেঁধে দিয়েছে  রিসর্টের ম্যানেজার। এটাই ছিলো এখানে কাজ করার শর্ত, তাই তো টাকা টাও বেশী এখানে পাবে সে।
দেখার উপায় নেই ঘরের ভিতর কার সেবা করতে যাচ্ছে সে। দেড়দিন  চোখ বাঁধা অবস্থায় যার সেবা করেছে সে, এটুকু বুঝেছে সে নারী হয়েও যেনো পুরোটা নারী না।

চোখ বাঁধা অবস্থায় ঘরে যখন ও প্রবেশ করে তখন ওর হাত দুটো যার মুঠোর মধ্যে চলে আসে তাকে নারী ভাবতে ভয় হয় রাতুলের। তারপর এক নিমেষে ওর  ঠোঁটের উপর নীচের অংশ তার ওষ্ঠদ্বয়ের গহ্বরে প্রবেশ করে। কেমন জানি অবসন্ন লাগে রাতুলের, শরীরী খেলায় ও যেনো নিস্তেজ হয়ে আসে! আর তত বেশী আক্রমণ হতে থাকে উল্টোদিক থেকে। কিন্তু আশ্চর্য  একটাও কথা শুনতে পায়নি রাতুল এই দেড় দিনে। আরো একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছে রাতুল, একটু অন্যমনস্ক হয়ে থাকা বিপরীত দিকের মানুষটাকে চোখের দেখা দেখতে যেই না গান্ধারীর পট্টি তে হাত দিতে যাবে ঠিক তখনই দুটো সুঠাম বলিষ্ঠ হাত ওকে তার প্রশস্ত বক্ষ বিভাজিকায় খেলা করাতে নিয়ে চলে  আসে। রাতুলের কৌতূহল মেটে না, বাড়তে থাকে তার না দেখা মানুষটির প্রতি দেখবার আকাঙ্ক্ষা। বেশ দামী ওয়াইন খাইয়েছে ক্লায়েন্ট টি। আজ হাফ ডে হবার কথা ছিল কিন্তু সারা সন্ধ্যে ও ড্রিঙ্ক করেছে, প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় রাতুলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চেয়েও বিফল হয়েছে, আর সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়েছে রাতুল।

চোখের পট্টিটা খুলতেই যে চেহারা ওর কাছে ধরা পড়েছে, মনে মনে রাতুল যেনো এ রকমই একজনকে  কল্পনা করেছিলো। একজন নামজাদা প্রায় ৬ ফুট লম্বা কর্পোরেট বক্তিত্ব। তারপরে ?

কিছু ছবি তুলে নেয় রাতুল। অচেতন অবস্থায় রাতুলের সাথে তার ঘনিষ্ঠ  মুহূর্ত যার বাজার দর কম করে 25 লাখ থেকে 30 লাখ...

এরকম  দু তিনটে শাঁশালো ক্লায়েন্ট পেলে নিজের হোটেল ব্যবসাটা খুলতে বেশী সময় লাগবে  না রাতুলের...

সিলভিয়া ঘোষ