এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

স্বাতী নাথ



কবিতা




লাল মাটির দ্যেশে

লাল ধুলার দেশ ট হামার
সুখা টাঁড় ডাঙ্গা ডহর ডুংরী ঘেরা,
গতর খাটাই মানুষ গুলান
চাম ট হামার কালো পারা,
শাল পলাশের ছায়ার তলে
গাঁ ট হামার ছুটো,
লাল চাল টর মাড় ভাত খাই
সুখহেই হামরা কাটাই।
ভাদু, টুসু আর গাজন হামাদের পরব ট
মহুল রসে টুটি ভিজাই ছৌ লাচি হে আসরটয়,
সারাদিনে গতর খাইট্যে রেতের বিলা ঝুমুর গানে
মাদোলের ধিতাং ধিনা, ধামসার গুড়ুম গূম্যে
কোমর দুলাই খ্যামটা নাচে মাতাল হুঁয়ে মরদ মাইয়ে,
আঁড় বাঁশি টর সুরে সুরে পাগল হুঁয়ে মাইয়ে গুলান
এ ওর গাইয়ে ঢইলে পরে,
চাকলা তোড়ের ছাতার মেলায়
গলগলা ফুল মাথায় গুঁইজ্যে
মোঙ্গলি যখেন ঘুইরে বেড়ায়
মুনে হামার পিরীত জাইগ্যে
যখেন গান ধরে উ কোশাই লদীর হাঁটু জলে
ঘর বাঁইধবার আস ট জাইগ্যে
টেঁস ফুলের রঙ লাগাই দিব বাহার দিনে,
বিহা করি লিয়ে যাবো শহর খানে।



আলো

পিত্থিবীট কত বড় হে
           কত্ত রকম মানুষ জন
ভালোমাইনষের অভাব বড়
            তুমহি যে তার একজন
লাল পাহাড়ির ম্যায়ে আমি
             মুখ্যু সুখ্যু মানুষ আছিই
এই পাহাড় টর বাইরে আমি
              লাই জাইনতম কিছুই
চৈত ফাগুনের উদমা হাওয়ায়
               রদের ত্যাজে মাটী  খরায়
লাচে লাচে লাল ধুলাট
                 গ্যায়ে পড়ে সুহাগ জানায়
ভাদর মাসে জলের দিনে
                  ধান বুনি সারাট দিন
বাকি সময় মাটী কাটি
                   ইঁট বইয়ে দিন গুজারি
ম্যায়া মরদ নুনু বুড়হা
                  কাম ছাড়া কেউ থাকতে লারে
পান্তা ভাতে প্যাট ভরায়ে
                  টুটি ভিজাই মহুল রসে
কাইটছিল দিন এমনি ভাবই
                  বাঘমুন্ডির পাহাড় খানে
আইলে তুমি দিদিমুনি
                   জ্ঞানের আলো জ্বালাই দিতে
বইদল্যে দিল্যে সকল কিছু
                  দেখলম তুমহার চখে দুনিয়াট
কত্ত কিছু জানার আছে
                  বুঝাই দিল্যে তুমি সিট
মানুষ হামরাও ----
                   সিটাই তুমহি শিখহাই দিল্যে
মাইনব না আর চখ রাঙানী
                    বড়লোক ওই বাবুদিগের
হামরা খাইটে চাষ করি
                     আর উরা ভরে গুলা
পান্তা আমানি খ্যায়ে কাটাই
                       উদের বিলিতীর ফুয়ারা
চইলবে না আর এমনি ভাবে
                        জোর জুলুম মুদের উপর
লড়াই কইরে ছিনাই লিব
                  সকল খানের হক ট মুদের।


****

শ্রীকনা সরকার



লিমেরিক




মেয়েবেলা

আজও পড়ে আছে ইস্কুলবাড়ি,আধভাঙা বিস্কুট সাইকেল
ফুরিয়ে গিয়েছে দিন,স্মৃতি আঁকড়ে কিছু রোদেলা বিকেল।

কোলাহল থেমে আছে
হৃদয় গহনে বাঁচে

প্রথম প্রেম,মেয়েবেলা আর প্রথম ছোঁয়া ছেলেটিকে।।




শেষ বসন্তে

মেঘ জমেছে আমার শহর জুড়ে,এই অসময়ে বৃষ্টি আসবে নাকি!
বসন্ত তো দিব্যি আছে রঙিন, চলে যাবার আর কটা দিন বাকি

বৃষ্টি আমার সত্তা জুড়ে বাস
বসন্ত তো প্রেমিক বারোমাস

শ্রাবণ দিনেও বৃষ্টি ছুঁয়ে গেলে,বসন্ত কে মুঠোয় করে রাখি।।


শ্রীকনা সরকার

জন্ম ১৯৯২ সালের ১০ই ডিসেম্বর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচড়াপাড়ায়।
আত্মপ্রকাশ হয় ২০০৫ সালে 'আনন্দমেলা' তে। ভালোবাসা কবিতা-বিরিয়ানি-দার্জিলিং।
পাহাড় আর কবিতার সাথে আত্মিক সম্পর্কে জন্ম নিয়েছে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'পাহাড়ি দিনে'।
এপিজে বাংলা সাহিত্য উৎসবে অনুকবিতা প্রতিযোগিতায় সম্মানিত হয়েছেন সেরা দশ নির্বাচিত কবি হিসেবে।
কবিতার জন্য পেয়েছেন চূনি কোটাল স্মৃতি সম্মান ২০১৭।

সুস্মিতা পাল



কবিতা




অরুণিমার খুশির ফ্রেম

অরুণিমার চুলের জটে লেগে থাকে ব্যর্থতা,
অর্থকৃচ্ছতা ভর করে তার পায়ের আঙুল আর চোখের পাতায়,
তার সব আকাশচুম্বী স্বপ্নেরা বালিরূপে মেঝেতে লুটোয়।

তার আসমানি ওড়নায় কষ্টঘোলা জলের ছোপ,
আকাশের রামধনুও তার চোখে রং হারিয়ে আজ বিবর্ণ,
তার ফ্যাকাসে ঘোলাটে চোখে শতজন্মের অভিশপ্ত অভিশাপ।

ক্ষুধামান্দ্যতা তার বাধ্যতামোড়া অসুখ,
পেটও আজ সায় দিয়েছে অসুস্থতার ডাকে,
দুর্ভাগ্য রোজ রুটিনমাফিক তার চালায় বসে রোদ পোয়ায়।

দেওয়ালের আলগা পেরেকে লটকে থাকে খুশির ফ্রেম,
তার শরীরে নোংরা থাকলেও প্রিয় ফ্রেমে জমতে পায়না ঝুল,
গতবছর মহামারিতে হারানো স্বামীকে পরিস্কার করা আজ অরুণিমার রোজকার রুটিন।





অভিশপ্ত মোড়

খেয়ালি শ্রাবণ ভিজিয়েছিল বালিশ
তারই চিরায়িত ছাপ ফুটে আছে আজও
বিচ্ছেদ জয়ন্তী পালন করবে সময়, হয়তো।

দমকা প্রেম বাঁক নিয়েছিলো সেদিন চৌরাস্তার মোড়ে
সেই বেগে আমি বালি হয়েছি ও চোখে
কুন্ঠা জড়ানো বিশ্বাস গলে পড়েছিল মাটিতে।

ছিটেফোঁটা ঘৃণা আর মরচে ধরা ভরসা
গোটা গা’য় ফেলেছিল ফোঁসকা
মোড় থেকে বাঁক নেওয়ার এল ডিক্রিজারি।

নিলাম হওয়া এক পসলা আত্মসম্মান কুড়িয়ে
প্রগাঢ় যন্ত্রণা সারা গায়ে মেখে
ভগ্নস্তুপ কুড়িয়ে ফিরলেম বাড়ি।


সুস্মিতা পাল

আরিফুর রহমান



কবিতা




উচ্ছেদ

প্লট ছেড়ে
রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেল রেডি ফ্ল্যাট
যেন বা লোকাল ট্রেনের ভিড়ে-
যুবতির পাশে উঠতি যুবক

উন্নয়নের মহাসড়কে উঠেছে দেশ

অতঃপর, হাতুড়ি শাবল বুল্ডোজার...
'অল রাবিশ্'।



পরকালে

বড়ো মায়া হয়...

আমার ঝুপরিতে
কর্পোরেশনের গাড়ি তুলে দেয়া লোকগুলো
এক বিঘত সূর্য মাথায় দাঁড়িয়ে।
টগবগে ঘিলুর জোরে-
জুটবে কি সনদ ডান হাতে?

আরশের ছায়াতল থেকে সত্যি
ওদের জন্য
আমার বড়ো মায়া হয়!



প্যারোল

আমলকী পাতায় ক'ফোঁটা রাত ঘুমিয়ে ছিল। সূর্যফুল ফোটার শব্দে জেগে উঠে ঝরে গেল - শিশির। পাতা ঝরার গানে ছিল যুবকের নাম। রাজবন্দি। কুবের, আয় বাবা আয়।

বারান্দায় ভাঁড় ভরা দুধপুলি ছিল। উঠোন ভরা জ্যোৎস্না। সব চেটে পুটে খেয়ে গেছে বেহেড মাতাল। বুড়িমা কিছুই বলেনি। কতোদিন ছেলেটা বাড়ি ফেরে না, তা-ই অভিযোগের সুরে বলছিল। রাতভর। থেমেছে ভোরে। যমদূতের বিদায়ের ঠিক আগে।

বাড়ি ফিরছে যুবক। স্কয়ার ফুট জীবন থেকে মুক্তি। তার হাত-পা বাঁধা নেই আপাতত

****


আরিফুর রহমান
কবি পরিচিতিঃ
বাংলাদেশের জামালপুর জেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে জন্ম।
শূন্য দশকের কবি। পেশায় শিক্ষক।

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়



কবিতা



কথা

যাক না বেড়ে যাক
ওজনে যতখুশি
কথারা ভারি হোক
প্রতিটি দিনে দিনে
কথারা যেন হয়
বন্ধু সকলের
কথারা ভরসা হোক
আজকে অনাথের
কথারা চুম্বন
আজকে ফাগুনের
কথারা গর্জন
আওয়াজ সবখানে
অকথা কুকথা যত
ভাঙুক কম্পনে ।




তোমার সাথে

কতকাল হলো তোমার পাশাপাশি
এখনও তোমাকে বলে দিতে হয়
তুমি কোন দিকে যেতে চাও
আমি কী তোমার সাথে কখনও মিশেছি?
না কি নিজেকেই​ শুধু মেশানোর চেষ্টা করে গেছি?

এইসব ভাবতে ভাবতে চারপাশে সন্ধ্যা নেমে আসে ।


হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

ময়নাডাঙা ( আশ্রয় আপার্টমেন্ট )
পোঃ --- চুঁচুড়া. আর. এস.
জেলা --- হুগলী
পিন --- ৭১২১০২


জয়ন্ত দত্ত



কবিতা




বসন্ত গাঁথা

একটা আস্ত জীবন দেবে বলে ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে
যে প্রেমিক, তাকে তুমি ক্ষমা করে দিও ...

সারা গায়ে বসন্ত মেখে পলাশ অপেক্ষায়
নিরাভরণ শিমুল সময় চেয়ে নেয় আগামী শীতের কাছে

কথা দেয় ... ফিরবেই!!





ইলুমিনেশন

আশৈশব পুতিগন্ধময় অন্ধকার ঘরে থাকা আমার পৃথিবী। প্রায়শই হাঁসফাঁস করে একচিলতে আকাশের জন্য। চিৎকার চেঁচামেচি ঝগড়াঝাটির মাঝে খুঁজে বেড়াতাম একটু শান্তির আকাশ। একজন আঁকার মাস্টারমশাই প্রথম আমাকে বহির্বিশ্বের খবর দিলেন। শক্ত করে প্রাণপণে ধরি তাঁর হাত। সেও কচি হাতটা আঁকড়ে ধরে। ভাবনা চিন্তার জটগুলো ঘুড়ি হয়ে আকাশে পাক খেতে লাগল। সাদা কাগজ আর পেন্সিল নিয়ে পড়ার টেবিল আলো করে বসে থাকি। দেখি অন্ধকারগুলো আর আমাকে গিলে খেতে আসে না। আমি তখন একটু একটু করে অন্ধকার থেকে আলোর পথে…


*****

দীপ মন্ডল



কবিতা




আশা ও আলো

এখানে একটি দুটি তারার আলাপ--তবে অনিবার্য
মেঠোপথ ও গাবগাছ
গ্রামীণ গন্ধ ছড়ালে আমি নিচুমেঘ
সাদা ও ধূসর
আলোকস্তম্ভের উপরে এখনও গাঢ়রাত
তার নিচে হেঁটে যাচ্ছে নগরের নিয়নবাতি
চিতলহরিণের মত ভেসে যাচ্ছে একফালি মান্দ্যমেঘ
জেগে উঠছে চিরহরিৎ বন
কে ছোঁবে---
হে ঈশ্বর !

এখানে সবে শেষ হল নিশীথ
নরওয়েতে হেসে ওঠছে শসূর্য--যেন শনিবলয়
হেলছে হিলিয়াম ---কোথাও হ্রাস
আশার অনুতাপে আমরা পুড়ছি
যেভাবে সূর্য পুড়তে পুড়তে আমাদের দেয় একমুঠো আলো।



আবার ফিরবে এই আবাদে

তুমি নির্দ্বিধায় আটকে দাও--ঘুণধরা কাঠের কপাটিকা
রাতের নীলিমায় সব রং মুছে গেছে এই মাঘে
            আমি দেখি শুধু একটি কালপুরুষ
               বাতায়ন বুজে গেলে বুর্জ খলিফায়
তবুও নেমে আসে একটি নক্ষত্রাকাশ।

            খসে গেছে কত কত জীবন্ত অমূল্য নক্ষত্র
এই গগনচুম্বীর গায়ে---

আমরা এখনও দমিনি দুদন্ড
             দীনেরা দম নাও--দীর্ঘ আরও দীর্ঘ
            যতক্ষণ না বিশুদ্ধ হয় বির্দীন বাতাস
আমরা খালি পায়ে ভিড়বো না আর কোন পাথর পথে
জুতোর সুখতলা শূন্য করে
        ফিরে আসবে ওরা,গাঁও হতে ফেরারী হওয়া মানুষ
যারা তকমা পেয়েছিল নগরের নাগরিকত্বের---

আবার হবে আমরণ বিপ্লব--এই আবাদে
হয়তো সেদিন আবারও হেসে উঠবে নর্মান বোরলগ।


দীপ মন্ডল
চাকদহ,নদীয়া

মধুমিতা মজুমদার



কবিতা




সময় হলে সবই খসে পড়ে!
ঐ যে গাছের সবুজ পাতা,
সেও তো একসময়
বিবর্ণ হয়ে খসে পড়ে!
ঐ যে বিশাল অট্টালিকা,
সময় হলে ওর গা থেকেও
একটা একটা করে ইঁট পড়বে খসে!
শুধু কি তাই!
সময়েতো জীবনটাও খসে যায়!
তাইতো মনে হয়,
খসে পড়ার স্বাভাবিক নিয়ম মেনেই
সম্পর্ক ও খসে যায় মনের আকাশ থেকে!!!


উজান

অনুভূতিরা প্রকাশহীন
আবেগের গতি রুদ্ধ প্রায়
নাবিক ছাড়া তরীখানি যেন--

আশা নিয়ে বসে থাকা,তবুও--
সমুদ্রে মুক্তি অবরুদ্ধ উর্মিলার।



নিশীথপাঠ

সবাই শুধু শান্তি পেতে আসে
      বিনিময়ে কিছু অশান্তি রেখে যায়,
আরও কিছু ভাঙাচোরা তোবড়ানো উপাখ্যান--
আমি তার রেশ ধরে জর্জড়িত হই
       চাঁদটাকে পাশফিরে ঘুম পাড়িয়ে---
তারাদের সাথে খুলে বসি বই।

মধুমিতা মজুমদার

অন্তরা চ্যাটার্জী



কবিতা




ভালো থাকার গল্প

মর্মে মর্মে গাঁথা শোক গিলে
বড় হচ্ছি একটু একটু করে।
নিরীহ মেঘেরা ভালো থাকার গল্প শোনায়।
মধ্যরাতে চাঁদ পাশ ফিরে শোয়,
অন্ধকার গুমড়ে মরে আমার উঠোনে।
মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ তরোয়াল নিয়ে নেমে এসে
ঘরছাড়ার হুমকি দেয়।
নিশাচরের কপাল বেয়ে চুঁইয়ে পড়ে
বিন্দু-বিন্দু ঘাম।
হাতের পাঁচটা আঙুল
বর্তমানকে খামচে ধরে
চুপিসারে পথ হেঁটে যায়।




হিসেব নিকেশ

প্রতি মুহূর্তে বিক্রি হই
জানা-অজানা একডজন মৃত্যুর অভিমুখে।
সত্যের মাথা চিবিয়ে খায়
ধূসর মরুভূমির ক্লান্ত বালুকণা।
অভিমানের স্তর বেয়ে উঠে আসে
ভাঙাচোরা অনুভূতির কাটাছেঁড়া গল্পরা,
ভেসে বেড়ায় শুকনো চিনির দানার মতো।
প্রহর শেষে বুকের তলে নীল যন্ত্রণার
পাহাড় চেপে হিসেব কষি----
কিছু ভুল হয়ে গেলো না তো?


অন্তরা চ্যাটার্জী

পায়েল পাসোয়ান



কবিতা




অমাঙ্গলিক বাঁশির সুর

মায়াচ্ছন্ন সুর তার, মায়ায় মোহগ্রস্ততা
ডাক দেয় তার বেসামালি সুর

শীতকাতর জলের মত কম্পন জাগ্রত করে মনে

আর তার পর শুরু হয় অমঙ্গলের অভিসার-

কোনো এক পোড়োবাড়ির, ভগ্ন ইটের ধ্বংসাশেষে
আনাচে-কানাচে প্রেম মাখে সাত সুর

অবশেষে বেওয়ারিশ পদচিহ্ন আর-
ধূসর পাথরে রক্ত আলপনা।

গৃহকোনের মান ভেঙে, মূর্চ্ছা দিয়ে ঢোকে
বাঁশির সুর, অমঙ্গলের শনিও এবার আনন্দে ভাবে
নির্লিপ্তি অস্তিত্বে কামড় বসিয়ে দেওয়া যাবে।




জোৎস্না ফিরবে

ওপারের দগ্ধ-তপ্ত রৌদ্দুর হাত বাড়ায়
আকড়ে তোমায়ও পুরিয়ে দেবে বলে,

খন্ডিত তুমি দিও না বাধা
আশা রেখো জোৎস্না ফিরবে বলে

নিদারুণ কঠিন দূষিত আর্তনাদ
যতই হোক তোমার নিস্তেজ হুংকার

কালাজ্বড়ে আক্রান্ত থেকেও তুমি
শত ভাঙা আরশিতে দেখো নিজেকে
সম্পূর্ন পূর্ন করে,

ফিরিয়ে দিও জলন্ত সূর্যটাকে
মশাল মিছিল নিয়ে জোৎস্নার
চাঁদের আলোর রঙ নিয়ে তুমি
গড়ো তোমার নতুন অভিসার।



পায়েল পাসোয়ান