এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

বিজয়


বিষয় : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


যোজন বিস্তৃত যুগে নীরবতা আছে


এখন আমি কোলাহলের যৌগিক রাজপ্রাসাদে ।
ন্যাড়া রাত্রির চিত্কারে চিত্ ঘুম আসে না
দিবসের মেরুদন্ডে কোলাহল ঝুলে থাকে ।
সে তো থাকেই পৃথিবীর জন্মের গরম পিণ্ডের কোলাহলে ...
আমি ক্রমশ তরল হয়ে আসি
গলে যাবার আগেই আমাকে ফিসফিস করে নীরবতা কে ডেকে নিতে হবে ।
নীরবতার সরু প্রেমের সুপ নিতে হবে ।
কিন্তু যোজন বিস্তৃত যুগে নীরবতা আছে ।


সাহিত্য খুঁজতে যাবো

জ্যোত্স্নার আবাসনে আজ বাড়ি করলাম
জ্যান্ত আসবাব পত্র আসেনি কিরণ থেকে
সূর্যের সারথি তে এই এলো বলে ....
ঈশ্বর তোমার অরণ্যের ল্যাম্ব পোস্টের
নীচে বাগান খুলে দা ও ...
সেখানে আমার উজ্জ্বল ক্ষুদার
সাহিত্য খুঁজতে যাবো  

সাহিত্য গাছের যোনি থেকে দীর্ঘশ্বাস
নিয়ে ডাল বেরিয়ে আসে -------
আর শিকড় মহার্ঘ্য তীক্ষ্ণ ক্ষুধা নিয়ে
নীচডুব দেয় .....


বিজয়
পশ্চিম মেদিনীপুর 
9547780358



মৌসুমী ভৌমিক


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


মনের অলিন্দে

মনের অলিন্দে আধপোড়া দুখ
                সুখটানেতে দিল মশগুল
মাতাল মাতাল স্বপ্নচোরা -
                    দৃষ্টিগোচর সবই ভুল।

বোঝা বোঝা ভুলকথা
                     খাতা ভরা গদ্য
মুখোশ নিয়ে হাঁটা শুধু
                     হিসেব চায় পদ্য।

ভাবনারা হাঁটে রঙমিছিলে
                    ভুলে গেছে ছন্দ
বাউল শুধু হারায় পথ
                বাতাসে বারুদ গন্ধ।

উগ্রবাদের নিশানা তাক
            ফুৎকারে নেভে জীবন ।
বাৎসল্য চাষ কল্পনায়
           আধুনিকতায় পোড়ে মন।


প্রেম

সভ্যতার ক্যানভাসে
       প্রেম হয়েছিল।
গান্ধর্ব বিবাহ।
ভেসেছিল দুজনে
               দুজনের বাহুডোরে।

বৈধ - অবৈধ শব্দের খেলাঘরে
           প্রবেশের কথা কেউ ভাবেনি।
           ভুলেছিল বারেবারে।
বাস্তবে ফিরেছিল যেদিন
           জেনেছিল তখন
           'সোনার আংটি বাঁকা হলেও ক্ষতি নেই' ।

সভ্যতার ক্যানভাসে
                তাই শুধু মেয়েটির নরকযন্ত্রণা
মুখোশধারী নির্লজ্জ
          আপন মানুষগুলোও
                    যেন অন্য জগতের প্রাণী।

বাস্তবটা অন্য জগত
      বোধগম্য হল এতদিনে।
দীর্ঘশ্বাস প্রেমের বাতায়নে
       ফিরে যাও.......

   শুধু মুক্তি  চাই
       মুক্তি.......
  অনন্ত মুক্তি ............



বিভাগ : কবিতা পাঠ



এক মাংসপিণ্ডের মানুষ
মৌসুমী ভৌমিক 
************************

প্রচণ্ড ঘৃণায় নিজের থেকেও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছিল মেয়েটি -একদিন যে ছিল নীরা, বনলতা আরও কত আদরের নামের প্রেয়সী -
তাকেই কিনা শেফালি, গোলাপী বানানোর প্রচেষ্টার কি ঘৃণ্য তাড়না !
স্নানঘরে শাওয়ারের নীচে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে নিজের শরীরটাকে ধুয়ে ফেলতে চাইল সে।
ঘষে ঘষে শরীরটা খসখসে করেও মনে হল - এ ঘৃণা যে যাবার নয়।
মাথা মুখ ঠোঁট চিবুক কাঁধ নিতম্ব  - মেয়েটি যেন তার প্রত্যেকটি অস্থি'র ওপর থেকে
মাংসপিণ্ডগুলোকে খুবলে ফেলে দিতে চাইছিল।
এত মলিনতা সে আর কিছুতেই বহন করবে না।
আত্মগ্লানি  - পরিণতি কি আত্মহত্যা  ?
কয়েকটা দিন যেন কয়েকটা বছর --
প্রত্যেকটা মুহূর্ত যেন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম ঠেকছিল -
বাঁধভাঙা কান্না - অসহয়তা - বিবসতা -
তীব্র ঘৃণা পর্যবসিত হলো অভিশাপে।
যে শরীর -যে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কলুষিত করেছে তাকে -
মেয়েটি তার সমস্ত মনপ্রাণ, প্রত্যেকটি বলা, না বলা অক্ষর দিয়ে তার সমস্ত ঘৃণা - বিদ্বেষ দিয়ে অভিশম্পিত করলো সেই শরীরকে !
একসময় ক্লান্ত হতে হতে মনে হল - তার নিজের শরীরের কি দোষ ?
এ তো নয় তার কর্মফল - তবে নিজের প্রতি কেন এ ঘৃণা , এ বিদ্বেষ ?
সত্যানুভুতি সহায় হলো তার  -
ধীরে ধীরে সে অনুভব করলো এ শরীর একান্তই তার নিজস্ব।
কালির দাগটাকে সাবানজলে ধুয়ে নিয়ে দাঁড়িয়ে দেখার ইচ্ছে হল তার ---
সে আজ বিজয়ী, না নীরা কিংবা শেফালি কোনোটাই সে নয়।
আবেগহীন - স্থিতধী সে শুধু আজ এক মাংসপিণ্ডের মানুষ।

মৌসুমী ভৌমিক
জন্ম: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাফানগর গ্রামে। স্নেহময় পিতা মহেন্দ্র নাথ প্রামাণিক ও মাতা বুলু প্রামাণিকের ছায়ায় বেড়ে ওঠা। বর্তমানে সরকারী চাকুরীরতা। ছোটবেলা থেকে সাহিত্যানুরাগী। দুই কন্যা সন্তানের জননী, স্বামী প্রভাস ভৌমিকের উৎসাহে লেখালেখির প্রয়াসে নিয়োজিত।


অনুরূপা পালচৌধুরী


বিভাগ : কবিতা (কবিতার ল‍্যাব)


পদ্মযোনি

অ  রূপ  ন স্থানে তুমি ভা ল বাসা
পদ্মযোনি বুকরক্ত পা  ন করো

পদ (ম) য(ও) ন(ই)ঘূর্ণায়মান চক্র

ভাল  বাসা ১ ফালি সুখাসীন
তারাভেজা গন্ধ। টুপটাপ
রাম যোনিরসে ডুব দেয় নেশাতুর ধনুরাশি
পদ্মযোনি একলা পথ হাঁটো বারবার

উদ্ধার→পুনর্বাসন→মুক্তি
রাম ধনু(তে) চোখ তরল।বড্ড রঙিন। ইলুশান।    

অনুরূপা পালচৌধুরী
এম.এ (ইংলিশ অনার্স)
ডি. এল. এড পাঠরতা
রানাঘাট, নদীয়া


সুদর্শন প্রতিহার


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


কলঙ্ক

চাঁদের মতোই কলঙ্ক  লাগেছে গায়ে

পা থেকে মাথা - বাদ দেইনি কোথাও
লাগিয়েছে কালো দাগ ---
নিকষ কালো গভীরতায় ---
         --- বেড়ে চলেছে কলঙ্কের দাগ !

ঘষে-মেজে ধোয়ার চেষ্টা বহুবার
প্রতিবারে ঢেকেছি অমাবস্যার আঁধার
অশান্তি পূর্ণিমার আলোতে ---
টেনে আনে মাছের বাজারে ---
             --- শাক দিয়ে কি ঢাকা যায় !

সালের গাছ চোট খায় বাকলে
সবার চায় ধুনোর সেই মিষ্টি সুবাস
কোপ মেরে যায় প্রতিদিন ---
সেচ্ছাচারের পিপাসু ছরা ---
         --- আমি সেজে উঠি কলঙ্কের দাগে !


অসহায়-ব্যার্থতা

আকর্ষ ধরেই  ওঠার চেষ্টা
    - করেছি বহুবার,
ছিঁড়েছে বাহুডোর-পাইনি কিছুই খুঁজে
     - পড়ে আছে ছাইপাঁশ,
দু'চোখের স্বপ্নেরা, বয়েগেছে জল হয়ে
… হারিয়ে গেছে বালির চোরা স্রোতে।

গাঁইতি-কোদাল কত খোঁড়াখুড়ি!
আকাশের দিকে বসে থাকি হাত-পা ছড়িয়ে
সব হারানো মেঘলা আকাশ
… যদি, দিয়ে যায় কিছু?

দুই হাত ধরতে চায় আজও
উঠে দাঁড়াতে চায়-আমারও পরাণ
পঙ্গু শরীর আর ছেঁড়া আকর্ষ
মজবুত খুঁটি পাইনি একটাও
    অসহায়-ব্যার্থতা…!

অট্টহাস্যে ফেটে যায় কান
   … পড়ে থাকি দুমড়ে-মুচড়ে।

সুদর্শন প্রতিহার
সম্পাদক -"নব-প্রয়াস"
গ্রাম - গিলাবনী
ডাক - নোহারী
জেলা - পশ্চিম মেদিনীপুর
রাজ্য - পশ্চিমবঙ্গ
দেশ - ভারত
সূচক - ৭২১১২১
চলভাষ - +৯১৮১৫৯৯৪৪০৪৬

কবি পরিচিতি :-
****************
সুদর্শন প্রতিহার জন্ম ১৯৯১ সালের ১৯ শে নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গিলাবনী নামক একটি প্রান্তিক গ্রামে I বাবা অর্ধাংশু প্রতিহার ,একজন চাষী এবং মা কল্পনা প্রতিহার , গৃহিণী I
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা করার পর বর্তমানে ভারতীয় বায়ু সেনাতে কর্মরত ...পোস্টেড গুজরাটে I এর পাশপাশি লেখালেখি সহ "নব-প্রয়াস" নামক একটি পত্রিকার সম্পাদনা করে থাকি I মূলত কবিতা এবং অনুগল্প বেশি লেখে থাকি তবে ; গল্প ,নাটক ,প্রবন্ধ সব রকমই কমবেশি লিখে থাকি I পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলদেশের বেশকিছু পত্রিকাতে এবং কাব্যসংকলনে বহুদিন যাবত লিখছি I
লেখকের হিসাবে সংকলন - "দুশ্চিন্ত ভবিষ্যৎ" ,"নবকিরণ" ,"নবারুষ" ,"ছড়াঙ্গন" ,বংলাদেশ থেকে "সেতু" এবং প্রকাশিতব্য ... "নবারুষ ২য় খন্ড" ,"নবকিরণ ২য় খন্ড" এবং "কাতিল অথবা ঈশ্বরের চোখ" ।
সম্পাদিত প্রকাশিত কাব্যসংকলনের নাম "নব-কিরণ"এবং  "নবারুষ" এবং প্রকাশিতব্য "নবারুষ ২য় খন্ড" এবং "নবকিরণ ২য় খন্ড" । 





দেবব্রত মাইতি


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


প্রেসারকুকার


এক অদ্ভুত যাঁতাকলে
    আটকে আছে শৈশব
সারা দিনরাত
      এক্সপেকটেশনের বোঝা
          বয়ে বেড়াচ্ছে একাকী

আঁকা
      গান
            লেখাপড়া
   হতে হবে চ্যাম্পিয়ন

  আজব দুনিয়ার
  আজব র‍্যাটরেস

কম্পিটিশনের
       প্রেসারকুকারে
              দগ্ধ ছেলেবেলা
একলা খেলার মাঠ
       সবুজ ঘাসের দল
            কেঁদে চলেছে নীরবে

দেবব্রত মাইতি
নিবাস হাওড়া জেলার এক ছোট্ট কিন্তু গুরুত্মপূর্ণ জনপদ আন্দুলে। কবিতার সাথে সম্পর্ক বহুদিনের, নিজেকে কবি বলতে চাইনা, কারণ অনেককিছু শেখা বাকি আছে,  তাই আমি নিজেকে মনে করি কবিতার ছাত্র, আর সারাজীবন শিখে যেতে চাই, বেঁচে থাকতে চাই কবিতাতে


অরবিন্দ বর্মন


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


ভায়োলিন ভেজা গ্রাম
           
                         
সে যে শুভরাত্রি বলবে
তার আগে ময়নাটি
জেগে থাকা কুমকুম আর হিংসেবলয়
ঘরের মধ্যে আততায়ী রোদ ঢুকে পড়ে
এখানে আজ বিক্ষিপ্ত মেঘের কলোনিজুড়ে
বৈকাল ভরা তরুমূল
নিঝুম পাখিটির পাশে
দোলে হীরণ্ময়,দোলে ধাতস্ত হবার দিন
হাওয়ায় যেসব ভিলেন ভাঁজ পড়ে আছে
এসব ভ্রাম্যমাণ  রোষ
কত যে নীচে টলমল থেকে উঠে আসে
এমন জব্বর রঙের জল
ঠিক সেই পুরনো ঠান্ডা লেগে যাওয়া গলি
ইনফ্যাক্ট গলিটির বিষন্ন চুয়ে পড়ছে
ঘরকরা হুঁকো আর মোমের গলনাংক যতটা সাংঘাতিক হতে পারে
এইসব আলবাত নড়ে ওঠা পারাপার
আর ফাঁকা বাড়ির অনন্ত ডেকে উঠছে
হাঁপরের মতো অদ্ভূত দৃষ্টি
অথচ
কি পরিপাটি এই ভায়োলিন ভেজা গ্রাম
    ............................................. 





অনিন্দিতা ভট্টাচার্য


বিভাগ : সিনেমা আলোচনা


Sex is the emotion in motion...

          || Lipstick under the burkha ||



So why lipstick?

The deep red lipstick becomes the colour and mode of rebellion, giving the viewers a hint of what goes on inside a woman—the turmoil, the pain, the swallowed humiliation, the unshed tears, the unspoken resentment and anger.


চারটে মেয়ে চারটে গল্প সবটাই Base on their sex life. যৌনতা অপরাধ না আড়ালে আবডালে বলার মতোন ও না শুধু এটা ইণ্ডিয়া যেখানে বিয়ের পর কণ্ডোম ব্যবহার টা বিরক্তিকর লাগে সে যতই বাচ্ছা হোক আর নষ্ট হোক কিংবা জিন্স পরলে মেয়ে রা সংস্কৃতি ভুলে যায় কিংবা সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ থেকে বিয়ে টা অপ্রত্যাশিত বা বছর ৫৫ -এর বৃদ্ধা যৌনতা নিয়ে ভাবলেও পাপ।  -this is how india think about sex.

বিয়ের পর ৩ টে বাচ্ছা যদিও বর থাকে বাইরে বছর দু এক পরপর আসে তাতেও ৩টে বাচ্ছা অসংখ্য বার বাচ্ছা নষ্ট আর i-pill ভর্তি বাক্স। অবাক হলেন না? ভাবছেন কন্ডোম থাকতে এসব কেন?  বুঝলেন না? মর্দানীর ওপর একটা প্রশ্ন আসে না?  সে স্ত্রীর যাই হোক না কেন who cares at all?  তবুও সে স্ত্রীও স্বামী পরায়ণ মানতে তো হবেই।  তিনি সেলস যে তার যোগ্যতায় উচ্চপদ পেয়েছেন কাজের জায়গায় সে বলা তো দূর কাজ করেন তাই বলে ওঠার ক্ষমতাও হয় না তার অকর্মণ্য স্বামী কে।  কারণ ওই যে আত্ম-অহংকার.... বাবা সে কি সম্মান ছেলের অন্য রক্ষিতা রাখা টা গর্বের কিন্তু স্ত্রী য়ের কাজ করা টা? উঁহু।  শিক্ষা দেওয়ার উপযুক্ত শাস্তি ওই যে 'সেক্স' না না ওটা আবার অধিকার বলে। এরকমভাবেই থাকতে হয় বিয়ের পর, তাই না?

বছর ১৮ এর মেয়ে মুসলমান মানে সাচ্চা মুসলমান যাকে পা থেকে মাথা অব্ধি বুরখা পরে ঢেকে থাকতেই হবে আসলে অভিজাত পরিবার না?  জিন্সের মতো নোংরা পোশাকে তাদের জাত ধর্ম সব যাবে বই কি?  কলেজে তাল মেলাতে বা নিজের ইচ্ছে তে তাল মেলাতে ব্যাগে নিয়ে যাওয়া জিন্স পরে হাফ ছেড়ে বাঁচত। 'জিন্স কা হাক,জিনে কা হাক' শ্লোগান প্রচার করতে গিয়ে জেল ও হয়েছিল বাবা কে লুকিয়ে চুলচেরা দূরত্ব থেকে বেচেছিল। কিন্তু ভুল মানুষের প্রেমে পরে সেও একদম রসাতলে। ঠিক সময় এসে সেও হাত ছেড়ে দেয়,জানতে পারে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে আগে তার ই এক বন্ধুর শারীরিক ঘনিষ্ঠতার কারণে প্রেগন্যান্ট হয়ে যায় আর যুগোপযোগী হতে গিয়ে সদ্য হৃদয় ভেঙে মেয়েটি জেলে যায় তবে এবার শেষ রক্ষা হল না বাবা জানলো তার পর যেমন টা হয় আর কি।  বিয়ে-কলেজ বন্ধ -এর হুমকি।

sex is a common desire কিন্তু সেটা বোঝার  মতো ক্ষমতা রাখার মতো আপডেটেড সোসাইটি আমাদের নেই। তাই নিজের এক বন্ধুর সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে এই মেয়ে, বিয়ে অন্য কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তিকে করার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে তার ছিল না।  তবুও তার মায়ের কথা মতো তাকে বাধ্যতা মূলক ভাবে করতে হবে বই কি?  তাই জেদ বশত সেই পুরোনো সম্পর্ককে ভুলতে বা পিছিয়ে আসা কোনোটাই সম্ভব হয় নি তার। শেষমেষ এই রকমই দোনোমনা তে ভুগেছিল শেষ অব্ধি তাও সংসারের স্বাধ হলেও আবেগের MMS টা খলনায়ক হয়ে দাঁড়াল।

এবার আসা যাক বছর ৫৫ এর বৃদ্ধা না মানে বয়েসেই মনে কেন হবেন? আবেগ কি আর বলে কয়ে আসে?  sex is a desire not a crime কিন্তু বয়স টা ভুলে গেলে যা হয় ওই যে সেক্সুয়াল সিডাক্টিভ স্টোরি পড়ে স্বপ্নে ভাস্যমান লাস্যময়ী বৃদ্ধা।  শেষমেশ সেও আবেগে পরে 'নোংরা' কথায় লিপ্ত হয় তার বছর ২৬ এর সাঁতার শিক্ষকের সাথে।  কিন্তু তার ভুল যেভাবে ভাঙল ভরা বাজারে সেটা বেশ প্যাথেটিক ই।

তারপর এই চারজনের নিজ নিজ সমস্যা নিয়ে বেশ সারারাতের স্ট্রেস ফ্রি আড্ডা তারপর অসমাপ্ত পরিণতি....
সব মিলিয়ে পুরোটাই 'অ্যাডাল্ট ফিল্ম বেসড অন সেক্স ' তাবলে ধিক্কার জানানোর বিন্দুমাত্র জায়গা নেই শুধু বয়েস ভিত্তি তে স্বপ্ন বা ডিসায়ার।  আমি ৪ দিতাম ৫ এ অনায়াসে তবে সব টায় দুটো জিনিসের অভাব থাকায় ৩.৫ এই দাঁড়ি টানলাম।


অনিন্দিতা ভট্টাচার্য
ভালোবেসে লিখি
আদতে ইঞ্জিনিয়ার ৪ র্থ বর্ষ বি.টেক,
লেখাতে আমি নবিশ




নির্মলেন্দু কুন্ডু


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


চিরন্তনী

আনমনে যেতে যেতে
ধরে নিই হাতটাকে হাতে,
অবাধ্য আঙুল খোঁজে
চেনা কিছু আঙুলের খাঁজ৷
চুপিসারে কথা হয়,
চোখে চোখে চলে যাই দিকশূন্যপুরে৷
সম্বিত ফেরায় কোন
সং সাজা জীবনের গান৷
বয়ে চলি অনিমেষ,
অবিরত একঘেয়ে লয়ে,
তার মাঝে ওঠা-পড়া
হয়তো বা স্বাভাবিক
সনাতনী লয়ে...
অনাগত দিনগুলো শুধু জাল বোনে,
বেঁধে রাখে আমাদের চিরন্তনী কোন এক সুর...


নির্মলেন্দু কুন্ডু
সাকিন, বহরমপুর
পদক্ষেপ পত্রিকা, চুঁচুড়া'র কর্মী
কবিতা লিখি, কারণ কবিতা আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেয়


ব্রতশুদ্ধ


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


ডায়াফ্রাম

বুক ফুলিয়ে চলা ট্রাক। শহরতলীর এই বন্দিশালায় সিস্টেম ক্যাকোফনিতে বিকারগ্রস্ত সন্ধ্যা।কারো শখ ফুলদানিতে কারো রেললাইনের মেটাল শব্দে।আমি আমার খুলি টোকাই।একটা ঝিঁঝিঁ ডেকে ওঠে।ডিলিউশনের আস্কারায় আমি নিজেই ঠকে যাই প্রতি গ্রীষ্মের নাদান ঠান্ডা হাওয়ার মতো করে।স্প্লিন্ট স্পার্কল সময়ের কথা বলি চলো টফি কুয়াশার অস্পৃশ্য ডায়াফ্রেমে।

ব্রতশুদ্ধ

সম্পাদক- কারনেশন ম্যাগাজিন 

সম্পাদক-সিন্যাপস সাপ্তাহিক ব্লগজিন

ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ।


ফারজানা মণি


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


ক্যাসল

সমতল বিছানায় মুখোমুখি।ঘোড়ার ক্ষুরে জমে থাকা ইউক্যালিপটাস চোখ সহজেই মিলিয়ে যায় ঘরের প্রকল্পে।সবুজ চশমা
ব্লাউজের হুকে সমস্ত রহস্য।
খুব গোপন না হলে চুম্বক বিদ্যায় সাবমেরিন ট্যাটু মাছের পেট ছিঁড়ে
সকাল খুঁড়ে নেয় বনলতার ঠোঁট।ঝাড়বাতি নেভার পড়েও রেডিয়াম চকোলেটে অশ্লেষার ধ্বনি।

ফারজানা মণি
সম্পাদক -কারনেশন ম্যাগাজিন
সম্পাদক -সিন্যাপস সাপ্তাহিক ব্লগজিন
ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ।

সুজিত মান্না


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


ঝাউবনে অন্যরাও আসে

হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি
কিন্তু চাওয়াটা এমন
ছিল না

বাঘের থাবার মত
জীবন
চেয়েছি

কিছু চেষ্টা হারিয়ে যাওয়ার নামে...
আমিও কি ?

আমারও বারান্দা ছুঁয়ে
অসহায় হয়ে উঠেছে পেছনগতি

হয়তো অনেকেই আসে হারিয়ে যাওয়ার দলে ভিড়ে যেতে


সুজিত মান্না ।

জন্ম ২৩শে সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ ,

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের খাসবাড় নামক গ্রামে ।

এখনো নিজস্ব কোনো বই প্রকাশ হয়নি । অন্তহীন নামে একটি ওয়েবজিন সম্পাদনা করেন।

ভারত ছাড়াও আরো চারটি ভিন্ন দেশের বাংলা পত্রিকা এবং সংবাদপত্রে কবিতা প্রকাশ হয়েছে এবং নিয়মিত বেরোচ্ছে । এই মুহূর্তে ইংরেজির ছাত্র । কবিতাতেই বিচরণ বেশি । এছাড়া কিছু গল্প ও প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।




পিয়ালী সাহা


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


এ কেমন আধুনিকতা!

হলাম মডার্ন ,এসে পড়েছি নতুনের আবহে।
প্রনাম ছেড়ে শিখলাম হাই,হ্যালো,মিস ইউ।
মন  তো সেই বিজয়ার হুজুকে।

ভুলতে হয়েছে একই থালায় মেখে খাওয়া মুড়ি,
রঙ্গীন সস পারেনি রাঙাতে বেরঙ্গীন মোমো ফিশ ফিঙ্গার। তবে কি পারিনি  এখনো ?

চিনলে না তো? চিনবে কি করে? এখন তো মুখ ঢেকেছি হাবিবস এর ট্রেন্ডি হেয়ার কাটে।
মন!! সে তবু সেই রঙ্গীন ফিতের তেল চপচপে কলাবিনুনির বিকেলে।

ভুলে গেছি। কত শত মানুষের মুখ,কত বলিরেখা।
মুছে ফেলেছি হাই হিলে মেঠো রাস্তার পদ রেখা।তবুও ঠান্ডা ঘরের ঠান্ডা বাতাস নিয়ে যায় আলপথে,
শান্তির ঠিকানায়।

ইংলিশ রিংটোন,স্প্যানিশ এলার্মে ভাঙে ঘুম সযত্নে, বালিশ আঁকড়ে তবু শুনি সেই  কার্তিকের টহল।
"রাই জাগো গো........"

হয়ে গেছি মডার্ন,ভুলে গেছি সব,ছেড়ে ফেলে গেঁয়ো তকমা,শান্তিতে আছি শহুরে বাতাসে  শুধু দমবন্ধ হয় ওই গেঁয়ো হাওয়া টা না  পেলে।
পিয়ালী সাহা
A lovely daughter's mom
Home Administrator
রামচন্দ্রপুর, গুসকরা
বর্তমানে নাগপুর নিবাসী
 মনকেমনে লেখালেখি

পিয়ালী বসু


বিভাগ : কবিতা (সাধারণ বিভাগ)


মন থেকে মনান্তরে

(১)
.
আমার সামনে থাকা উঠোনটায় এই ভরন্ত দুপুরে বিন্দু বিন্দু লিনেন শব্দে জড়িয়ে রয়েছে ... মনখারাপের বাস্তুরাগ।
.
ঋতুদের বানভাসি হবার আগে প্রিয়তর যে অনুভবগুলি উড়ে আসে ,জুড়ে বসে ... সেগুলিই পরে ছত্রাকের জন্ম দেয় । যেভাবে নিঃস্বপ্ন ঘুমের মধ্যে সারি সারি ডাকবাক্স , বিলি করে গোপন বাঘনখ , ভাঙতে না পারাগুলো সেভাবেই এই মুহূর্তে আমার মধ্যে জন্ম দিচ্ছে এক অলৌকিক স্নানদৃশ্যের ।
.
আমার শরীর ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছে প্রবাসী প্রেমের চূর্ণ আলোকণা । ঝিমন্ত সন্ধেয় ... যাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে , ক্রমিক দৃশ্যমান সিল্যুয়েট রচনা করি আমি ।
.
গত একমাস ধরে একটি লেখাও লিখতে না পারার ব্যর্থতার মাঝে , দ্বিধার নিকোটিন নিয়ে, তুমিও কি আমার কথা ভাবছো ? অন্যের প্রেমিকা কে কামনা করার অভ্যাসটা , দেশলাই জ্বালিয়ে এই উঠোনটার সামনেই শুরু করেছিলে তুমি ... সেও কয়েক দশক আগে ।
.
ক্ষণলগ্ন এই সময়টায় , বড় অসহায় মনে হয় নিজেকে । আচ্ছা ... আমিও কি ক্রমশ পোড়া গন্ধ হয়ে উঠছি ? তোমাকে ভালবাসার পর , প্রথম অনুভব করেছিলাম ... শব্দের উৎসবে আসলে নিবিষ্ট অতীত সুপ্ত থাকে , যার ধাক্কা সময়ের সাথে সাথে , তীব্র থেকে তীব্রতর হয় ।
.
আকাশের পশ্চিম দিকে আটকে থাকা ফ্যাকাশে আলোর গুমোট , চলতা ওঠা এই ঘরটায় ঢোকে না তেমন । একটু পুরনো হলে কিছু কিছু ক্ষত , সৃষ্টিতে বাড়ে বলে , তাদের যথাসম্ভব বাঁচিয়ে চলি । দশক পেরনো সম্পর্কে অযাচিত মায়া , ক্লান্তিকর অসুখ ডেকে আনে ।
.
অফুরন্ত মেয়েবেলায় , বইয়ের র‍্যাকজুড়ে আমিও জমা করে রাখতাম ঠাসাঠাসি জ্যোৎস্না । বিছিয়ে বসতাম রোদ মাস্তুল । এখন অবশ্য গল্প জমে চোখের পাতায় , আলতো চিবুক জুড়ে ।
.
.
(২)
.
এখন স্মৃতিপাতা ঝরার সময় । আজ রাতে আমার মৃত্যু হলে , কতদিন পরে
তোমার কাছে সেই সংবাদ পৌঁছবে কখনোই তা জানতে পারবো না আমি । সম্পর্কের নিরাকার অবয়বে অভ্যাসের সুতো খুলে গেলে , হয়তো বা এমনই স্পষ্টতর হয় কথার কোলাজ - বলিরেখা।
.
তুমিই তো বলেছিলে , 'এগিয়ে চলো ' , শক্ত আশ্বাসের মোহজাল ভেদ করে আমিও পা বাড়িয়েছিলাম অজ্ঞাত সেই গন্তব্যের দিকে , যেখান থেকে ফিরে আসে না কেউ । চূড়ান্ত শব্দের অবুঝপনায় হয়তো বা কিছুটা আহ্লাদী আব্দার লেগে ছিল , আর তাই ... অন্য একটি প্রস্তাবনার দিকে এগোতে কিছুটা বেশী সময় নিয়েছিলাম আমি ।
.
আমাদের বাড়ির পাঁচিলের গায়ে এলিয়ে পড়ে থাকা আগাছার জঙ্গলঘেরা সেই জমিটার কথা মনে পড়ে তোমার ? যার ঠিক পাশে আশ্বিনের পড়ন্ত রোদে আমায় জাপটে ধরেছিলে তুমি । ধূসর-বাদামি ঔদাসিন্যে ভরা শরীরটা কেঁপে উঠেছিলো তোমার পৌরুষ স্পর্শে । সেদিনের পর থেকে বিভাজিকা এঁকে রেখেছিলে তুমি আমার শরীরে ।
.
আজ বিকেলের স্রোতে অনেকগুলি মাইল পেরনোর পর ,শরীরের মিঠাস'ও ফেলে আসা ভালবাসা খুঁটে খেতে দ্বিধা বোধ করে , তবুও তুমি এসো । বিকেলের লাজুক মেঘে লেখা হোক আমাদের গোপন ইচ্ছেগুলো । আমরা বিশ্বাসে বিশ্বাস ' মিশিয়ে বাঁচি ... নিজেদের মতো ।
.
লিখে রাখো । শব্দের আগে এবং পরে থাকা নীরবতা আদুরে মায়ার যে চিরল আলো ' রচনা করে , তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিথ্যে । ভেসে যাওয়াটাই আসল , তাই ক্রসরোডে কোনদিন যদি দেখা হয় আমাদের , আমি কিন্তু চিনবো না তোমায় , পোস্টকার্ড-স্ক্র্যাপবুকের মৌসুমে সেদিন লেখা হবে ' We are strangers'
.
আমি ফিরে আসবো চেনা আস্তানায় , নমিত দালানের পাশ দিয়ে গুণে গুণে বারো পা মেপে । জল খাবো , আলো জ্বালবো । ঠোঁটের কোণে খেলে যাবে আলতো হাসি । বৃত্তপথ অতিক্রম করে খুব সহজেই পৌঁছে যাবো মরচে ধরা লোহার গেটটার সামনে । কোনদিকে পরোয়া না করে ঢুকে যাবো একতলার দক্ষিণমুখো ঘরটায় ।
.
আমাদের শরীরের ঘনিষ্ঠ ব্রীজে সেদিন সন্ধে ঘনাবে ... নভেম্বর রেনের ভেজা ক্লোকে । 


পিয়ালী বসু
পিয়ালী বসুর জন্ম ১১ ই নভেম্বর দক্ষিণ কোলকাতার এক সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারে ।  বাবা প্রয়াত প্রসূন বসু ছিলেন সাহিত্য / প্রকাশনা ও রাজনৈতিক জগতে এক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ।
২০১২ সালে এক কবি বন্ধুর সাথে ১০০টাকা বাজি ধরে কবিতা লেখার শুরু করেন পিয়ালী । এখন বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। পাঠকদের কথায় ... " নিজস্ব এক কাব্য ঘরানা তৈরি করেছেন এ কবি । "  প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চার।  এই মাসেই প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন ' শব্দঋণ ও ম্যাভিক অবসন্নতা ' ।
পিয়ালী পড়াশোনা করেছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে  কর্মসূত্রে আয়ারল্যাণ্ডের ডাবলিনে স্থিত ।