এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

নাসির ওয়াদেন


কবিতা : সাধারণ বিভাগ


আমার আমি কে

বৃষ্টি আমার তৃষ্ণার ঘটি হাতে দাঁড়িয়ে
বর্ষাতি অপেক্ষা করে জন্মদিনের গন্ধে

বাসাখানি মাথা তুলে খোঁজে ছানাদের
পাখি কখন ফিরে আসে
কখন ফিরবে সন্ধ্যা পেঁচার উঠোনে ---

পদধূলি ধন্য তোমার চরণ ছোঁয়ায়••••

আমার ভেতরের আমি কে
আকুল হৃদয়ে  
খোঁজে শূন্য দেওয়াল  

কুয়াশা মেশানো হেমন্ত বায়ুর সকাল
ছায়া ছিঁড়ে বসন্তের কোকিল ডাকে

কী সৌহার্দ্য নিয়ে বেঁচে থাকে মাটি ?
উত্তাপে আগুন গলে গলে জল
আমার উজ্জ্বীবিত স্কন্ধে আমি'র খোঁজে
পালাগান শোনাচ্ছে ভোরের পাখিরা

পাখি আর আলো মিশে আছে আমার শরীরে
আমি কি আমি হতে পেরেছি কখনও ---


দ্যুতির জলে ভিজাচ্ছি

দ্যুতি কিছুতেই ছাড়ে না আমাদের
ওকে কিছুটা কড়া রোদে
একটু ভেজে নিতে
জিরিয়ে নিচ্ছে সুশীতল ছায়া

মায়া তোমাদের কানে কানে
কী বলবেন ?
খুনির হাতে রক্তদাগ নেই

ভেতরের শ্বাসতন্ত্রে রক্ত জমে থাকা
ভদ্রতার শ্রেণিকে বিন্যাস করো না ••••

জোরে জোরে হাওয়া হলে কষ্ট পাই ফুল

বুকে জড়িয়ে থাকা আমার ইচ্ছে
দ্যুতির সোনাজলে ভিজিয়ে নিচ্ছি
ইচ্ছে করলে তুমিও দাঁড়াও নিমরাজি ছায়ায়--


■   ধর্মযুদ্ধ   ■

যুদ্ধটা বেশ জমে গেছে দেখছি রে  
মাথা নেড়ে জানিয়ে দেয় নীলপরাগ
চারিদিকে মৃতের ছবি আঁকছি যে
তুলিতে তুলিতে লেখা লাল রক্তদাগ

কাঙাল চাঁদ খোলস ছাড়ে সংঘাতে
বুকের ভেতর বাজে দামামা দুন্দুভি
শত নারীর সিঁদুর মুছে যেই হাতে
তার বিরুদ্ধেও আগুনযুদ্ধ, লালছবি

পুবের বাতাস আনছে পচা গন্ধ লাশ
কালি-কলমে চলছে শুধু আঁকাজোকা
বিশ্বাসের ভাঙা গড়া খেলায় অবিশ্বাস     
মরা-বাঁচা পাপড়ি পাতার ফুল শোঁকা

ধর্মাধর্মে চলছে চুলোচুলি, হানাহানি
বাতাস হাঁটে জল্পনার ক্ষীণ কল্পনায়
কোন জাতের কে,দড়ি নিয়ে টানাটানি
করছে মানুষ, মরছে আশার যন্ত্রণায়.

কথা বলা বারণ তোদের, বলবি না
সুখকপালে জাহান্নামের সোহাগ চাঁদ
দাঁড়াবি কোথা,উন্নতির ঝড় সইছে না ,
হাত-পা ভেঙে গুড়িয়ে দেব মাথার ছাদ

কালকে ছিলাম প্রতিবাদী যার লাগি
পেয়ে গেছি তখত্ তাউস,চলছে বেশ
প্রতিশ্রুতি যাও ভুলে মনভোলা ডুগডুগি  
গায়ের জোরে করব একটা শূন্যদেশ•••

ধর্ম হলো শুভ্র কেশ,বিশ্বাসে মন ভরে   
মানুষ কেন চাইছে কাজ ,খুদ খেতে  
গা-গতরে খাটবি শুধুই পোড়া সংসারে
যুদ্ধ বাঁধলে কাজ হারাবে সব হাতে

ধর্ম মানে না? মস্ত কাফের,ঘোর পাপী
শয়তানকেও আসতে হয় বেহেস্ত হতে
পরকালের সুখকথা জানে না, জ্ঞানপাপী
বন্দোবস্ত আছে সবই ফেরদাউস্ জান্নাতে

ধর্ম এক মহান ব্রত শ্রেষ্ঠ এবং মাঙ্গলিক
ফেরাও কেন মুখখানা গরীবের দিক থেকে
মানুষই কি দেবতা,না বিমূর্ত বা সাঙ্কেতিক  
ঠিক হয়ে যায় আম-জনতার ওই উৎসুকে

মানুষই এনেছে ধর্ম কিতাব, ধর্মকল
শেকল ছিঁড়ে মানবতার ভাঙছে হাত
জীবন গাঙের বাষ্পে ভরা মেঘেরদল
বৃষ্টি-ঝড়ে আর অশ্রুপাতে কাটছে রাত

ধর্মযুদ্ধ চলুক আপন মনের হৃদ্ মাঝে
পরধর্মে সহিষ্ণুতা মানবসেবা মূল কথা
সমানাধিকার পাপড়িফোটা সুর বাজে  
নবীন সূর্য প্রভাত আলোয় দেয় বারতা

ভালবাসা আকাশভরা ওই মেঘতারা
যুদ্ধ হোক শুধুই অহমিকার বিরুদ্ধে
হাত মিলিয়ে ঘাড় উঁচু কর সব তোরা
রাতজাগা ভোর বইছে বাতাস বিশুদ্ধে

একটি গ্রাম পুরুষ শূন্য এক শ্মশানঘাট
নারীর সম্ভ্রম লুণ্ঠিত হয় যে প্রতিদিন
বিবেককে তুই প্রশ্ন কর,দুষ্টুমির তীব্রঘাত
কেন রাত এখনও অন্ধকারে ভাষাহীন?

ভাবছে ওরা তুই গাঁয়ের মেয়ে নষ্টারে
শাখা সিঁদুরে স্বামীর আয়ু বাড়ে ঠিক
মিথ্যে স্তোকে ভুলিয়ে রাখিস মনটারে
লোভী পোড়ায় শরীর ছায়া অত্যধিক

এই পৃথিবী হাসবে আবার ওই মন খুলে
নইলে মৃতা বাঁচবে বল কোন আশায়?
দয়াধর্ম মরে গেছে দুর্ভাষে,আর কূটচালে
মানবতাও ধ্বংস ,বাঁচা তোর ভালবাসায়

সত্যকথা বললেই দিতে হচ্ছে জীবনবলী
এই বারতা শুনছি খেয়াল-রাজার রাজত্বে
কী খাবে আর কী খাবে না, আমি দিই বলি
ফ্রিজে কী রাখবে তা জানাও এই মুহূর্তে

জানলো না কী খাদ্য ছিল সেই ভাঁড়ারে
জীবন দিয়েই দিচ্ছে প্রমাণ প্রকাশ্যে
মানুষ থেকে পশুই শ্রেয়,জাতের বিচারে
চলছে অবমাননা, মৃত্যু, ফাঁসি সহাস্যে   

যে ছেলেটি হারিয়ে যায়,পায়না কেউ
নিচু জাতের কপালে জোটে শোক-ছায়া
নীলাকাশে কালোমেঘে অনাচারের ঢেউ
অকাল বৃষ্টি ঝরছে চারদিকে,কী প্রচ্ছায়া

ধর্ম দিয়ে ভাগ কর না, ধর্মবাসা সব মনেই
জাত পিরিতে ভেদ ভুলে যা ন্যায়নীতি আচারে কে বিদেশি, কে দেশি থাক না মনে গোপনেই
ঘোর পাপীতে দেশ ছেয়েছে,যা চলে যা গাঁ ছেড়ে

ধর্মমেঘে বৃষ্টি ঝরে, সোনার জলে গা ভিজে
শাকাহারী হয়ে মানুষ মাংস খাওয়া দে ছেড়ে  
ধর্মকর্মেই কাটুক জীবন মচ্ছবে,ভুরিভোজে
রক্ত, জীবন দাওরে শুধু দেশের দশের উদ্ধারে  

প্রকৃতির এই অঢেল মণি,মুক্তো ও হীরের ধন
ফুলে ফলে নদী জলে বনের যত পশুর দল
হরেক রকম ছলাকলা, দেশে দেশেই উন্নয়ন
বাড়ছে শিশু সোনারদেশে,বিকলাঙ্গ অবিকল

গ্রামছায়া পথ নিয়ন আলো ,রূপে শহর হাসে রে
ছলকলা,কপটতায় ধ্বংস ধরা, সাধের ক্ষেত আউল,বাউল,মুর্শেদীগান,পদাবলীগীত ভাসে রে
চারিদিকে যাচ্ছে শোনা অমঙ্গলের আদিখ্যেত  -

ধর্মযুদ্ধ চালাও মনে, লাগাম কষো লিপ্সাতে মিথ্যা ছাড়ি সত্য-বাতি জ্বালাও মনের অঙ্গনে
জয়পরাজয়,মন্দভালো,মরছে যে জাত সংঘাতে
ভালবাসার জাল বিছিয়ে বাঁধো প্রেম-বন্ধনে

ধর্মকে যারা বর্ম করে কুৎসা রটায় দুর্বলের
রাজলক্ষ্মী'দেশ ছেড়ে যায়,হয়ে সে ভিনদেশী
ফেরাও ওকে ভালবেসে,স্বভাবটা যে শার্দুলের
হিন্দু মুসলিম জাত ভুলে,হই না সবাই বিশ্বাসী

হিংসা যখন মূল হয়,ঘৃণা তখনই আসে কাছে
তাতেই করে বাজিমাত সংখ্যাগুরুর দলবলে
রাষ্ট্রে বসত পাবে না আর সংখ্যালঘু যে আছে
দ্বিতীয় নাগরিক,মারছি লাভজিহাদের ঢেউ তুলে

চুপটি থাকো বেশি কথা এখন বলা তোর বারণ শুনতে হবে,নইলে যাও পদ্মা সিন্ধুর ওইপারে
যেতে হবে জাহান্নামে,অনিষ্টের তোরা মূলকারণ
দেশমাতা কেঁদে ওঠে ,ম্লেচ্ছতে নাকি দেশ ভরে--

হে দেশ আমার, মাতৃভূমি, কে সতী,কে অসতী
পরখ করে দেখেনা কেউ,বাকচাতুর্যে প্রবলগতি,
মানুষ হয়েই মানুষ হও,সূর্য শপথ নাও তুলে
মানবতার ঘণ্টা বাজাও দ্বন্দ্ব দ্বিধা সব ভুলে

নাসির ওয়াদেন
কবি পরিচিতি 
নাসির ওয়াদেন মুলত একজন কবি ।জন্ম ১৯৫৯ সালে ২৩ শেজুলাই । পিতা আফসার আলী, মাতা লতিফুন নেসা বিবি ।বীরভূম জেলার মুরারই থানার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্ম ।সত্তরের দশকে " মশাল " পত্রিকাতে প্রথম কবিতা  ' আমরা বাঙালি ' প্রকাশিত হয়েছে ।একসময়ে কলকাতা সহ মফস্বলের বিভিন্ন পত্র পত্রিকাতে সাংবাদিকতা করেন ।বর্তমানে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত ।প্রকাশিত দুখানি কাব্য গ্রন্থ ও একখানি গল্প গ্রন্থ ।২০১২সালে গল্প গ্রন্থ  " অথবা অন্য পৃথিবী  " কাঞ্চীদেশ সাহিত্য পুরস্কার লাভ করে । শতাধিক পত্র পত্রিকাতে লেখা প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে ।এমাসেই তৃতীয় কবিতার বই প্রকাশ হবে ।
কবি বিজ্ঞান মনষ্ক ও বিজ্ঞানকর্মী । বাস্তবের সাথে যাদু -বাস্তববাদের  কবিতা লিখতে পছন্দ করেন ।স্ত্রী, এক কন্যা ও একপুত্র বর্তমান । মানুষের প্রতি ভালবাসায় বিশ্বাসী ।




ঠিকানা  (ক্যুরিয়ার )
নাসির ওয়াদেন 
প্রযত্নে সৌম্য জেরক্স স্টেশন রোড 
পোস্ট   মুরারই  /731219
জেলা  বীরভূম 
ফোন  8926625921
পেশা   শিক্ষকতা


1 comment:

  1. অকৃত্রিম ভালবাসা ।

    ReplyDelete