এখন তরঙ্গ তে লেখা পাঠান প্রতিমাসের ৫ থেকে ২০ তারিখ অবধি

অরিন্দম মিদ্যা


কবিতা : সাধারণ বিভাগ



সকালের রোদ, গরিবের চাদর

বেসতো!
      চামড়ার জ্যাকেট গায়ে দিয়ে
               উদাসী প্রেমের গান ধরো
তোমার নাকি প্রিয় ঋতু শীতকাল।

রাস্তায় হাটতে হাটতে
          কখনও কি চোখ যায়নি
                 আশ্রয়হীনদের আশ্রয় ফূটপাত!
টিভিতে যত সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা দেখ, 
ওগুলোই ওদেরই গায়ের তাপ।

হাফ প্যান্ট আর ফতুয়া গেঞ্জি পরা
         ছোট্ট ছেলাটা যখন কাঁপা কাঁপা হাতে চা ধরায়
                        কোন এক ষ্টেশনে।
যখন সে ১০টাকার নোট নিয়ে ৫টাকা ফেরৎ দেয়
তখনও কি অনুভব করনি পাঁচ টাকার শীতলতা!
নাকি চোখ লাল করে- আগুন চা চাওয়া হয়!!

তুমি যখন বদ্ধ ঘরের লেপের তলায়
         ওরা তখন ছাউনি ছাড়া, মুক্ত হাওয়ায়।
তুমি যখন চাও দীর্ঘ শীতের রাতটা আরও দীর্ঘ হোক,
ওরা তখন কাঁপতে কাঁপতে অপেক্ষা করে- ভোরের আলোকে।
সকালের রোদ, গরিবের চাদর।।

******


অণুগল্প


আশার-আলো

নিমেষে বাস স্ট্যান্ডের ভীড় কাটিয়ে, রাস্তা পেরিয়ে নিজেকে লুকিয়ে ফেলল সুদীপ। দূর থেকে উঁকি মেরে খানিকটা ভয় আর লজ্জা নিয়ে তাকাল বাস স্ট্যান্ডের দিকে। প্যান্ট-শাট পরে দাঁড়িয়ে আছে মলয়, হাত ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছে আর, বার বার এদিক ওদিক চোখ চালাচ্ছে।
      রাস্তার ওপাসে সুদীপ ভাবে এই বুঝি মলয়ের দৃষ্টি তার উপর পড়ল। তাই সে নিজেকে আরও ঢাকা দেওয়ার জন্য দ্রুত পরের গলিটার দিকে পা চালাল। এই চটি নিয়ে দ্রুত চলাও যায় না,পা পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে চলতে হয় নইলে চটির ফিতে বেরিয়ে আসার খুব ভয় থাকে। কোনরকমে পরের গলিতে গিয়ে মলয়ের নাগালের বাইরে বেরিয়ে কিছুটা নিচিন্ত হল। এইটকু হাঁটাই তার অনেকটা পরিশ্রম বোধ লাগল। প্রবল দুর্বলতায় শরীরটাকে হেলিয়ে দিল একটা প্রাচীরের দেওয়ালে, চরম গ্লানিতে মাথাটা নুইয়ে এল তার।
      মাথা তুলতে সুদীপ দেখল, সারা শহর বুঝি তাকে দেখে হাসছে,এক পৃথিবী লজ্জায় নিজের বুকে ছুরি বিঁধতে ইচ্ছে হল তার।
      দুম করে কারখানার কাজটা চলে যাওয়ায়,এই পাঁচ-মাসে এই অবস্থা তার। মুদির দোকানে আর ধার দেবে না জানিয়ে দিয়েছে শোভনাকে, এতসবের মধ্যে ছেলে সুমিতের রোগের পিছনে শোভনার হাতের একমাত্র গয়নাটাও গেল। মলয়কে তিন মাসের সুদ-সহ দু'হাজার টাকা দেওয়া তো স্বপ্ন এখন তার কাছে। পালানো ছাড়া আর কোন পথ নেই। কত জায়গায়, কত জনকে বলে'কয়েও একটা কাজের জোগাড় করতে পারল না, নিজেকে ধিক্কার দিল সে।
      হঠাৎ দূরে চোখ পড়ল মলয়ের, একটা  নয়-দশ বছরের ছেলে "পাঁচ টাকা-দশ টাকা" বলে হাঁকছে, তার এক হাতে কয়েকটা ধূপ প্যাকেট, কাঁধে একটা ব্যাগ আর,কয়েয়টা নোট অন্য হাতটার আঁঙ্গুলে গোঁজানো। এক-দৃষ্টে মলয় তাকিয়ে আছে ছেলেটির দিকে।
       ছেলেটি তাকে পেরিয়ে চলে গেল। ছেলেটিকে আর দেখাই যাচ্ছে না দূরে লোকজনের ভীড়ে মিসে গেছে। কিন্তু মলয় তখনও শুনতে পাচ্ছে ছেলেটি কাঁচা কন্ঠে এখনো তার কানের কাছে বলছে "পাঁচ টাকা- দশ টাকা"। হালকা হাসির ছায়ায় মলয়ের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

চিত্রাঙ্কন




******
অরিন্দম মিদ্যা
থানা-খেজুরী, জেলা -পূর্বমেদিনীপুরী।
mob-8348058870

1 comment:

  1. এই গুনটাও জানলাম কবি বেশ ভালো।

    ReplyDelete